এইচএসসি পরীক্ষা নিয়ে শঙ্কায় পরীক্ষার্থী অভিভাবক প্রশাসন
প্রকাশ : ২৮ মার্চ ২০১৩, ২২:৪১
আগামী ১ এপ্রিল থেকে সারা দেশে উচ্চ মাধ্যমিক সার্টিফিকেট (এইচএসসি) ও সমমানের পরীক্ষা শুরু হতে যাচ্ছে। অস্থিতিশীল রাজনৈতিক পরিস্থিতিতে প্রায় আড়াই মাসব্যাপী অনুষ্ঠেয় এ পরীক্ষাটি সময়মতো শেষ করা নিয়ে শঙ্কায় আছেন শিক্ষক-শিক্ষার্থী ও অভিভাবকরা। পাশাপাশি শিক্ষা প্রশাসনও আছে নানা শঙ্কায়। এ কারণে পরীক্ষার সময় হরতাল আহবান না করার জন্য বিরোধী দলগুলোর প্রতি অনুরোধ জানিয়েছেন শিক্ষামন্ত্রী নূরুল ইসলাম নাহিদ।
হরতালের কারণে সমপ্রতি শেষ হওয়া এসএসসি পরীক্ষা নিয়ে শংকা ও উদ্বেগ সৃষ্টি হয়েছিল। সেই তিক্ত অভিজ্ঞতা থেকেই শিক্ষা মন্ত্রণায় থেকে বার বার অনুরোধ করেছে যেন পরীক্ষার সময় হরতাল আহবান করা না হয়। এসএসসি ও সমমানের পরীক্ষায় অনিপরীক্ষা নিয়ে শংকা ও উদ্বেগ সৃষ্টি হয়েছিল। সেই তিক্ত অভিজ্ঞতা থেকেই শিক্ষা মন্ত্রণালয় বারবার অনুরেশ্চয়তা ও উদ্বিগ্নতার মধ্য দিয়ে অংশ নিয়েছে ১৩ লাখের বেশি পরীক্ষার্থী। ৫ই মার্চ এসএসসি’র লিখিত পরীক্ষা শেষ হওয়ার কথা ছিল। কিন্তু হরতালের কারণে পাঁচ বার পরীক্ষা পেছাতে হয়েছে। জামায়াতে ইসলামীর নেতা দেলাওয়ার হোসাইন সাঈদীর ফাঁসির রায়কে কেন্দ্র করে গত ৩ ও ৪ মার্চ হরতাল পালন করে তার দল। ৫ মার্চ হরতাল পালন করে বিএনপি। ৭ মার্চ ১৮ দলীয় জোটের ডাকে হরতাল পালিত হয় । বিএনপি’র ডাকে আবার হরতাল পালিত হয় ১২ মার্চ। হরতালের কারণে ৫ ফেব্রুয়ারির পরীক্ষা নেয়া হয় ৮ ফেব্রুয়ারি, ২৪শে ফেব্রুয়ারির পরীক্ষা নেয়া হয় ১ মার্চ, ২৮ ফেব্রুয়ারির পরীক্ষা হয় ৮ মার্চ শুক্রবার ও ৩ মার্চের পরীক্ষা নেয়া হয় ৯ মার্চ শনিবার। আর ৫ মার্চের পরীক্ষা হয়েছে পরেরদিন ৬ই মার্চ। হরতালের কারণে এসএসসি’র ব্যবহারিক পরীক্ষাও পিছিয়েছে শিক্ষা মন্ত্রণালয়। ব্যবহারিক পরীক্ষাগুলো ১০ থেকে ১৪ মার্চের মধ্যে সম্পন্ন হয়। আগের সময়সূচি অনুযায়ী, এসব পরীক্ষা ৬ থেকে ১২ই মার্চের মধ্যে হওয়ার কথা ছিল। বার বার পরীক্ষার রুটিন পরিবর্তনের ফলে এবার নির্ধারিত ৬০ দিনের মধ্যে ফল প্রকাশও অনিশ্চিত হয়ে পড়তে পারে বলে শিক্ষা বোর্ডের কর্মকর্তারা জানিয়েছেন।
এসএসসি পরীক্ষার্থীদের এই ভোগান্তির কারণে এইচএসসি পরীক্ষা নিয়েও শংকা তৈরি হয়েছে । এবার এইচএসসি ও সমমানের পরীক্ষায় অংশ নেবে ১০ লাখ ১২ হাজার ৫৮১ জন। পরীক্ষার রুটিন অনুযায়ী তত্ত্বীয় পরীক্ষা ১ এপ্রিল থেকে শুরু হয়ে ২৮ মে শেষ হবে। এর পর ব্যবহারিক পরীক্ষা ১ জুন থেকে শুরু হয়ে ১৪ জুন শেষ হবে। কিন্তু পরীক্ষার মধ্যে রাজনৈতিক দলগুলো হরতাল দিলে তার শিকার হবে এইচএসসি পরীক্ষার্থীরা।
