বিজ্ঞান
সোনিয়া ফেরদৌসী, সিনিয়র শিক্ষক
হলি ফ্লাওয়ার স্কুল, ঢাকা
কাঠামোবদ্ধ প্রশ্ন ও উত্তর
১। আমাদের চারপাশের পরিবেশ নানা কারণে প্রতিনিয়ত দূষিত হচ্ছে। পরিবেশ দূষণ বলতে কী বোঝ? পরিবেশ দূষণের দুইটি কারণ ও তিনটি ক্ষতিকর প্রভাব লেখ ।
উত্তর : পরিবেশ দূষণ : বেঁচে থাকার জন্য আমরা পরিবেশকে নানাভাবে ব্যবহার করি। ফলে পরিবেশের বিভিন্ন পরিবর্তন ঘটে। এই পরিবর্তন যখন জীবের জন্য ক্ষতিকর হয় তখন তাকে পরিবেশ দূষণ বলে।
পরিবেশ দূষণের ২টি কারণ নিচে দেয়া হলো:
i) পরিবেশ দূষণের অন্যতম প্রধান কারণ হলো শিল্পায়ন।
ii) জীবাশ্ম জ্বালানির অতিরিক্ত ব্যবহার পরিবেশ দূষণের আরো একটি বড় কারণ।
পরিবেশ দূষণের তিনটি ক্ষতিকর প্রভাব হলো :
i) দূষণের কারণে মানুষ কলেরা, ডায়রিয়া, হূদরোগ, ফুসফুসের ক্যান্সারসহ নানারোগে আক্রান্ত হচ্ছে।
ii) জীবজন্তুর আবাসস্থল নষ্ট হচ্ছে জলজ প্রাণীরা ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে ও জলজ খাদ্যশৃঙ্খলে ব্যাঘাত ঘটছে।
iii) পৃথিবীর তাপমাত্রা ক্রমশ বৃদ্ধি পাচ্ছে। ফলে হিমবাহ গলে সমুদ্রের পানির উচ্চতা বেড়ে যাচ্ছে।
২। তোমার এলাকায় কলকারখানার বিভিন্ন ক্ষতিকর গ্যাস, ধূলিকণা, ধোঁয়া ইত্যাদি পরিবেশের একটি উপাদানকে দূষিত করছে। এটি পরিবেশের কোন উপাদান? এ ধরনের দূষণের ২টি কারণ ও ৩টি ক্ষতিকর প্রভাব লেখ।
উঃ আমার এলাকায় কলকারখানার বিভিন্ন ক্ষতিকর গ্যাস, ধূলিকণা, ধোঁয়া অথবা দুর্গন্ধ বায়ুতে মিশে বায়ু দূষিত করে।
বায়ু দূষণের ২টি কারণ হলো—
i) গাছপালা ও ময়লা আবর্জনা পোড়ানোর ফলে সৃষ্ট ধোঁয়ায় বায়ু দূষিত হয়।
ii) যেখানে সেখানে ফেলে রাখা ময়লা ও ত্যাগকৃত মলমূত্রের দুর্গন্ধ হতে বায়ু দূষিত হয়।
বায়ু দূষণের তিনটি ক্ষতিকর প্রভাব নিচে দেয়া হলো:
i) মানুষ ফুসফুসের ক্যান্সার, শ্বাসজনিত রোগ, হূদরোগসহ বিভিন্ন রোগে আক্রান্ত হচ্ছে।
ii) জীবাশ্ম জ্বালানো পোড়ানোর ফলে বাতাসে কার্বন ডাই অক্সাইড ও অন্যান্য ক্ষতিকর গ্যাস ছড়ায়।
iii) পৃথিবীর উষ্ণতা বৃদ্ধি পাচ্ছে ও এসিড বৃষ্টি হচ্ছে।
৩। দূষিত পানি বলতে কী বোঝ? পানি দূষণের ২টি কারণ ও ৩টি ক্ষতিকর প্রভাব লেখ।
দূষিত পানি: মানুষের জন্য ক্ষতিকর, ব্যবহারযোগ্য নয় অর্থাত্ পানিতে ক্ষতিকর কোনো কিছু মিশে থাকলে সে পানিকে দূষিত পানি বলা হয়।
পানি দূষণের ২টি কারণ নিচে দেয়া হলো:
ক) কলকারখানার বর্জ্য পদার্থ পানিতে ফেলা।
খ) পুকুর বা নদীর পানিতে গরু মহিষের গোসল করানো ও কাপড় চোপড় ধোয়া।
পানি দূষণের ৩টি ক্ষতিকর দিক নিচে দেয়া হলো:
ক) পানি দূষণের ফলে জলজ প্রাণী মারা যাচ্ছে ও জলজ খাদ্যশৃঙ্খলে ব্যাঘাত ঘটছে।
খ) মানুষ কলেরা, ডায়রিয়া ও আমাশয়ের মতো নানা পানিবাহিত রোগে আক্রান্ত হচ্ছে।
গ) মানুষ বিভিন্ন চর্মরোগে আক্রান্ত হচ্ছে।
৪। পরিবেশ সংরক্ষণ কী? পরিবেশ সংরক্ষণে তোমার পাঁচটি করণীয় দিক উল্লেখ করো।
পরিবেশ সংরক্ষণ: প্রাকৃতিক পরিবেশের সুরক্ষা এবং যথাযথ ব্যবহারই হচ্ছে পরিবেশ সংরক্ষণ।
পরিবেশ সংরক্ষণে পাঁচটি দিক নিচে আলোচনা করা হলো:
i) বিদ্যুত্ বা জীবাশ্ম জ্বালানির ব্যবহার কমিয়ে আমরা পরিবেশ সংরক্ষণে ভূমিকা রাখতে পারি।।
ii) কাজ শেষে বাতি নিভিয়ে আমরা বিদ্যুত্ অপচয় রোধ করতে পারি।
iii) গাড়িতে চড়ার পরিবর্তে পায়ে হেঁটে বা সাইকেল ব্যবহার করে আমরা প্রাকৃতিক সম্পদ সংরক্ষণে ভূমিকা রাখতে পারি।
vi) কারখানার বর্জ্য ও রাসায়নিক পদার্থ, তেল ইত্যাদি পরিবেশে ফেলার পূর্বে পরিশোধন করতে পারি।
v) জনসচেতনতা বৃদ্ধি করে আমরা পরিবেশ সংরক্ষণে ভূমিকা রাখতে পারি।