চলনবিলে কৃষি জমিতে
পুকুর খননের হিড়িক
রুহুল আমিন, চলনবিল সংবাদদাতা
প্রকাশ : ২৭ মার্চ ২০১৩, ২১:৩১
অধিক লাভের আশায় ফসলী জমিতে পুকুর খনন করার হিড়িক পড়ে যাওয়ায় চলনবিলে ৯ উপজেলায় কৃষি জমি ক্রমেই সংকুচিত হয়ে আসছে।
কৃষকরা জানান, পর পর কয়েক বছর ধানের আবাদ করে তারা ব্যাপক লোকসানের সম্মুখীন। একই পরিমাণ জমিতে পুকুর খনন করে মাছ চাষ করলে অনায়াসে অনেক বেশি লাভবান হওয়া সম্ভব। তাই কৃষি জমিতে তারা পুকুর খনন করছেন। খাদ্য ভান্ডার হিসাবে পরিচিত চলনবিলের তাড়াশ, সিংড়া, আত্রাই, গুরুদাসপুর, চাটমোহর, ফরিদপুর, ভাঙ্গুরা, শাহাজাদপুর ও উল্লাপাড়া উপজেলা খাদ্য উদ্বৃত্ত অঞ্চল। উপজেলাগুলোতে সরকারি বেসরকারি পর্যায়ে খনন করা পুকুরের সংখ্যা প্রায় ২০ হাজার। তন্মধ্যে সরকারি পুুকুর ২ হাজার ৬৯০টি। নলকা-বনপাড়া বাইপাস সড়ক নির্মাণের সময় নির্মাণ ঠিকাদারের নিকট মাটি বিক্রি করায় উল্লাপাড়া, ভাঙ্গুড়া, গুরুদাসপুর ও তাড়াশ উপজেলায় সৃষ্টি হয় সহস্রাধিক পুুকুরের। উপরন্তু বর্তমানে অধিক লাভের আশায় মাছের চাষ করতে কৃষকদের মাঝে আবাদি জমিতে পুকুর খননের প্রবণতা বৃদ্ধি পেয়েছে। এতে পুকুরের সংখ্যা আরও বৃদ্ধি পাচ্ছে।
গত ডিসেম্বর মাস থেকে চলনবিল এলাকায় পুকুর খননের কাজ চলছে। আগে পুকুর খননে ব্যবহার হতো মাটি কাটা শ্রমিক। এক একটি পুুকুর খনন করতে অন্তত ২ বছর সময় লাগতো। কিন্তু ইঞ্জিন চালিত যন্ত্র দিয়ে মাটি কাটার কাজ শুরু হওয়ায় পুকুর খনন এখন অনেক সহজ হয়ে গেছে। অল্প খরচে ও অল্প সময়ে সহজেই পুকুর খনন করা যাচ্ছে। এসব পুুকুরের অনেকগুলোই করা হয়েছে সরকারি রাস্তার পাশে। সরকারি রাস্তাই পুকুরের পাড় হিসেবে ব্যবহূত হচ্ছে। এতে কয়েক বছরের মধ্যেই রাস্তায় ভাঙ্গন সৃষ্টির আশংকা রয়েছে। অপরিকল্পিত খনন করা এসব পুকুর কৃষি ক্ষেত্রে বড় ধরনের হুমকি হিসেবে দেখা দিয়েছে। ৫ বিঘা থেকে ১৫ বিঘা পর্যন্ত আবাদি জমিতে এক একটি পুকুর খনন করা হচ্ছে। ৯ উপজেলায় এ পর্যন্ত ৫ শতাধিক পুকুর খনন কাজ সম্পন্ন হয়েছে। আগামী এপ্রিল-মে মাসের মধ্যে আরও ৫শ’ পুকুর খনন করা হবে বলে কৃষকরা জানিয়েছেন। তাড়াশ উপজেলায় ৪ মাসে ১ শত পুকুর খনন করা হয়েছে বলে বিভিন্ন গ্রামে খোঁজ নিয়ে জানা গেছে। চলনবিলের ৯ উপজেলায় ২০ হাজার পুকুরের সাথে যুক্ত হবে নতুন ১ হাজার পুকুর। ফলে চলতি বছরে ৯ উপজেলায় অন্তত ৮ হাজার বিঘা আবাদি জমি নিশ্চিহ্ন হয়ে যাবে। পুকুর খনন অব্যাহত থাকলে চলনবিল খাদ্য ভান্ডারের মর্যাদা অচিরেই হারাবে বলে পর্যবেক্ষক মহলের অভিমত। এ ব্যাপারে উপজেলা কৃষি কর্মকর্তাদের সঙ্গে যোগাযোগ করলে কৃষি জমিতে ব্যাপক হারে পুুকুর খননের কথা স্বীকার করে তারা বলেন, ধানের চেয়ে মাছ চাষে লাভ অনেক বেশি হওয়ায় কৃষকদের মধ্যে কৃষি জমিতে পুকুর খননের প্রবণতা লক্ষ্য করা যাচ্ছে।