পক্ষীমাতা
প্রকাশ : ২৮ মার্চ ২০১৩, ১৮:৪৮
মরণকে কাঁধে করে আমরা যখন গোরস্থানের দিকে এগুতে থাকি
তার কিছুক্ষণ আগেই আমি প্রকৃত জন্মের কোলে মাথা রাখলাম
তোমাদের পায়ের নিচে মাড়িয়ে যাওয়া অসংখ্য ঘাস আর
তোমাদের পুত্রবধূদের প্রসূকালীন অশ্রুসিক্ত নয়ন
আমার জন্মের কথা ঘোষণা করছিল
প্রথমে আমি পরিত্যক্ত দেহ পচনের জন্য একটি ছত্রাক
তারপর চোলাই ও পাচনের মধ্য দিয়ে অস্থি থেকে মাংস
আলাদা করে ফেললাম
আমার দেহের ভেতর থেকে বেরিয়ে এল একটি গাছ
আমি বললাম গাছ রে তুই আমার সখা
একদিন তোর জন্য আমার বুকের ঠিক এইখানে
এইখানে ব্যথা হয়েছিল, আর তুই
তমাল শাখার মতো বিছিয়েছিলি গভীর স্তন
সেই থেকে আমার বুকে জেগে আছে নীড় রচনার সাধ
আমার ব্যথার বেছন থেকে উত্সারিত হয়ে
তুই আজ পাদপ প্রেয়সী
তোর শাখায় আমি বেঁধেছি বাসা
সেই বাসায় একটি কাক পেড়েছে তিনটি ডিম
সেই ডিমের পাশে অনিদ্রায় বসে রইলাম আঠারটি রাত
নাহ্! এখন আমার ছানারা বেশ বড়
আমি তাদের চঞ্চুতে চঞ্চু রেখে
বাতাসে ডানার গন্ধ মেখে
তাদের গলবিলে দিই আহারের পোকা
মানবজন্মে আমার মা’র কাছে শিখেছিলাম এইসব রীতি
মা তুমি আজ পাখিদের মা
মা তুমি আজ বৃক্ষের মা
তোমার সন্তান আজ গর্বিত পক্ষীমাতা।