সীমান্তে শিশুরা গুলি খেয়ে মরছে
প্রকাশ : ২৯ মার্চ ২০১৩, ১৫:৪৫
‘সীমান্তে শিশুরা নির্বিচারে গুলি খেয়ে মরছে’ বলতে গিয়ে কান্নায় ভেঙে পড়েন মেহেরপুর জেলার চাইল্ড পার্লামেন্টের সদস্য শামস্ শাহরিয়ার। তিনি আরো বলেন, মাননীয় স্পীকার আমরা সীমান্তে থাকি বলে কি আমাদের বাঁচার অধিকার নেই। আমাদের শিশুরা খেলতে খেলতে কখনো কখনো নো মেন্স ল্যান্ডে চলে যায়। তখন ভারতীয় সীমান্ত রক্ষীরা তাদের হত্যা করছে। আমি পররাষ্ট্রমন্ত্রী ডা. দীপু মনিকে অুনরোধ জানাই যাতে এ বিষয়ে সমাধানের ব্যবস্থা করেন।
অন্যদিকে যশোর জেলার সদস্য লোমাত্ সুইমা বলেন, মাননীয় স্পীকার আমাদের দেশে শিশু পাচারের পরিমাণ বেড়েই চলেছে। এসব শিশুর বেশিরভাগই পাচার হয় ভারত ও মধ্যপ্রাচ্যে। এদের সেখানে যৌন কাজের জন্য পাচার করা হয়। অন্য দেশে গিয়ে তারা যখন গ্রেফতার হয় তাদের বেশিরভাগ ক্ষেত্রেই আইনী সুবিধা দেয়া হয় না।
ঢাকা জেলার সদস্য মাহমুদুল হাসান শিশুদের যৌন হয়রানির বিষয়ে বলেন, মাননীয় স্পীকার শিশু যৌন হয়রানির শিকার হলে তারা বলতে পারে না। সরকার বড়দের জন্য যৌন হয়রানির অভিযোগে করতে হট লাইনের ব্যবস্থা করেছে। কিন্তু শিশুদের যৌন হয়রানির বিষয়ে কোনো হটলাইনের ব্যবস্থা রাখেনি। মাননীয় স্পীকার সরকারের এ বিষয়ে একটি শিশুবান্ধব হটলাইনের ব্যবস্থা করা উচিত।
এভাবেই একের পর এক সমস্যাগুলো চাইল্ড পার্লামেন্টের ১১তম অধিবেশনে তুলে ধরেছিলেন শিশু সাংসদরা। চাইল্ড পার্লামেন্টের স্পিকার এস.এম. শাহিরয়ার সিফাতের সভাপতিত্বে এ অধিবেশন সম্প্রতি রাজধানীর শেরে বাংলানগরস্থ এলজিইডি ভবন মিলনায়তনে অনুষ্ঠিত হয়। সেভ দ্য চিলড্রেন, মানুষের জন্য ফাউন্ডেশন ও প্ল্যান বাংলাদেশ-এর আয়োজনে এ অধিবেশনে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন পররাষ্ট্রমন্ত্রী ডা. দীপু মনি।
অধিবেশনে চাইল্ড পার্লামেন্টের অন্য এক সদস্য বলেন, মাননীয় স্পীকার, বেদে ও ভাসমান শিশুরা বেশিরভাগ জায়গায় যৌন নিপীড়নের শিকার হয়। তাদের মানুষ বলে কেউ স্বীকৃতি দিতে চায় না। বগুড়ার সদস্য জাহিদুল করিম নিশান বলেন, মাননীয় স্পীকার, শিশুদের ওপর থেকে নির্যাতন দূর করার জন্য সরকারের আইনের যথাযথ প্রয়োগ করতে হবে। এক্ষেত্রে রক্ষককে ভক্ষক হলে চলবে না। অপর এক চাইল্ড পার্লামেন্ট সদস্য অধিবেশনে পথশিশুদের একটি নির্দিষ্ট ডাটাবেজ তৈরির সুপারিশ করেন।
অধিবেশনে চাইল্ড পার্লামেন্ট সদস্যদের বিভিন্ন দাবি ও পরামর্শ উপস্থাপন শেষ হলে প্রধান অতিথি পররাষ্ট্রমন্ত্রী ডা. দীপু মনি বক্তব্য রাখেন। এ সময় তিনি তার বক্তব্যে বলেন, রাতের অন্ধকারে মাদক ব্যবসার সাথে সীমান্তে শিশুরা জড়িত। এ ধরনের অনৈতিক কার্যকলাপ বন্ধে সকলের মধ্যে সচেতনতা তৈরী করতে হবে। এ ছাড়া শিশু পাচার সম্পর্কে সরকার সচেতন। কোন একটি দেশ শিশু পাচার বন্ধে ব্যবস্থা নিলে হবে না, সুনির্দিষ্ট ইস্যুতে আঞ্চলিকভাবে কাজ করতে হবে। তিনি আরো বলেন, রাতের অন্ধকারে সীমান্তে শিশুসহ সকল ধরনের হত্যাকাণ্ড বন্ধ করতে হবে। সীমান্তে হত্যাকাণ্ড বন্ধে দুই দেশের সরকার আন্তরিকতার সাথে কাজ করছে। সীমান্তে হত্যাকাণ্ড পরিহার করে ভিন্ন পন্থা অবলম্বন করতে হবে।