দুই নেত্রীর উপর হাইকোর্টের রুল

আগামী জাতীয় সংসদ নির্বাচন অবাধ ও সুষ্ঠুভাবে অনুষ্ঠানের লক্ষ্যে এবং চলমান রাজনৈতিক সংকট নিরসনে দুই নেত্রী এবং তাদের জোটের মধ্যে সংসদের ভিতরে ও বাইরে সংলাপে বসতে কেন নির্দেশ দেয়া হবে না এই মর্মে কারণ দর্শাতে রুল জারি করেছে হাইকোর্ট। আগামী চার সপ্তাহের মধ্যে আওয়ামী লীগ সভানেত্রী ও বিএনপি চেয়ার-পার্সনকে রুলের জবাব দিতে বলা হয়েছে। একই সঙ্গে বোমা ও ককটেল নিক্ষেপ, গাড়ি ভাংচুর ও অগ্নিসংযোগসহ এ ধরনের অপরাধ বন্ধে কেন নির্দেশ দেয়া হবে না তা জানতে চেয়ে স্বরাষ্ট্র সচিবের প্রতিও রুল জারি করেছে হাইকোর্ট। বিচারপতি মো. নিজামুল হক ও বিচারপতি জাফর আহমেদের হাইকোর্ট বেঞ্চ গতকাল বুধবার এ রুল জারি করেন। এ প্রসঙ্গে আদালত বলেন, দেশের চলমান অবস্থা এবং জনস্বার্থ বিবেচনায় নিয়ে আমরা এ রুল জারি করেছি। তবে রুল জারির বিরোধিতা করে অতিরিক্ত এটর্নি জেনারেল এডভোকেট এম কে রহমান বলেছেন, সংলাপ একটি রাজনৈতিক বিষয়, রুল দিলে তা কে বাস্তবায়ন করবে? অবাস্তবায়নযোগ্য বিষয়ে আদালত কোন আদেশ দিতে পারে না। সুপ্রিম কোর্টের আইনজীবী ড. মুহাম্মদ ইউনূস আলী আকন্দ দুই নেত্রীর সংলাপ চেয়ে এই রিট দায়ের করেছিলেন। রিট আবেদনের পক্ষে ব্যারিস্টার নাজমুল হুদা শুনানিতে বলেন, হরতাল একটি গণতান্ত্রিক অধিকার। কিন্তু এই অধিকার দিয়ে গাড়ি ভাংচুর, নির্দোষ মানুষের উপর আক্রমণ বৈধতা পেতে পারে না। তিনি বলেন, আজকে ১৬ কোটি মানুষ জিম্মি হয়ে গেছে। এটা থেকে উদ্ধার পেতে হলে আপনাদেরকে (আদালত) এগিয়ে আসতে হবে। আপনাদের হাত অনেক লম্বা। আপনারা এ বিষয়ে হস্তক্ষেপ করতে পারেন এবং এ ধরনের কাজ প্রতিরোধ করতে পারেন। এ সময় হাইকোর্ট বলেন, এখানে প্রশ্ন হলো আমরা তাদেরকে বসার জন্য বাধ্য করতে পারি কি-না? জবাবে নাজমুল হুদা বলেন, রিটে সক্রিয়তা বা নিষ্ক্রিয়তাকে চ্যালেঞ্জ করা যায়। দুই নেত্রীর কার্যকলাপ দেশের বারোটা বাজাচ্ছে। তাদের নিষ্ক্রিয়তার কারণেই সংলাপ হচ্ছে না। সুতরাং আপনারা এ বিষয়ে প্রয়োজনীয় আদেশ দিতে পারেন। তাদের প্রতি রুল দিন। তারাই এসে বলুক, তারা কেন বসবেন না। রুল শুনানির পর্যায়ে এখতিয়ারের বিষয়ে বিস্তারিত শুনানির সুযোগ রয়েছে। ইউনূস আলী আকন্দ বলেন, দুই নেত্রীর সংলাপের সঙ্গে জনস্বার্থ জড়িত। জনস্বার্থে হাইকোর্ট অতীতে অনেক আদেশ দিয়েছে। এ ব্যাপারেও আদেশ দিতে পারে। শুনানিতে এডভোকেট এম কে রহমান বলেন, দুই জোটের নিবন্ধন নেই। তাই এদেরকে বিবাদী করা যায় না। প্রসঙ্গত, প্রায় দুই যুগ আগে স্বৈরশাসক এরশাদের জমানায় সাংবাদিক ফয়েজ আহমেদ ও ব্যারিস্টার সৈয়দ ইশতিয়াক আহমেদের উদ্যোগে দুই নেত্রীর বৈঠক হয়েছিল। এরপর দুই-একবার তাদের দেখাদেখি হলেও তাদের মধ্যে কোন ধরনের সংলাপ হয়নি।