তারকাগল্প
নতুন পথে যাত্রা
প্রকাশ : ২৭ মার্চ ২০১৩, ১৮:১২
সাবলীল অভিনয় দিয়ে রিচি সোলায়মান দর্শকপ্রিয়তা অর্জন করেছেন অনেক আগেই। অভিনয়ের জায়গা আছে এমন চরিত্রে নিজেকে দেখতে ভালোবাসেন সব সময়। ক্যারিয়ারের ১৪ বছর পার করে তিনি চলচ্চিত্রে অভিনয় করছেন। তাকে
নিয়ে লিখেছেন
অজেয় চৌধুরী
অভিনয় ক্যারিয়ারের শুরু থেকে নিজের একটা দর্শন মেনে পথ চলছেন তিনি। আর তা হলো অনেক বেশি কাজ করার চেয়ে একটু কম কাজ করবেন। সংখ্যার চেয়ে তিনি কাজের মানের দিকে বেশি নজর দেন। এর ফলে কাজ নিয়ে কখনও তার মাঝে কোনো অস্থিরতা দেখা যায়নি। তার ভাষ্যে, ‘আমি কখনও এমনটি চাইনি যে, আমাকে অনেক অনেক নাটকে অভিনয় করতে হবে, সব সময় টিভিপর্দায় নিজেকে দেখতে হবে—এই ভাবনা আমাকে কখনও তাড়া করেনি। আমি আসলে নিজেকে দেখতে চেয়েছি ভালো কাজের একজন অভিনেত্রী হিসেবে।’ সময়ের বিবর্তনে কাজ নিয়ে এখন নতুন নতুন ভাবনার ডালপালা প্রসারিত হচ্ছে তার মনে। এ প্রসঙ্গে রিচি বলেন, ‘আমার মনে হয়, এখন আমার কাজ নিয়ে আরও সচেতন হওয়া উচিত। আর আমি এখন তাই করছি। ক্যারিয়ারের এই সময়ে এসে আমি আমার চরিত্রে কোনো রিপিটেশন চাই না। এখন একটি স্ক্রিপ্ট পাওয়ার পর দেখি সেখানে নিজের অভিনয়ের কতটা সুযোগ রয়েছে। এখন আমি আসলে একটু ভিন্ন ভিন্ন চরিত্রই খুঁজি। এই সময়ে এসে গতানুগতিক কাজ করতে কোনো ইচ্ছেই আর করে না। আমার মনে হয়, যারা আমার অভিনয় পছন্দ করেন, তারাও নিশ্চয় চান, আমি নতুন নতুন চরিত্রে তাদের সামনে হাজির হই।’ অভিনয় জীবনের দীর্ঘ ১৪ বছরে রিচির প্রাপ্তির ঝুলিতে যোগ হয়েছে অসংখ্য দর্শকপ্রিয় নাটক। এগুলোর মধ্যে উল্লেখযোগ্য হলো—‘নাবিলা চরিত’, ‘নীড়’, ‘জোছনাকাল’, ‘বনলতা সেন’, ‘অনুরাগ’, ‘অন্ধকারের ফুল’, ‘ময়ূর বাহন’, ‘নিশীতে’, ‘ত্যাগ’ প্রভৃতি। ২০০৮ সালের ডিসেম্বরে আমেরিকা প্রবাসী বাঙালি রাশেক-উর রহমান মালেককে বিয়ে করেন রিচি সোলায়মান। রাশেক নিউ ইয়র্ক পুলিশ বিভাগে কর্মরত। ২০১০ সালের অক্টোবরে রিচি-রাশেক দম্পতির কোলজুড়ে আসে এক ফুটফুটে সন্তান। তার নাম রাখা হয়েছে রায়ান রিদোয়ান মালিক। স্বামী-সন্তান নিয়েই রিচির সুখের সংসার। এরই মধ্যে নাট্যকারও হয়েছেন রিচি। বাবা দিবসের বিশেষ নাটক ‘আলোয় ভরা ভুবন’ লিখে তিনি বেশ প্রশংসিত হয়েছেন। এরপর রিচি আরও কয়েকটি নাটক লিখেছেন। প্রতিটি নাটকই দর্শক পছন্দের হয়েছে। রিচি এখন বেশ ক’টি ধারাবাহিক নাটকে