গল্প নয় সত্যি

স্মৃতি বাড়ে চায়ে

একটু বয়স হলে এটা সেটা ভুলে যাওয়া কিংবা স্মৃতিশক্তি কমে যাওয়ার সমস্যায় অনেকেই ভোগেন। তাছাড়া শেষ বয়সে এসে স্মৃতি হারানোর মতো রোগ বা আলঝেইমারের ঝুঁকিও অনেকাংশেই বেড়ে যায়। তবে সম্প্রতি যুক্তরাষ্ট্রের একদল গবেষক দাবি করেছেন নিয়মিত চা পানে এ ধরনের স্মৃতিভ্রষ্টতা বা স্মৃতি হারানোর ঝুঁকি অনেকটাই কমাতে পারে। বিশেষ করে, চা বা কফির মতো ক্যাফেইনযুক্ত পানীয় মানুষের স্মৃতিকে সতেজ রাখতে এবং মস্তিষ্ককে তুলনামূলক অধিক সক্রিয় ও কর্মক্ষম রাখতে সাহায্য করে বলেই মত প্রকাশ করেছেন এই গবেষকরা। আলোচিত এই গবেষণা প্রবন্ধটি প্রকাশিত হয়েছে পুষ্টিবিজ্ঞান সম্পর্কিত বিশ্বের খ্যাতনামা সাময়িকী অ্যাডভান্সেস ইন নিউট্রিশন সাময়িকীতে। আর এ ধরনের দাবি করতে যেয়ে কোনো একটি একক গবেষণার উপর ভিত্তি করে নয়, বরং নানা সময়ে পরিচালিত একাধিক গবেষণা জরিপের সমন্বিত ফলাফল হিসেবেই স্মৃতি হারানো রোধে চায়ের ভূমিকা আছে বলে দাবি করেছেন গবেষকরা। এর মধ্যে অন্যতম একটি গবেষণা হিসেবে সিঙ্গাপুরে এক হাজার পাঁচশ নারী ও পুরুষের ওপর চালানো এক গবেষণায় দেখা যায়, দিনে চার কাপের বেশি চা মানুষের তিন শতাংশ অপ্রয়োজনীয় স্মৃতি মস্তিস্ক থেকে দূর করে বলে কার্যকর ও প্রয়োজনীয় তথ্য মনে রাখা সহজ হয়। অন্যদিকে দিনে এক থেকে তিন কাপ চা পান করলে বৃদ্ধ বয়সে বোধশক্তি কমার ঝুঁকি যারা চা খান না তাদের চাইতে ৪৩ শতাংশ পর্যন্ত কমে বলেও জানা গেছে এই গবেষণায়। চায়ের এ ধরনের ভূমিকার কার্যকর কোনো ব্যাখ্যা বিজ্ঞানীরা দিতে না পারলেও অধিকাংশ বিজ্ঞানী ধারণা করেন যে, চা বা মাশরুমের মতো খাবারে থেনাইন নামের যে উপাদানটি থাকে সেটিই সম্ভবত স্মৃতি হারানো বা আলঝেইমারের মতো রোগ প্রতিরোধে সহায়তা করে। তবে স্মৃতিশক্তি বা বোধশক্তি হারানোর ঝুঁকি কমাতে শুধুমাত্র চা পানই যে একমাত্র নিয়ামক নয় সেটি মনে করিয়ে দিয়ে আলঝেইমার সোসাইটির গবেষক জেসিকা স্মিথ জানিয়েছেন, স্মৃতি সতেজ থাকা বা অক্ষুণ্ন থাকার সাথে পরিমিত খাবার খাওয়া, নিয়মিত ব্যায়াম এবং ধূমপান না করার মতো বিষয়গুলোরও নিবিড় সম্পর্ক রয়েছে।