খুলে গেল মিরপুর বিমানবন্দর ফ্লাইওভার

বহু প্রতীক্ষিত মিরপুর-বিমানবন্দর ফ্লাইওভারটি যান চলাচলের জন্য খুলে দেয়া হয়েছে। গতকাল বুধবার সকালে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা এর উদ্বোধন করেন। এর পরপরই সেটি সর্বসাধারণের জন্য উন্মুক্ত করে দেয়া হয়। উদ্বোধনের পর প্রধানমন্ত্রী ফ্লাইওভারটি পরিদর্শন করেন। এ সময় তার সঙ্গে ছিলেন যোগাযোগমন্ত্রী ওবায়দুল কাদের ও বাংলাদেশ সেনাবাহিনীর প্রধান ইকবাল করিম ভুঁইয়া। ফ্লাইওভারটি চালু হওয়ার মাধ্যমে রাজধানীর যোগাযোগ ব্যবস্থায় এক নতুন অধ্যায় সূচনা হলো। এটি রাজধানীর পূর্ব ও পশ্চিমকে সংযুক্ত করবে এবং এর ফলে রাজধানীর যানজট বহুলাংশে নিরসন হবে বলে আশা করা হচ্ছে। এ উপলক্ষে ঢাকা সেনানিবাসের আর্মি গলফ ক্লাবে আয়োজিত এক অনুষ্ঠানে প্রধানমন্ত্রী বলেছেন, প্রয়াত রাষ্ট্রপতি জিল্লুর রহমানের স্মৃতির প্রতি শ্রদ্ধা জানিয়ে তাঁর নামে ফ্লাইওভারটির নামকরণ করা হবে। এ অনুষ্ঠানে তিনি ফ্লাইওভারটিকে স্বাধীনতার মাসে ঢাকাবাসীকে তার সরকারের উপহার হিসেবেও বর্ণনা করেন। বাংলাদেশ সেনাবাহিনীর স্পেশাল ওয়ার্কস অর্গানাইজেশনের অধীনে ১৬ ইঞ্জিনিয়ার কনস্ট্রাকশন ব্যাটালিয়ন এ প্রকল্প বাস্তবায়ন করেছে। প্রকল্পের ঠিকাদার হিসেবে কাজ করে মীর আক্তার অ্যান্ড কোম্পানি লিমিটেড। ফ্লাইওভারটি মিরপুরের মাটিকাটা থেকে শুরু হয়ে বিমানবন্দর সড়কে (জিয়া কলোনি সংলগ্ন) শেষ হয়েছে। এর দৈর্ঘ্য এক হাজার ৭৯৩ মিটার। সেনাবাহিনীর অধীনে এই প্রকল্পের আওতায় মিরপুর-বিমানবন্দর সড়ক, ফ্লাইওভার, সংযোগ-সেতু এবং বনানী রেলক্রসিংয়ের ওপর আরেকটি ফ্লাইওভার নির্মিত হয়েছে। সব কটি প্রকল্পে ব্যয় হয় ৩৬০ কোটি ১৬ লাখ টাকা। রেলক্রসিংয়র ওপর নির্মিত ফ্লাইওভারটি গত ডিসেম্বর মাসে চালু হয়। আর গতকাল মিরপুর-বিমানবন্দর সড়ক ফ্লাইওভার ও সংযোগ সড়কটি চালু হলো। ৫৬১ মিটার সংযোগ সেতুটি বনানী রেলক্রসিংয়ের ওপর নির্মিত ৮০৪ মিটার দীর্ঘ ফ্লাইওভারটির সঙ্গে সংযোগ স্থাপন করবে। প্রকল্প সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা জানান, প্রকল্পটি বাস্তবায়নের ফলে বনানীর রেলক্রসিংয়ে ট্রেন চলাচলের সময় যানবাহনগুলোর অপেক্ষায় থাকতে হচ্ছে না। এতে মিরপুর থেকে সেনানিবাসের ওপর দিয়ে ফ্লাইওভারটি ধরে বিমানবন্দর সড়কের দূরত্ব দাঁড়াবে তিন কিলোমিটার। এই পথ পাড়ি দিতে সময় লাগবে ১৫-২০ মিনিট। বর্তমানে মিরপুর থেকে বিমানবন্দর যেতে হলে আগারগাঁও হয়ে প্রায় ১১ কিলোমিটার পথ ঘুরতে হয়। উদ্বোধন উপলক্ষে আর্মি গলফ ক্লাবে আয়োজিত অনুষ্ঠানে প্রধানমন্ত্রী বলেন, এই ফ্লাইওভার দিয়ে বৃহত্তর মিরপুরে বসবাসকারী লাখ লাখ মানুষ ঢাকা সেনানিবাসের ওপর দিয়ে এয়ারপোর্ট রোডে যাতায়াত করতে পারবেন। এর ফলে দূরত্ব কমবে প্রায় ৮ কিলোমিটার। পাশাপাশি থাকবে না যানজটের ঝামেলা। তিনি প্রকল্পটি ভালভাবে শেষ করার জন্যে সেনাবাহিনীকে ধন্যবাদ জানিয়ে বলেন, আমরা যে পারি সেটা ইতিমধ্যে প্রমাণিত হয়েছে। প্রধানমন্ত্রী বলেন, দেশ খাদ্য ঘাটতির দেশ ছিল। ২০০১ সালে যখন ক্ষমতা থেকে বিদায় নেই তখন খাদ্য উদ্বৃত্ত রেখে গিয়েছি। ৯৬ সালে ক্ষমতায় এসে ঢাকাকে যানজটমুক্ত করতে অনেকগুলো প্রকল্প হাতে নিয়েছিলাম। বিশ্বব্যাংকের সহায়তায় কয়েকটি ফ্লাইওভার নির্মাণ, সংযোগস্থল উন্নয়ন কাজ হাতে নেয়া হয়েছিল। পরবর্তীতে সে কাজগুলো আর এগোয়নি। এবার ক্ষমতায় এসে আবার কাজগুলো সম্পন্ন করার উদ্যোগ নিয়েছি। তার সরকার দেশের সকল অংশের সুষম উন্নয়নে পল্লী অঞ্চলে আরও সম্পদ সংগ্রহ ও প্রেরণের প্রয়াস চালিয়ে যাচ্ছে উল্লেখ করে শেখ হাসিনা বলেন, তার সরকার চায় সব মানুষ খাদ্য, স্বাস্থ্য ও শিক্ষার সুযোগ পাবে। এছাড়া বর্তমান সরকার প্রত্যেক অঞ্চলের মানুষকে তাদের নিজ এলাকায় উত্পাদন কর্মকাণ্ডে নিয়োজিত করে দারিদ্র্য নিরসনের লক্ষ্যে কর্মসংস্থানের সুযোগ সৃষ্টির কাজ করছে। প্রধানমন্ত্রী তার পূর্ববর্তী ১৯৯৬ থেকে ২০০১ সালের সরকারকে বাংলাদেশের মানুষের জন্য স্বর্ণযুগ হিসাবে অভিহিত করে বলেন, আওয়ামী লীগ ক্ষমতায় থাকলে দেশের মানুষ কিছু পায়। তার চলতি মেয়াদে বিগত চার বছরে মোট ১৯ হাজার ২৫০ কিলোমিটার সড়ক ও ১ লাখ ৩১ হাজার মিটার ব্রিজ কালভার্ট নির্মাণ এবং ১ হাজার ৫২টি গ্রোথ সেন্টার প্রতিষ্ঠিত হয়েছে বলে তিনি উল্লেখ করেন। অনুষ্ঠানের শুরুতে প্রয়াত রাষ্ট্রপতি জিল্লুর রহমানের মৃত্যুতে এক মিনিট নীরবতা পালন করা হয়। অনুষ্ঠানে অন্যদের মধ্যে বক্তব্য রাখেন সাবেক রাষ্ট্রপতি জাতীয় পার্টির চেয়ারম্যান ও স্থানীয় সংসদ সদস্য হুসেইন মুহম্মদ এরশাদ, যোগাযোগমন্ত্রী ওবায়দুল কাদের, সেনাপ্রধান জেনারেল ইকবাল করিম ভুঁইয়া, সড়ক বিভাগের সচিব এমএএন সিদ্দিক। ফ্লাইওভার সম্পর্কে বিস্তারিত তথ্য তুলে ধরেন প্রকল্প পরিচালক ব্রিগেডিয়ার জেনারেল আবু সাঈদ মো. মাসুদ।