চা শ্রমিক সন্তানদের শিক্ষাবৃত্তি ২ বছর বন্ধ

চা শ্রমিক ইউনিয়নের টানাপড়েনের গত দুই বছরেরও অধিককাল ধরে চা শ্রমিক সন্তানদের শিক্ষাবৃত্তি বন্ধ রয়েছে। সবচেয়ে স্বল্প মজুরীপ্রাপ্ত চা শ্রমিকের সন্তানদের শিক্ষাবৃত্তি বন্ধ থাকায় তাদের পড়াশুনা দারুণভাবে ব্যাহত হচ্ছে। অনেক শিশু বিদ্যালয়বিমুখও হচ্ছে। সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা যায়, এরশাদ সরকার আমলে এক কোটি টাকার তহবিল দিয়ে গঠন করা হয়েছিল চা শ্রমিক কল্যাণ ফান্ড। পরবর্তীতে শেখ হাসিনার আমলে আরো এক কোটি টাকা দিয়ে গঠন করা হয়েছিল চা বাগান শিক্ষা ট্রাস্ট। এছাড়া বিভিন্ন উত্স থেকে আরো ৫০ লাখ টাকা যোগ হয়ে দু’টি তহবিলের আড়াই কোটি টাকা থেকে চা বাগান শ্রমিক সন্তানদের শিক্ষা সহায়তা বৃত্তি দেয়া হত। সূত্র আরো জানায়, ২০০৯ সনের নভেম্বরে চা শ্রমিক ইউনিয়ন কার্যালয় বেদখল হওয়ার পর থেকে দীর্ঘ ২৮ মাস ধরে বন্ধ রয়েছে শিক্ষাবৃত্তি। ২০০৮ সনের ২ নভেম্বর সারাদেশের চা বাগানসমূহের চা শ্রমিক ইউনিয়নের নির্বাচনে চা শ্রমিক ইউনিয়ন সংগ্রাম কমিটি মাখন লাল কর্মকার সভাপতি ও রাম ভজন কৈরী সাধারণ সম্পাদক নির্বাচিত হন। নির্বাচনের পর ৩৬ বছর দায়িত্বে থাকা রাজেন্দ্র প্রসাদ বুনার্জির জামাতা বিজয় প্রসাদ বুনার্জি প্যানেল পরাজিত হয়। এ সময়ে চা শ্রমিকসংঘের আরেকটি অংশের নেতৃত্বে শ্রমিকদের মজুরী বৃদ্ধি সংক্রান্ত বিভিন্ন দাবীতে হবিগঞ্জসহ দেশের ২২টি চা বাগানে ধর্মঘট ছড়িয়ে পড়ে। পরবর্তীতে চা বাগান মালিকপক্ষের সাথে সম্পাদিত দ্বি-বার্ষিক চুক্তিতে চা শ্রমিকদের দৈনিক মজুরী ৩২ টাকা ৫০ পয়সা থেকে বৃদ্ধি করে ৪৮ টাকা, দু’টি উত্সব ভাতা ৫০০ টাকা থেকে বৃদ্ধি করে ১২০০ টাকায় উন্নীত করা হয়। এ অবস্থায় এক বছরের মধ্যে ২০০৯ সনের ২৫ নভেম্বর নির্বাচনে পরাজিত বিজয় প্রসাদ বুনার্জি, একটি প্রভাবশালী মহলের ছত্রছায়ায় শ্রীমঙ্গলস্থ চা শ্রমিক ইউনিয়ন কার্যালয় তাদের দখলে নিয়ে যায়। উল্লেখ্য, গত ২৮ মাসে চা বাগান এলাকায় দরিদ্র ও অসহায় স্বল্প মজুরীপ্রাপ্ত চা শ্রমিকদের বিদ্যালয়গামী সন্তানরা ঝরে পড়তে শুরু করে। চা শ্রমিক ইউনিয়নের কার্যালয়ের নিয়ন্ত্রণ হারানো সাধারণ সম্পাদক রাম ভজন কৈরী বলেন, চা শ্রমিক সন্তানদের শিক্ষাবৃত্তি চালু করতে হলে কথা বলতে হবে নির্বাচিত কমিটিকে। এ কমিটির কার্যক্রম বন্ধ থাকায় বন্ধ রয়েছে শিক্ষাবৃত্তি। তাছাড়া চা বোর্ডের অধীনে চা শ্রমিক ছাত্র বৃত্তির বিষয়টি সম্পৃক্ত। এ প্রসঙ্গে শ্রীমঙ্গলস্থ চা বোর্ডের প্রকল্প উন্নয়ন ইউনিটের পরিচালক মো. হারুন-অর রশীদ সরকার বলেন, এর মূল কারণ শ্রমিক ইউনিয়নে নেতৃত্ব নিয়ে বিরোধ। ছাত্র বৃত্তির বিষয়ে ১১ সদস্য বিশিষ্ট কমিটি রয়েছে। চা শ্রমিক নেতৃত্বের দু’টি পক্ষের বিরোধে তারা এ ব্যাপারে কোন সিদ্ধান্ত দিচ্ছেন না।