অভিনয় করছেন। তার অভিনীত সাম্প্রতিক ধারাবাহিকগুলোর মধ্যে রয়েছে হিমেল আশরাফের ‘চৌধুরী ভিলা’, ফয়সাল রাজিবের ‘পূর্বা’ ইত্যাদি। নাটকে অভিনয় এবং লেখালেখির পর রিচি নতুন পথে যাত্রার অপেক্ষায় আছেন। আর তা হলে চলচ্চিত্রে অভিনয়। সম্প্রতি তিনি নতুন একটি ছবিতে চুক্তিবদ্ধ হয়েছেন। শাহনেওয়াজ কাকলী পরিচালিত এ ছবির শিরোনাম ‘নীরব প্রেম’। ছবিতে তার বিপরীতে অভিনয় করছেন চিত্রনায়ক নীরব। এ চলচ্চিত্রের মাধ্যমেই রিচির রুপালি পর্দায় অভিষেক ঘটতে যাচ্ছে। এ প্রসঙ্গে রিচি বলেন, ‘আমার নতুন যাত্রা নিঃসন্দেহে আনন্দের। কারণ, আজকের রিচি রুপালি পর্দার নায়িকা হওয়ার বাসনা নিয়েই মিডিয়া জগতে পদার্পণ করেছিল। কিন্তু বিরূপ পরিস্থিতির কারণে আর রুপালি পর্দায় অভিনয় করা হয়ে ওঠেনি। শুধু সুযোগের অপেক্ষায় ছিলাম। মানসম্পন্ন একটি চলচ্চিত্রে অভিনয়ের প্রস্তাব এবং কাহিনী ও সংলাপ শুনে প্রস্তাবিত চরিত্রটি পছন্দ হয়ে গেল।’ ক্যারিয়ারের শুরু থেকে এখন পর্যন্ত রিচি তার নিজস্ব ক্যারিয়ারকে স্থায়ীরূপ দিতে দুর্বার গতিতে ছুটে চলেছেন। তারই ধারাবাহিকতায় তিনি এ নতুন ছবিতে চুক্তিবদ্ধ হয়েছেন। অসম বয়সী দুই নর-নারীর রোমান্টিকতাকে ঘিরে ছবির কাহিনী আবর্তিত হয়েছে। ছবির গল্পে দেখা যায় নীরব শহরের ছেলে। ঘটনাক্রমে তিনি গ্রামে যান। সেখানে তাকে নিয়ে একের পর এক অলৌকিক ঘটনা ঘটতে থাকে। একপর্যায়ে তিনি তার চেয়ে অধিক বয়সী রিচির প্রেমে পড়েন। এরপরই শুরু হয় প্রেম নিয়ে নানা দ্বন্দ্ব-সংঘাত। অভিনয় জীবনের ১৪ বছর পার করে কেন চলচ্চিত্রে অভিনয়ের সিদ্ধান্ত নিলেন এমন প্রশ্নের উত্তরে রিচি বলেন, ‘আমার অভিনয়ের শুরু থেকে বহু চলচ্চিত্রে অভিনয় করার সুযোগ পেয়েছি, বিভিন্ন কারণে হয়ে ওঠেনি। বাণিজ্যিক ধারার চলচ্চিত্রে অভিনয় করার ইচ্ছাটা আমার মধ্যে কখনও জাগেনি। ‘নীরব প্রেম’ ছবিটি করার সিদ্ধান্তের পেছনে মূল কারণ হচ্ছে, এটা কোনো বাণিজ্যিক চলচ্চিত্র নয়। নির্মাতা শাহনেওয়াজ কাকলী আমার পছন্দের নির্দেশকদের একজন। চলচ্চিত্রটির পাণ্ডুলিপি পড়ে আমার ভালোলাগাটা তৈরি হয়। ছবিটির শুটিং হবে ঢাকা, রংপুর, ময়মনসিংহ ও মানিকগঞ্জে। আশা করছি গতানুগতিকতার বাইরের কিছু ভিন্ন ধারার চিন্তার বহিঃপ্রকাশ ঘটবে চলচ্চিত্রটিতে।’ ভবিষ্যত্ ভাবনার কথা জানতে চাইলে রিচি সোলায়মান বলেন, ‘অভিনয়ের মাঝেই থাকতে চাই। ভালো ভালো চরিত্রে অভিনয় করে দর্শকের ভালোবাসা পেতে চাই।’