হরতাল অবরোধে আকাশ কিংবা নৌপথে পণ্য পরিবহনের চিন্তা

বিমান বাহিনীর পণ্যবাহী বিমান দিয়ে আকাশ পথে এবং নৌ-বাহিনীর জাহাজ দিয়ে নৌপথে আমদানি ও রপ্তানিমুখী পণ্য পরিবহনের চিন্তা-ভাবনা চলছে। হরতাল-অবরোধসহ সহিংস পরিস্থিতিতে বিকল্প পথে ব্যবসা-বাণিজ্য সচল রাখার জন্য সরকারের পক্ষ থেকে এ ধরনের চিন্তা-ভাবনা করা হচ্ছে। বিরোধী রাজনৈতিক দলগুলোর ডাকা একের পর এক হরতালের মুখে আমদানি-রপ্তানি বাণিজ্যে সৃষ্টি হওয়া সংকট নিয়ে ব্যবসায়ীদের পক্ষ থেকে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার কাছে ফের উদ্বেগ প্রকাশ করে প্রতিকার চাওয়া হলে প্রধানমন্ত্রী তাত্ক্ষণিকভাবে এই চিন্তা-ভাবনার কথা জানান। একইসঙ্গে প্রধানমন্ত্রী চট্টগ্রাম ও মংলা বন্দরের সঙ্গে সংযোগরক্ষাকারী ঢাকা-চট্টগ্রাম ও মংলা-ঢাকা মহাসড়কে পণ্য পরিবহনে নিশ্চিদ্র নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে পুলিশ মহাপরিদর্শককে নির্দেশ দেন। ‘‘সোনার বাংলা গড়ার প্রত্যয়; জাতীয় শুদ্ধাচার কৌশল’’ বাস্তবায়নে দিক- নির্দেশনা প্রদানের লক্ষ্যে গঠিত জাতীয় শুদ্ধাচার উপদেষ্টা পরিষদের প্রথম সভায় উত্থাপিত আলোচনার পরিপ্রেক্ষিতে প্রধানমন্ত্রী তার সিদ্ধান্তের কথা জানান বলে সভা সূত্রে জানা গেছে। গতকাল বৃহস্পতিবার প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ে অনুষ্ঠিত এ সভায় সভাপতিত্ব করেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। অর্থ, আইন, স্থানীয় সরকার, স্বরাষ্ট্র, তথ্য, শিক্ষা, প্রাথমিক ও গণশিক্ষা মন্ত্রী, প্রধানমন্ত্রীর জনপ্রশাসন ও আন্তর্জাতিক বিষয়ক উপদেষ্টা, প্রধান নির্বাচন কমিশনার, দুর্নীতি দমন কমিশন, মানবাধিকার কমিশন, বিশ্ববিদ্যালয় মঞ্জুরী কমিশন, প্রেস কাউন্সিল, সরকারি কর্মকমিশনের চেয়ারম্যানগণ, মন্ত্রিপরিষদ সচিব, মুখ্য সচিব, কয়েকজন সংসদ সদস্য, অ্যাটর্নী জেনারেল, বেশ কয়েকজন সচিব, এফবিসিসিআই, এমসিসিআই, বিজিএমইএসহ এনজিও প্রতিনিধিরাও এ সভায় উপস্থিত ছিলেন। তবে এ বিষয়ে জানতে চাইলে এফবিসিসিআই সভাপতি আকরাম উদ্দিন আহমেদ কোনো মন্তব্য করতে রাজি হননি। বিজিএমইএ’র সভাপতি আতিকুল ইসলাম এ প্রসঙ্গে ইত্তেফাককে বলেন, হরতাল-অবরোধসহ সহিংস পরিস্থিতিতে ব্যবসায়ীদের উদ্বেগের কথা প্রধানমন্ত্রীকে জানানো হয়েছে। তিনি বলেছেন, কিভাবে আমদানি-রপ্তানি পণ্য