পার্বত্য এলাকায় বৈসাবি পালনের ব্যাপক প্রস্তুতি
তরুণ ভট্টাচার্য্য, খাগড়াছড়ি প্রতিনিধি
প্রকাশ : ২৭ মার্চ ২০১৩, ২২:২৫
বৃহত্তর পার্বত্য চট্টগ্রামের আদিবাসী জনগোষ্ঠীর ঐতিহ্যবাহী উত্সব বিঝু, সাংগ্রাই, বৈস্যু (বৈসাবি) ও চৈত্র সংক্রান্তি পালনের জন্য শহর থেকে শুরু করে প্রত্যন্ত পাড়া-মহল্লায় ব্যাপক প্রস্তুতি শুরু হয়েছে। পার্বত্য চট্টগ্রামের আদিবাসীদের ঘরে ঘরে প্রতিবছর বাংলা বছরের চৈত্র মাসের শেষ ২ দিন এবং নববর্ষের প্রথম দিন অর্থাত্ পহেলা-বৈশাখ এ উত্সব পালিত হয়। পুরানো বছরের সকল দুঃখ, রোগ-শোক, গ্লানি, হতাশাকে ঝেড়ে ফেলে নতুন বছরে সম্প্রীতিতে সুখী সুন্দর জীবন গড়ার প্রত্যাশা নিয়েই উপজাতি জনগোষ্ঠী নানান আনুষ্ঠানিকতায় এই উত্সব পালন করে থাকে। পার্বত্য চট্টগ্রামে উপজাতীয়রা মূলত চৈত্রের শেষ তিন দিন উত্সবের সামাজিক আনুষ্ঠানিকতা পালন করবে। বৈসাবি তথা চৈত্র সংক্রান্তিকে ঘিরে ব্যাপক উত্সাহ-উদ্দিপনাও লক্ষ্য করা যাচ্ছে উপজাতীয়দের ঘরে ঘরে। মারমা উন্নয়ন সংসদ, মারমা সংগঠন ঐক্য পরিষদসহ বিভিন্ন উপজাতীয় সামাজিক সংগঠনের পক্ষ থেকে নেয়া কর্মসূচির পাশাপাশি এখানে স্থানীয় সরকার প্রতিষ্ঠান পার্বত্য জেলা পরিষদ, নৃ-তাত্ত্বিক জাতিগোষ্ঠীর সাংস্কৃতিক ইনস্টিটিউট, বিভিন্ন সামাজিক প্রতিষ্ঠান ও এনজিওগুলো এ উপলক্ষে চৈত্রের শেষ সপ্তাহ থেকেই খাগড়াছড়িতে বিভিন্ন সামাজিক ও ঐতিহ্যবাহী আনুষ্ঠানিকতা পালন শুরু করবে। ঐতিহ্যবাহী উত্সব বিঝু, সাংগ্রাই, বৈস্যু ও চৈত্র সংক্রান্তি উপলক্ষে আয়োজিত নানান কর্মসূচিকে ঘিরে চারদিকে দেখা দেবে উত্সবের আমেজ। পাড়ায় পাড়ায় চলবে ঐতিহ্যবাহী খেলাধুলার আয়োজন। আয়োজন আঙ্গীনায় মাইকে চলবে আদিবাসী শিল্পীদের গান।
খাগড়াছড়ি পার্বত্য জেলায় সংখ্যালঘু আদিবাসী জনগোষ্ঠীর প্রধান তিনটি সম্প্রদায় চাকমা, মারমা ও ত্রিপুরাদের বসবাস। এ তিন আদিবাসী জনগোষ্ঠীর লোকেরা তিন দিনব্যাপী ভিন্ন ভিন্ন নামে এই উত্সব পালন করে থাকে। চাকমারা বিঝু, মারমারা ‘সাংগ্রাই’ ও ত্রিপুরারা ‘বৈস্যু’ নামে যুগ যুগ ধরে পালন করে আসছে এ উত্সব।
পার্বত্য অঞ্চলে আদিবাসীদের প্রধান এ সামাজিক উত্সবকে সামনে রেখে নৃ-তাত্ত্বিক জাতিগোষ্ঠীর সাংস্কৃতিক ইনস্টিটিউট তাদের নিজস্ব কার্যালয় প্রাঙ্গণে সাংস্কৃতিক উত্সবের আয়োজন করবে বলে জানা গেছে। সার্বজনীন বৈসাবি উদযাপন পরিষদও এ সামাজিক উত্সবকে সামনে রেখে ৬ দিনব্যাপী পৃথক পৃথক কর্মসূচি গ্রহণ করেছে। সার্বজনীন বৈসাবি উদযাপন কমিটির আহ্বায়ক ক্ষেত্র মোহন রোয়াজা ও সদস্য সচিব দীপায়ন চাকমা এ প্রতিনিধিকে জানান, ঐতিহ্যবাহী বৈসাবি উত্সবকে যথাযোগ্য মর্যাদায় উদযাপনের জন্য সার্বজনীন বৈসাবি উদযাপন কমিটির উদ্যোগে আগামী ৯, ১০ ও ১১ এপ্রিল স্বনির্ভর বাজার মাঠে তিন দিনব্যাপী খেলাধুলা ও সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠানের আয়োজন করা হবে। জুম্মদের ঐতিহ্যবাহী কৃষ্টি ও সংস্কৃতি ধরে রাখতে নদীতে ফুল ভাসানো হবে ১২ এপ্রিল। একইদিন ৯টায় খাগড়াছড়ি পৌর শহরের মধুপুর বাজার এলাকায় জমায়েতের স্থান নির্ধারণ করা হয়েছে এবং সেখান থেকে “সার্বজনীন বৈসাবির বর্ণাঢ্য শোভাযাত্রা” বের করা হবে। শোভাযাত্রাটি পানখাইয়া পাড়া-কল্যাণপুর-শাপলা চত্বর-চেঙ্গী স্কোয়ার হয়ে স্বনির্ভর মাঠে এসে শেষ হবে। স্ব-স্ব জাতীয় পোশাক পরিধান করে বৈসাবি শোভাযাত্রায় অংশ গ্রহণ করবে শত শত উপজাতীয় নারী-পুরুষ।