এখন সংলাপের উদ্যোগ নিলে সরকারকেই তা নিতে হবে :ফখরুল
প্রকাশ : ২৭ মার্চ ২০১৩, ২২:৩১
বিএনপির ভারপ্রাপ্ত মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর বলেছেন, আমরা (বিএনপি) বরাবরই আলোচনার কথা বলছি। নির্দলীয় তত্ত্বাবধায়ক ব্যবস্থা বাদ দিয়ে সংসদে যখন সংবিধানের পঞ্চদশ সংশোধনী পাস হয় তখনই বিরোধী দলীয় নেতা সরকারকে বলেছিলেন—এই ভয়াবহ পথ থেকে সরে আসুন, আলাপ-আলোচনার মাধ্যমে সমস্যার সমাধান করুন। একথা আমরা বহুবার বলেছি, কিন্তু সরকার কর্ণপাত করেনি। সুতরাং এখন যদি সংলাপের উদ্যোগ নিতে হয় তাহলে তা সরকারকেই নিতে হবে। উদ্যোগ নেয়া তো বিরোধী দলের দায়িত্ব নয়। সরকারের অন্যায়ের প্রতিবাদ জানানোসহ বিরোধী দলের যেসব দায়িত্ব রয়েছে সেগুলো আমরা পালন করছি। সে কারণে হাইকোর্টের এই রুল বিরোধী দলের জন্য কতটুকু প্রযোজ্য তাও খতিয়ে দেখা দরকার।
১৮ দলের ডাকা টানা ৩৬ ঘণ্টার হরতালের গতকাল প্রথমদিনের কর্মসূচি শেষে বিকালে বিএনপির কেন্দ্রীয় কার্যালয়ে আয়োজিত সাংবাদিক সম্মেলনে এক প্রশ্নের জবাবে তিনি একথা বলেন। চলমান রাজনৈতিক সংকট নিরসনে দেশের প্রধান দুই নেত্রী ও তাদের দল দুটির সংলাপে বসা নিয়ে রুল জারির বিষয়ে হাইকোর্টের এখতিয়ার নিয়ে প্রশ্ন তুলে তিনি বলেন, রাজনৈতিক বিষয়ে রাজনৈতিক দলগুলোর পারস্পরিক আলাপ-আলোচনা কিংবা সংলাপের বিষয়ে আদালত ভূমিকা রাখতে পারে কিনা আগে সেটি আমাদের দেখতে হবে। এসব বিষয়ে কোনো আদেশ-নির্দেশ দেয়ার এখতিয়ার আদালতের আছে কিনা তাও আমাদের জানতে হবে।
সাংবাদিক সম্মেলনে মির্জা ফখরুল বলেন, দুঃশাসন, বিরোধী দলকে সীমাহীন নির্যাতন-নিপীড়ন এবং সর্বত্র ব্যর্থতা ও অযোগ্যতার কারণে এই সরকারের পতন ঘণ্টা বেজে গেছে। আমরা বলতে চাই দুঃশাসনের মাত্রা যত বাড়বে সরকারের পতন তত অনিবার্য হয়ে উঠবে। তিনি বলেন, ১৮ দলের আটককৃত নেতাকর্মীদের অবিলম্বে মুক্তি, নির্দলীয় সরকারের অধীনে নির্বাচন অনুষ্ঠান এবং নির্বিচারে গুলি করে ‘গণহত্যা’ বন্ধের দাবি মেনে নেয়ার ক্ষেত্রে সরকার গড়িমসি করলে একই দাবিতে আরো কঠোর কর্মসূচি দিতে আমরা বাধ্য হব। ৩৬ ঘণ্টার হরতাল শেষে একই দাবিতে নতুন কর্মসূচি দেয়া হবে। তখন এর দায়-দায়িত্ব সরকারকেই নিতে হবে।
এক প্রশ্নের জবাবে বিএনপির ভারপ্রাপ্ত মহাসচিব বলেন, আমরা বারবার বলার পরও বিরোধী দলের দাবির প্রতি সরকার কোনো মনোযোগ দিচ্ছে না। একগুয়েমি মনোভাব দেখিয়ে সরকার গোটা জাতিকে অন্ধকার সুড়ঙ্গের দিকে ঠেলে দিয়েছে। চরম অনিশ্চয়তা ও অস্থিতিশীলতার মধ্যে পড়েছে দেশ। জনগণকে সঙ্গে নিয়ে দুর্বার আন্দোলনের মাধ্যমে এই অন্ধকার সুড়ঙ্গ থেকে আমাদের বের হয়ে আসতে হবে। তিনি বলেন, কর্মসূচি দেয়ার সময় শিক্ষার্থীদের লেখাপড়া ও পরীক্ষার বিষয়টি আমরা সবসময়ই বিবেচনা করি। কিন্তু জাতি যখন অস্তিত্ব সংকটে পড়ে, গণতন্ত্র ও আইনের শাসন যখন বিপর্যস্ত হয় তখন সেটিই দেশবাসীর সামনে বড় ইস্যু হয়ে দাঁড়ায়।
ফখরুল আরো বলেন, ৩০ লাখ শহীদের রক্তে অর্জিত স্বাধীনতা আজ আওয়ামী লীগের হিংস্রতা ও ভয়াবহ দুঃশাসনে বিপর্যস্ত। বিরোধী দলীয় নেতাসহ জাতীয় নেতাদের বিরুদ্ধে মিথ্যাচারের মহোত্সব চলছে। আমরা দৃঢ়তার সঙ্গে বলছি প্রতিটি গুম-খুনের সঙ্গে সরকার জড়িত। প্রধানমন্ত্রী ও স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর নির্দেশে পুলিশ নাগরিকদের ওপর গুলি চালাচ্ছে। একদিন প্রতিটি ঘটনার জন্য এই সরকারকে জবাবদিহি করতে হবে। বিরোধী দল ও মতকে নিশ্চিহ্ন করার ভয়াবহতার বর্তমান মাত্রা ছাড়িয়ে গেছে। দেশের প্রতিটি মানুষ আজ উদ্বিগ্ন, উত্কণ্ঠিত। অভিভাবকদের উদ্বেগ—কখন তার সন্তানের লাশ মিলবে জঙ্গলে, খালে-বিলে কিংবা ম্যানহোলে। বিখ্যাত কবিতার ভাষায় আজ বলতে হয়—এত লাশ রাখব কোথায়? মহান স্বাধীনতা দিবসেও সরকার লাশ ফেলেছে, প্রতিদিনই লাশ পড়ছে।
মির্জা ফখরুল দাবি করেন ৩৬ ঘণ্টার হরতালের প্রথমদিন এবং আগের রাতে ঢাকাসহ সারাদেশে পুলিশ বিরোধী দলের ৩৮২ জন নেতাকর্মীকে গ্রেফতার করেছে। পুলিশ ও সরকারি দলের সন্ত্রাসীদের হামলায় আহত হয়েছেন ৫৭৮ জন। ঢাকায় ৫ জনকে এক বছর করে সাজা দিয়েছে ভ্রাম্যমাণ আদালত। এছাড়া এক হাজারেরও বেশি নেতাকর্মীর বিরুদ্ধে ‘মিথ্যা’ মামলা দেয়া হয়েছে।