বড়পুকুরিয়া কয়লা খনিতে কর্মচারী-শ্রমিক সংকট
স্টাফ রিপোর্টার, দিনাজপুর
প্রকাশ : ২৬ মার্চ ২০১৩, ২২:৪৭
দেশের একমাত্র উত্পাদনশীল দিনাজপুরের বড়পুকুরিয়া কয়লা খনিতে চরমভাবে শ্রমিক-কর্মচারী সংকট হলেও কর্তৃপক্ষের কোনো উদ্যোগ নেই। এ কয়লা খনির কার্যক্রমের শুরু থেকেই ১৩৮৩ জন শ্রমিক-কর্মচারীর পদ শূন্য রয়েছে। কোম্পানির ২৬৭৫ জন শ্রমিক-কর্মচারীর প্রয়োজন হলেও কর্মরত আছে স্থায়ীভাবে ৪৫ জন ও অস্থায়ীভাবে তৃতীয় পক্ষের অধীনে কর্মচারী ১৪৭ জন এবং চীনা ঠিকাদারী কোম্পানির অধীনে অস্থায়ীভাবে ১১০০ জন কর্মরত আছেন। প্রতিষ্ঠানটি লাভজনক হলেও বিভিন্ন সময়ে শ্রমিক সংকটের কারণে উত্পাদন ব্যাহত হয় বলে নাম প্রকাশ না করার শর্তে খনিতে কর্মরতরা জানান। এছাড়াও দ্বিতীয় পর্যায়ের কয়লা উত্পাদন শুরু হলে এ সংকট আরো বাড়বে বলে জানা যায়।
কয়লা খনি অফিস সূত্রে জানা গেছে, ১৯৯৪ সালে দেশের একমাত্র উত্পাদনশীল কয়লা খনি বড়পুকুরিয়া কোল মাইন কোম্পানি লিমিটেডের যাত্রা শুরু হলেও ২০০০ সাল থেকে উত্পাদন শুরু হয়। ওই সময় মাত্র ৪৫ জন শ্রমিক-কর্মচারীকে স্থায়ী নিয়োগ দিয়ে বাকি শ্রমিক-কর্মচারীর মধ্যে কোম্পানির প্রয়োজনে তৃতীয় পক্ষের অধীনে ১৪৭ জন শ্রমিক-কর্মচারী নিয়োগ দেয়া হয়েছে ও ঠিকাদারী প্রতিষ্ঠান চীনা মাইনিং কোম্পানি আরএমসি’র অধীনে ভূগর্ভে ১১০০ জন শ্রমিক-কর্মচারীকে নিয়োগ দিয়ে উত্পাদন শুরু করে। এরপর দীর্ঘদিন অতিবাহিত হলেও এখন পর্যন্ত কোন শ্রমিক-কর্মচারীকে নিয়োগ দেয়া হয়নি। এদিকে দেশের প্রথম শ্রেণির সংরক্ষিত এলাকা হিসাবে ২২৩ জন সিকিউরিটি গার্ডের পদ থাকলেও একজনকেও এ পদে নিয়োগ দেয়া হয়নি। সাময়িকভাবে নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে তৃতীয় পক্ষের অধীনে মাত্র ৬৫ জন অস্থায়ী সিকিউরিটি গার্ড নিয়োগ দিয়ে কোনরকমভাবে খনি এলাকার নিরাপত্তা দেয়া হচ্ছে বলে খনিতে কর্মরতরা জানিয়েছেন।
কয়লা খনিতে ১৩৮৩ জন শ্রমিক-কর্মচারীর পদ শূন্য বিষয়ে এই প্রতিবেদক কর্তৃপক্ষের সঙ্গে যোগাযোগ করলে কোম্পানির ব্যবস্থাপনা পরিচালক প্রকৌশলী কামরুজ্জামান দেশের বাইরে থাকায় অন্য কোন কর্মকর্তা মতামত দিতে রাজি হয়নি। বড়পুকুরিয়া শ্রমিক-কর্মচারী ইউনিয়নের সভাপতি আবুল কাশেম শিকদার বলেন, কোম্পানির স্বার্থে শ্রমিক-কর্মচারীর শূন্য পদে নিয়োগ দেয়া একান্ত প্রয়োজন। সেই সাথে শ্রমিক-কর্মচারীর সংখ্যা আরও বাড়ানো দরকার। বর্তমানে যারা তৃতীয় পক্ষের অধীনে কর্মরত আছেন তারা সকলেই দক্ষ শ্রমিক-কর্মচারী। তাদের নিয়োগও স্থায়ী করতে হবে।