স্মৃতিকথা লিখে মিলিওনিয়ার মালালা

পাকিস্তানের নারী শিক্ষা আন্দোলনের কর্মী ও তালেবানদের হামলা থেকে প্রাণে বেঁচে যাওয়া কিশোরী মালালা ইউসুফজাই এখন মিলিওনিয়ার। নিজের স্মৃতিকথা প্রকাশের জন্য একটি প্রকাশনা প্রতিষ্ঠানের সঙ্গে প্রায় ৩০ লাখ মার্কিন ডলারের একটি চুক্তি করায় রাতারাতি কোটিপতি বনে গেছে সে। বিদেশি গণমাধ্যমের বরাত দিয়ে এনডিটিভির এক প্রতিবেদনে এ কথা বলা হয়েছে। দ্য গার্ডিয়ানের এক প্রতিবেদনে বলা হয়, চলতি বছরের শেষ নাগাদ মালালার স্মৃতিকথা প্রকাশিত হবে। প্রকাশিতব্য বইটির নাম হবে ‘আই অ্যাম মালালা’। যুক্তরাজ্যে ও কমন-ওয়েলথ দেশগুলোতে বইটি প্রকাশ করবে প্রকাশনা প্রতিষ্ঠান ওয়েইডেনফেল্ড অ্যান্ড নিকলসন। চুক্তিটি ৩০ লাখ ডলারের মতো হবে, কিন্তু প্রকাশনা প্রতিষ্ঠানের মুখপাত্র সঠিক পরিমাণ নিশ্চিত করতে পারেনি। এ বিষয়ে মালালা জানায়, এ স্মৃতিকথায় আমি আমার গল্প বলতে চাই। তবে শিক্ষা থেকে বঞ্চিত বিশ্বের ৬ কোটি ১০ লাখ শিশুর কথাও এ স্মৃতিকথায় উঠে আসবে। আমি চাই নারী শিক্ষার সেই প্রচারণার অংশ হতে, যার মাধ্যমে বিশ্বের সব ছেলে ও মেয়ে শিশু স্কুলে যাওয়ার সুযোগ পাবে। এটি তাদের মৌলিক অধিকার। মালালা আশা করে, বইটি বিশ্বের সব প্রান্তের মানুষের কাছে পৌঁছাবে। এর মাধ্যমে তারা জানতে পারবে, কিছু শিশুর জন্য শিক্ষার সুযোগ পাওয়া কতটা কঠিন। ২০০৭ সালে খায়বার-পাখতুনখোয়া প্রদেশের সোয়াত উপত্যকা দখলে নেয়ার পর মেয়েদের স্কুলে যাওয়া নিষিদ্ধ ঘোষণা করে তালেবান জঙ্গিরা। আন্তর্জাতিক চাপের মুখে সোয়াতে পাকিস্তানি সেনাবাহিনী যখন অভিযান শুরু করে, তখন বিবিসি উর্দু বিভাগের ওয়েবসাইটে ছদ্মনামে একটা ডায়েরি লিখছিল মালালা। তালেবানদের বিরুদ্ধে শিক্ষাযুদ্ধের ঘোষণা দেয়ায় তাকে পড়তে হয় রোষানলে। গত ৯ অক্টোবর পাকিস্তানের সোয়াত উপত্যকায় তালেবান সদস্যদের গুলিতে আহত হন মালালা। স্কুল থেকে বাড়ি ফেরার পথে খুব কাছ থেকে তার মাথায় গুলি করা হয়। আন্তর্জাতিক চাপের মুখে গুলিবিদ্ধ মালালাকে ১৫ অক্টোবর উন্নত চিকিত্সার জন্য লন্ডনের বার্মিংহামে এলিজাবেথ হাসপাতালে নেয়া হয়। এখন পুরোপুরি সেরে উঠেছে সে। এ বছর শান্তিতে নোবেল পুরস্কারের জন্য মনোনয়নের তালিকায় রয়েছে তার নাম।