বিমানে বার্ষিক চল্লিশ কোটি টাকা ব্যয় সংকোচনের পরিকল্পনা
প্রকাশ : ২৭ মার্চ ২০১৩, ২২:২৮
দুর্নীতির কারণে মুখ থুবড়ে পড়া বিমানকে চাঙ্গা করতে চান জাতীয় পতাকাবাহী বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইন্সের নতুন ব্যবস্থাপনা পরিচালক ও প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা কেভিন স্টিল। তিনি বলেছেন, যেভাবেই হোক না কেন বছরে কমপক্ষে পাঁচ মিলিয়ন ডলার (৪০ কোটি টাকা) ব্যয় সংকোচনের মাধ্যমে বিমানের কাঁধ থেকে লোকসানের বোঝা কমানো হবে। দায়িত্ব গ্রহণের দশ দিনের মাথায় গতকাল বুধবার বিমানের প্রধান কার্যালয় বলাকায় এক সাংবাদিক সম্মেলনে তিনি একথা বলেন।
কেভিন স্টিল অত্যন্ত দৃঢ়তার সাথে বলেন, তিন মাসের মধ্যে তিনি বিমানে ব্যাপক পরিবর্তন আনতে চান। এসময়ের মধ্যেই বন্ধ হয়ে যাওয়া বিমানের অভ্যন্তরিণ রুটগুলো চালু করা হবে। এজন্য ছোট আকারের নতুন উড়োজাহাজের প্রয়োজন হবে। তবে বিমান তা সংগ্রহ করবে। পাশাপাশি আন্তর্জাতিক রুটে চলাচলকারি পুরানো উড়োজাহাজগুলো বিমান বহর থেকে সরিয়ে নেয়া হবে। তিনি বলেন, যে কোন উপায়ে বিমানকে লাভজনক করতে হবে। এজন্য প্রতিবছর অন্তত ২০ ভাগ রাজস্ব বৃদ্ধি লক্ষ্যমাত্রার কথা জানান। আর এর ফলে ধাপে ধাপে লোকসান কাটিয়ে লাভের মুখ দেখবে বিমান। পৃথিবী বিভিন্ন দেশের এয়ারলাইন্সগুলো রুট সম্প্রসারণ করছে অথচ বিমানে তা কমছে। সাংবাদিকদের এমন এক প্রশ্নের জবাবে বৃটিশ নাগরিক কেভিন স্টিল বলেন, এটা খুবই অপ্রত্যাশিত। আমি বিমানের বিভিন্ন বিভাগে একটি লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করে দেব এবং তা অর্জনের লক্ষ্যে সংশ্লিষ্ট সকলকে কাজ করতে হবে।
বিমানে এমডি হিসেবে নিজস্ব কর্মপরিকল্পনা তুলে ধরতে গিয়ে কেভিন স্টিল বলেন, চ্যালেঞ্জ নিয়েই বিমানের দায়িত্ব নিয়েছি, প্রতিটি চ্যালেঞ্জই মোকাবেলা করতে তিনি প্রস্তুত। তিনি বলেন, বিমানের সমস্যার অন্ত নেই। এরমধ্যে অগ্রাধিকার ভিত্তিতে শৃংখলা ফিরিয়ে আনা, ব্যয় হ্রাস, সময়ানুবর্তিতা, গতিশীল ব্যবস্থাপনা ও সময়সূচি অনুযায়ী ফ্লাইট চলাচল নিশ্চিত করতে হবে। ফ্লাইট চলাচলের সময়সূচি যাতে হেরফের না হয় সেজন্য সার্বক্ষণিক একটি উড়োজাহাজ হযরত শাহজালাল বিমান বন্দরে প্রস্তুত রাখা হবে। আসন্ন গ্রীষ্মকালীন সময়সূচি চালুর সাথে সাথে এই উদ্যোগটি বাস্তবায়ন করার কথা জানান তিনি। বিমানকে লাভজনক ও জনপ্রিয় করার ব্যাপারে গণমাধ্যমের সহযোগিতার উপর গুরুত্বারোপ করে তিনি বলেন, গণমাধ্যমসমূহ রাষ্ট্রীয় মালিকানাধীন এই এয়ারলাইন্সের সুনির্দিষ্ট দুর্বলতার জায়গা তুলে ধরতে ইতিবাচক ভূমিকা পালন করতে বলেন। যা বিমানের জন্য সহায়ক হবে। তিনি বলেন, গ্রাহকদের মতামতের উপর ভিত্তি করে অনেক সমস্যার সমাধান করা সম্ভব। এজন্য অচিরেই বিমান একটি নতুন ওয়েব সাইট চালু করবে যেখানে বিমান যাত্রীরা মন্তব্য জানাতে পারবেন। সাংবাদিক সম্মেলনে বিমানের পরিচালকসহ ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।