হরতালের ছোবল মুক্ত রাখা যায় সে বিষয়ে পদক্ষেপ নিতে প্রধানমন্ত্রীকে অনুরোধ জানানো হয়েছে। আতিকুল ইসলাম আরো জানান, জবাবে প্রধানমন্ত্রী বলেছেন, সরকার কোনক্রমেই চান না যে, কোনও পণ্য আটকা থাকুক। আমদানি-রপ্তানিতে যাতে কোনো অসুবিধা না হয় সে বিষয়টি প্রধানমন্ত্রী দেখবেন বলে তিনি ব্যবসায়ীদের আশ্বস্ত করেন। সভার সঙ্গে যুক্ত একাধিক দায়িত্বশীল সূত্র নিশ্চিত করেছে যে, প্রধানমন্ত্রী সভায় দৃঢ়তার সঙ্গেই বলেছেন যে, তার সরকার আর কোনক্রমেই অর্থনৈতিক বা ব্যবসা বাণিজ্যের ক্ষতি হতে দেবে না। এ জন্য সকল ক্ষেত্রে একাধিক বিকল্প উপায় সরকার ভাবছে। শুধু সড়কের নিরপত্তা দিয়ে যে আমদানি-রপ্তানি পণ্যের পরিবহন নিশ্চিত করা হবে তাই নয়, প্রয়োজনে আকাশ কিংবা নৌপথও ব্যবহার করার বিষয়টি সরকার সক্রিয়ভাবে চিন্তা করছে। তিনি বলেন, বিমান বাহিনী ও নৌ-বাহিনীর যেসব পণ্যবাহী জাহাজ ও কার্গো রয়েছে ব্যবসার স্বার্থে প্রয়োজনে সেগুলো ব্যবহার করা যেতে পারে। ব্যবসা-বাণিজ্যের ক্ষতি পুষিয়ে নিতেও সরকারের চিন্তাভাবনা রয়েছে বলে তিনি উল্লেখ করেন। শুদ্ধাচার কৌশল: শুদ্ধাচার কৌশলে ১০টি রাষ্ট্রীয় ও ৬টি বেসরকারি প্রতিষ্ঠান অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছে। রাষ্ট্রীয় প্রতিষ্ঠানগুলো হচ্ছে- নির্বাহী ও জনপ্রশাসন, জাতীয় সংসদ, বিচার বিভাগ, নির্বাচন কমিশন, অ্যাটর্নী জেনারেল, সরকারি কর্ম-কমিশন, মহাহিসাব নিরীক্ষক ও নিয়ন্ত্রকের কার্যালয়, ন্যায়পাল, দুর্নীতি দমন কমিশন ও স্থানীয় সরকার। বেসরকারি বা অরাষ্ট্রীয় প্রতিষ্ঠানগুলো হচ্ছে- রাজনৈতিক দল, বেসরকারি খাতের শিল্প ও বাণিজ্যিক প্রতিষ্ঠান, এনজিও এবং সুশীল সমাজ, পরিবার, শিক্ষা প্রতিষ্ঠান ও গণমাধ্যম। জানা যায়, রাষ্ট্র ও সমাজে শুদ্ধাচার প্রতিষ্ঠার জন্য রাষ্ট্র ও সমাজে দুর্নীতি দমনকে সর্বোচ্চ অগ্রাধিকার দেয়া হচ্ছে। এ লক্ষ্যে চিহ্নিত প্রতিষ্ঠানের মাধ্যমে আইন ও বিধি বিধানের সুষ্ঠু প্রয়োগ, পদ্ধতিগত সংস্কার, উন্নয়ন এবং সক্ষমতা বৃদ্ধি করা হবে। এ ছাড়া এসব প্রতিষ্ঠানে নিয়োজিত এবং এদের সঙ্গে সংশ্লিষ্ট সকলের চরিত্রনিষ্ঠা বিকাশের লক্ষ্যে নানামুখী কাজ হাতে নেয়া হচ্ছে। এসব সিদ্ধান্ত বাস্তবায়নের জন্য এক বছরের স্বল্প, তিন বছরের মধ্য ও পাঁচ বছরে বাস্তবায়নযোগ্য দীর্ঘমেয়াদী পরিকল্পনা প্রণয়ন করা হয়েছে।