পাঁচ প্রশ্ন

মেহরিন

একজন গুণী সংগীতশিল্পী হিসেবেই জনপ্রিয় তিনি। জনপ্রিয় অনেক গানসহ দেশ বা বিদেশে সমানে স্টেজ পারফর্ম করে মাতিয়েছেন শ্রোতাদের মন। এরইমধ্যে তিনি শেষ করলেন নিজের দুটি আন্তর্জাতিক অ্যালবামের কাজ। যেখানে তিনি কাজ করেছেন ফরাসি ও শ্রীলঙ্কান সংগীত পরিচালকের সাথে। এ ছাড়া দেশ বা দেশের বাইরে উল্লেখ্যযোগ্য কয়েকটি সংগীতবিষয়ক রিয়েলিটি শোতে বিচারকের আসন করেছেন অলঙ্কৃত। সুকণ্ঠী এই গায়িকার ক্যারিয়ারের প্রতিটি অধ্যায়ও বেশ বর্ণাঢ্য। এই গুণী শিল্পী এবার মুখোমুখি হয়েছেন আমাদের পাঁচ প্রশ্নের। সাক্ষাত্কারটি নিয়েছেন রিয়াদ খন্দকার কেমন যাচ্ছে আপনার সময়টা? আমি সৃষ্টিকর্তায় অগাধ বিশ্বাসী একজন। জীবনের পুরোটা সময়ই সৃষ্টিকর্তার দান। তাই জীবনের প্রতিটি ক্ষণ নিয়েই আমি সন্তুষ্ট। প্রতিটি সময়, পরিবেশ, প্রেক্ষাপট আমার জন্য সব সময়ই ভালো ছিল এবং আছে। বরাবরই আমি পজেটিভ চিন্তা করি, পজেটিভ জীবনযাপনের চর্চা করি। তবে কাজের ক্ষেত্রে গতানুগতিকতার চর্চাটা কখনও করিনি। সব সময় আমি চেষ্টা করি, কাজের ক্ষেত্রে নতুনত্ব রাখতে। সৃষ্টিকর্তার কাছে আমি কৃতজ্ঞ যে তিনি আমাকে এই সক্ষমতা দান করেছেন। বর্তমানে ব্যস্ততা কী নিয়ে? আমি আসলে বরাবরই নিজেকে দেখতে চেয়েছি ভালো কাজের একজন গায়িকা হিসেবে। শ্রোতারা আমাকে সেভাবেই গ্রহণ করেছে। তাই আমি কাজ করি অনেকটা বেছে বেছে। বরাবরই নিজের কাজটি নিজের মতো করে ফুটিয়ে তোলাটাই ছিল আমার কাছে মুখ্য বিষয়। এ ক্ষেত্রে কখনোই কোনো আপস আমি করিনি। বর্তমানে লাইভ শো এবং নিজস্ব গান নিয়ে ব্যস্ততা একটু বেশি যাচ্ছে। এ ছাড়া শুরু হতে যাওয়া সংগীতবিষয়ক রিয়েলেটি শো ‘বাংলাদেশি আইডল’-এর বিচারকের দায়িত্ব পালন করছি। নতুনদের সম্পর্কে আপনার মূল্যায়ন জানতে চাই। নতুনের আগমন মানে সুবাতাস, নতুন প্রাণ প্রাচুর্যতায় ভরা। নতুন দিনের ডাক দিয়েই তারা পথে নামে সে ক্ষেত্রে তাদের কাছে পুরাতনদের চাওয়াটা একটু বেশিই থাকবে। পুরাতনদের কাছে নতুনরা সব সময়ই বড় আদরের, তাদের চলার পথকে আরও সুগম করতেই পুরাতনরা কাজ করে যায়। তবে আমার মতে নতুনদের কাছ থেকেও আমাদের অনেক কিছু শেখার আছে। তাদের আমি সাদরে গ্রহণ করি। নতুনদের প্রতি আপনার পরামর্শ জানতে চাই। নতুন মানেই ঝড়ো হাওয়া। তার তীব্রতা তার প্রাঞ্জলতা সব সময়ই সুন্দর। আমাদের বরং উচিত সেই নতুন প্রাণগুলোকে সহজভাবে বিকাশিত হতে দেওয়া। তবে নতুনদের মাঝে একটু বেশি চঞ্চলতা রয়েছে, যেকোনো কাজ শেষ করার তাড়াটা তাদের মাঝে বেশি দেখা যায়। সে ক্ষেত্রে একটু ধীরস্থির হওয়া প্রয়োজন। নিজের মাঝে মেধা এবং মনন থাকলে অবশ্যই সে কাজ দ্রুত হবে। আর অস্থিরতা সব সময়ই কাজে ক্ষতি করে। আপনার নাগরিক আনন্দ-বেদনা কতটুকু? একজন বাংলাদেশি হিসেবে আমি শুধু গর্বিতই নই, আমার গর্বটা অনেকটা চরম পর্যায়ে। আমার অহংকার এ দেশে জন্মেছি। দেশ যেমনই চলুক বা দেশের পরিস্থিতি বা অবস্থান যেমনই হোক না কেন দেশটা কিন্তু আমাদের। আমাদেরই উচিত নিজেদের অবস্থান থেকে দেশের প্রতি সঠিক দায়িত্ব-কর্তব্য পালন করা। একজন দেশের নাগরিক হিসেবে অবশ্যই দেশের কাছে আমার কৃতজ্ঞতা ও দায়বদ্ধতা আছে। আমি নিজে কখনোই অতিরিক্ত সুবিধা ভোগ করে অন্যের সুবিধাগুলো কেড়ে নিতে পারি না। কারও জন্য অপেক্ষা না করে নিজেরা নিজেদের দায়িত্ব যদি সত্ ও সঠিকভাবে পালন করি তাহলে সমাজে কোনো সমস্যাই থাকবে না। নানা প্রতিকূলতার মাঝেও আমাদের দেশ এগিয়ে যাবে এমনটাই আশা করছি।