রংপুর অঞ্চলে ঘনঘন লোডশেডিং
ওয়াদুদ আলী, রংপুর প্রতিনিধি
প্রকাশ : ২৯ মার্চ ২০১৩, ২১:১৯
ঘন ঘন লোডশেডিংয়ের ফলে রংপুর অঞ্চলের মানুষের দুর্ভোগ চরমে উঠেছে। এর ফলে চরম বিপাকে পড়েছে এইচএসসি ও জেএসসি পরীক্ষার্থীরা। অপরদিকে বিদ্যুত্ বিভ্রাটের কারণে হিমাগারের আলু নষ্ট হয়ে যাওয়ায় আর্থিকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছেন ব্যবসায়ীরা। বিদ্যুত্ না থাকায় বোরো চাষিরা জমিতে সেচ দিতে পারছে না।
বিদ্যুত্ বিভাগ সূত্রে জানা যায়, রংপুর বিভাগের অধীন রংপুর, দিনাজপুর, পঞ্চগড়, ঠাকুরগাঁও, নীলফামারী, কুড়িগ্রাম, লালমনিরহাট ও গাইবান্ধা জেলায় বিদ্যুত্চালিত সেচযন্ত্র রয়েছে প্রায় ৬৩ হাজার। এর মধ্যে গভীর নলকূপ প্রায় সাড়ে ৫ হাজার, অগভীর নলকূপ প্রায় ৫৭ হাজার। পাওয়ার পাম্প রয়েছে প্রায় আড়াইশটি। চলতি বোরো চাষ মৌসুমে বিদ্যুতের চাহিদা ৩৭০ মেগাওয়াট। বিদ্যুত্ বিভাগ সেচ সুবিধা দেয়ার জন্য প্রায় সাড়ে ৩শ’ মেগাওয়াট বিদ্যুত্ সরবরাহের আশ্বাস দিলেও সেখানে সরবরাহ করা হচ্ছে সর্বোচ্চ ২শ’ মেগাওয়াটের কিছু বেশি। এদিকে রেশনিং পদ্ধতিতে বিদ্যুত্ সরবরাহ করার কারণে জেলাওয়ারি বিদ্যুতের লোডশেডিং অনেক বেড়েছে।
অপরদিকে রংপুর মহানগরীতে দৈনিক কমপক্ষে ৭/৮ ঘণ্টা বিদ্যুত্ সরবরাহ বন্ধ থাকায় শিক্ষার্থীসহ সর্বস্তরের মানুষের দুর্ভোগ চরমে উঠেছে। গ্রামাঞ্চলে লোডশেডিং ১২ ঘণ্টা পর্যন্ত হচ্ছে। লোডশেডিংয়ের কারণে বোরো চাষাবাদ চরমভাবে ব্যাহত হচ্ছে। গঙ্গাচড়া উপজেলার কোলকোন্দ ইউনিয়নের কৃষক আব্দুল আউয়াল জানান, সারাদিন বিদ্যুত্ না থাকায় তার জমির বোরো ধানের ক্ষেত হুমকির মুখে পড়েছে। জমিতে দেখা দিয়েছে ফাটল। এদিকে লো-ভোল্টেজ এবং অব্যাহত লোডশেডিংয়ের ফলে বৈদ্যুতিক সেচযন্ত্র নষ্ট হয়ে যাচ্ছে। কৃষি বিভাগ সূত্রে জানা যায়, গত ১ মাসে রংপুরের বিভিন্ন এলাকায় প্রায় আড়াইশ’ বিদ্যুত্চালিত সেচযন্ত্রের মোটর পুড়ে গেছে। নতুন সেচযন্ত্র কিনতে গিয়ে কৃষকরা হিমশিম খাচ্ছেন।
এ ব্যাপারে বিদ্যুত্ উন্নয়ন বোর্ড রংপুর অঞ্চলের প্রধান প্রকৌশলী এবিএম মিজানুর রহমান বলেন, রংপুর অঞ্চলে রাত ১১টা থেকে সকাল ৭টা পর্যন্ত সেচের পিকআওয়ারে চাহিদার ৩৭০ থেকে ৩৮০ মেগাওয়াট বিদ্যুত্ সরবরাহ করা হচ্ছে। তবে পল্লী বিদ্যুত্ এলাকায় কারিগরি ত্রুটির কারণে লোডশেডিং হচ্ছে। সেচের জন্য রাতে নিরবচ্ছিন্ন বিদ্যুত্ সরবরাহ করায় দিনের বেলায় মহানগরীর কিছু কিছু এলাকায় লোডশেডিং হচ্ছে। রংপুর পল্লী বিদ্যুত্ সমিতি-২ জিএম নরেন্দ্রনাথ সরকার জানান, রাতে সেচ প্রদানের সময় চাহিদা অনুযায়ী বিদ্যুত্ পাওয়া যাচ্ছে। তবে দিনের বেলায় চাহিদার মাত্র ৪০ ভাগ পাওয়া যাচ্ছে।