প্রধানমন্ত্রী বরং পাকিস্তান কিংবা আশপাশের কোন দেশে চলে যেতে পারেন
প্রকাশ : ২৮ মার্চ ২০১৩, ২২:৪৫
বিরোধীদলীয় নেত্রী বেগম খালেদা জিয়াকে উদ্দেশ্য করে গত বুধবার প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার দেয়া বক্তব্যের তীব্র নিন্দা ও সমালোচনা করেছেন বিএনপির ভারপ্রাপ্ত মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর। ‘আমাদের আর জ্বালাইয়েন না, পাকিস্তান চলে যান’ শেখ হাসিনার এই বক্তব্যের পরিপ্রেক্ষিতে মির্জা ফখরুল বলেছেন, ওয়ান-ইলেভেনের পরেও দেশের বাইরে চলে যাবার জন্য খালেদা জিয়ার ওপর প্রচণ্ড চাপ ছিল। শেখ হাসিনার ওপরও একই রকমের চাপ ছিল। কিন্তু খালেদা জিয়া সেদিন দেশের বাইরে যাননি, গিয়েছিলেন শেখ হাসিনা। কাজেই এখনও যদি কাউকে বিদেশে চলে যেতে হয়, তাহলে বরং প্রধানমন্ত্রীই যেতে পারেন। পাকিস্তান কিংবা আশপাশের কোনো দেশে তিনি ইচ্ছে করলে চলে যেতে পারেন। কারণ তার সে অভ্যাস রয়েছে। ১৮ দলের ডাকা ৩৬ ঘণ্টার হরতাল শেষে গতকাল বৃহস্পতিবার রাজধানীর নয়াপল্টনে বিএনপির কেন্দ্রীয় কার্যালয়ে সাংবাদিক সম্মেলনে তিনি এ সব কথা বলেন।
মির্জা ফখরুল আরও বলেন, খালেদা জিয়া ’৮২ সালে ও এর পরবর্তী সময়ে রাজপথে স্বৈরাচার বিরোধী আন্দোলন করেছেন। তখনও তিনি দেশ ছেড়ে যাননি। ওয়ান ইলেভেনের পর বিদেশে যাবার সময় বর্তমান প্রধানমন্ত্রী বলেছিলেন, তাদের (ওয়ান ইলেভেনের কুশীলবদের) সকল কার্যক্রমের বৈধতা দেয়া হবে। ক্ষমতায় এসে এ সরকার সেই বৈধতা দিয়েছে। এমনকি ওয়ান ইলেভেন যারা ঘটিয়েছেন তাদের কারও বিচার করেননি বর্তমান প্রধানমন্ত্রী।
বিএনপির ভারপ্রাপ্ত মহাসচিব বলেন, সরকার ক্রমান্বয়ে দেশকে ভয়াবহ নৈরাজ্যের দিকে নিয়ে যাচ্ছে। প্রধানমন্ত্রী যে ভাষায় কথা বলছেন তা গণতন্ত্রের ভাষা নয়। স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী দেখামাত্র গুলির নির্দেশ দিয়েছেন। সরকারের এ ধরনের হিংস , বেআইনি ও লাগামহীন বক্তব্য আওয়ামী লীগের অপরাজনীতির দেউলিয়াত্বের বহিঃপ্রকাশ। জাতির সঙ্গে প্রতারণা করে ক্ষমতায় এসে তারা এখন বেপরোয়া লুটপাট ও সীমাহীন দুর্নীতি করে হিংস হয়ে উঠেছে, তারা একটি ফ্যাসিস্ট সরকার। সে কারণে বর্তমান সরকার জানে যে, এবার ক্ষমতাচ্যুত হলে পুনরায় ক্ষমতাসীন হওয়া তাদের ভাগ্যে নাও জুটতে পারে। তাই তারা একদলীয় নির্বাচন চায়, একদলীয় শাসন চায়।
ফখরুলের দাবি, ৩৬ ঘন্টার হরতালে ঢাকাসহ সারাদেশে বিরোধী দলের ৫৭৫ জনকে গ্রেফতার ও ৯৩৫ জনের বেশি নেতা-কর্মীকে আহত করা হয়। এসময়ে ১৯৩৮ জনের অধিক নেতা-কর্মীর বিরুদ্ধে ‘মিথ্যা’ মামলা দায়ের এবং ৬ জনকে ভ্রাম্যমাণ আদালত এক বছর করে সাজা দিয়েছে। তিনি অবিলম্বে আটককৃতদের মুক্তি এবং এসব মামলা প্রত্যাহারের দাবি জানান।