গতকাল বৃহস্পতিবার এইচএসসি পরীক্ষা উপলক্ষে শিক্ষা মন্ত্রণালয়ে এক সংবাদ সম্মেলনের আয়োজন করা হয়। সম্মেলনে শিক্ষামন্ত্রী নূরুল ইসলাম নাহিদ এইচএসসি পরীক্ষার্থীদের কথা বিবেচনা করে পরীক্ষার সময় হরতাল না দেয়ার জন্য রাজনৈতিক দলগুলোর প্রতি অনুরোধ জানান। এসএসসির প্রসঙ্গ টেনে তিনি বলেন, অত্যন্ত বিপদসংকুল পরিবেশে আমাদের ওই সময় পরীক্ষা বন্ধ করতে হয়েছিল।
একজন রাজনৈতিক নেতার বক্তব্য উদ্ধৃত করে মন্ত্রী বলেন, ‘‘ওই নেতা বলেছেন পরীক্ষার মধ্যেও তারা হরতাল দিবেন।’’ ওই বক্তব্যের জন্য বিস্ময় প্রকাশ করেন মন্ত্রী । তিনি বলেন, আমার জীবনে এমন কথা কোনোদিন শুনিনি। মন্ত্রী বলেন, আগে থেকেই পরীক্ষার রুটিন ঘোষণা করা হয়। কিন্তু পরীক্ষার সময় হরতালে ভাঙচুর, অগ্নিসংযোগ করলে পরীক্ষার্থী ও অভিভাবকদের মধ্যে আতঙ্ক সৃষ্টি হয়। এতে পরীক্ষার্থীদের উত্সাহ কমে যায়।
মন্ত্রী বলেন, ১০ লাখ শিক্ষার্থীর শিক্ষাজীবন বাধাগ্রস্ত করবেন না। দয়া করে এমন কোনো কর্মসূচি দেবেন না যাতে ভবিষ্যত্ প্রজন্মের বেড়ে উঠতে বাধা সৃষ্টি হয়। তারাই আগামীতে দেশের নেতৃত্ব দেবে। হরতাল না দিয়ে বিকল্প কর্মসূচির কথা ভাবুন। আর যদি হরতাল দিতেই হয় তাহলে রাতে দিন। রাত ১২টা থেকে ভোর ৫টা পর্যন্ত হরতাল দেন। হরতাল আহবান হলে পরীক্ষা স্থগিত করে নতুন সূচি নির্ধারণে সময় ব্যয় হয়।
চলতি বছর আটটি সাধারণ বোর্ডের অধীনে এইচএসসি, মাদ্রাসা বোর্ডের অধীনে আলিম এবং কারিগরি বোর্ডের অধীনে এইচএসসি ভোকেশনাল/বিএম (বিজনেজ ম্যানেজমেন্ট) ও ডিআইবিএস পরীক্ষায় মোট ১০ লাখ ১২ হাজার ৫৮১ জন পরীক্ষায় অংশ নেবে। এর মধ্যে ৫ লাখ ৩৫ হাজার ৬৬২ জন ছাত্র এবং ৪ লাখ ৭৬ হাজার ৯১৯ জন ছাত্রী। মোট পরীক্ষার্থীর মধ্যে এইচএসসিতে ৮ লাখ ২৩ হাজার ২৪১ জন, আলিমে ৮৮ হাজার ৭৭৯ জন, এইচএসসি বিএম/ভোকেশনালে ৯৫ হাজার ৯৫৬ জন এবং ডিআইবিএসে ৪ হাজার ৬০৫ জন পরীক্ষা দিচ্ছে । গতবারের চেয়ে এবার পরীক্ষার্থী বেড়েছে প্রায় ৮৬ হাজার।
এবার বাংলা প্রথম পত্র, রসায়ন প্রথম ও দ্বিতীয় পত্র, পৌরনীতি প্রথম ও দ্বিতীয় পত্র, ব্যবসায় নীতি ও প্রয়োগ প্রথম ও দ্বিতীয় পত্রে সৃজনশীল পদ্ধতিতে পরীক্ষা হবে। এবারো দৃষ্টি প্রতিবন্ধী, সেরিব্রাল পালসিজনিত প্রতিবন্ধী এবং যাদের হাত নেই এমন প্রতিবন্ধী পরীক্ষার্থীরা শ্রুতিলেখক নিয়ে পরীক্ষা দিতে পারবেন । এবারও পরীক্ষা শেষ হওয়ার ৬০ দিনের মধ্যে ফল প্রকাশ করা হবে জানান শিক্ষামন্ত্রী । সম্মেলনে শিক্ষা সচিব কামাল আবদুল নাসের চৌধুরী, মাধ্যমিক ও উচ্চ শিক্ষা অধিদপ্তরের মহাপরিচালক অধ্যাপক ফাহিমা খাতুন, ঢাকা শিক্ষা বোর্ডের চেয়ারম্যান অধ্যাপক তাসলিমা বেগম, মাদ্রাসা বোর্ডের চেয়ার?ম্যান আব্দুন নূর প্রমুখ উপস্থিত ছিলেন।