রাজনৈতিক কারণে সংখ্যালঘুদের উপর নির্যাতন হচ্ছে

ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের গোলটেবিল বৈঠকে বক্তারা বলেছেন, রাজনৈতিক কারণে দেশে সংখ্যালঘুরা আক্রান্ত হচ্ছেন। হামলাকারীরা রাজনৈতিক ছত্রচ্ছায়ায় থেকেই নির্যাতন চালাচ্ছে। পাশাপাশি অনেক নারীও নির্যাতনের শিকার হচ্ছেন। জনপ্রতিনিধিরা এলাকায় যাচ্ছেন না। সাম্প্রদায়িক হামলায় প্রশাসনিক ব্যর্থতার বড় কারণ এটি। ধর্ম নিয়ে রাজনীতি বন্ধ করতে হবে। এ ব্যাপারে সরকারকে কঠোর পদক্ষেপ নিতে হবে। তাহলে সংখ্যালঘুদের উপর হামলা বন্ধ হবে। গতকাল শুক্রবার ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ছাত্র-শিক্ষক কেন্দ্রের (টিএসসি) ক্যাফেটেরিয়ায় সম্প্রীতি মঞ্চ আয়োজিত ‘সংখ্যালঘু নির্যাতন প্রতিরোধে আমাদের করণীয়’ শীর্ষক গোলটেবিল বৈঠকে বক্তারা এ কথা বলেন। বৈঠকে জাতীয় মানবাধিকার কমিশনের চেয়ারম্যান অধ্যাপক মিজানুর রহমান বলেন, বাঁশখালী ও গাইবান্ধায় সংখ্যালঘুদের হামলার চিত্র দেখেছি। সেখানকার মানুষ নিরাপত্তা নিয়ে শঙ্কিত। সভ্যতা নিয়ে শংকায় পড়তে হয়। আগামী ২০ বছরের মধ্যে দেশে কোনো হিন্দু থাকবে না। এদের রক্ষার জন্য আমাদের এগিয়ে আসতে হবে। সংবাদ মাধ্যমকে অধিক দায়িত্ব নিয়ে কাজ করতে হবে। সংবাদ বিপণন করা থেকে বেরিয়ে আসতে হবে। সাদাকে সাদা ও কালোকে কালো বলতে হবে। সংখ্যালঘুদের পাশে দাঁড়াতে হবে গণমাধ্যমকে। প্রবীণ রাজনীতিক হায়দার আকবর খান রনো বলেন, সংখ্যালঘু শব্দটিই আপত্তিকর। বিএনপির মতো দল জামায়াতের পাশে থাকাতে তাদের শক্তি বেড়ে গেছে। এই ধরনের আক্রমণ আগেও হয়েছে। তখন সব রাজনৈতিক দল একত্রে এসে দাঁড়িয়েছিল। এইবার এক মাসের বেশি সময় এই ধরনের ঘটনা ঘটলেও তা প্রতিহত করা হচ্ছে না। এই ঘটনা অবশ্যই রাজনৈতিক। ডাকসুর সাবেক ভিপি ও সিপিবি’র সভাপতি মুজাহিদুল ইসলাম সেলিম বলেন, আওয়ামী লীগ ও বিএনপি দুটোই বুর্জোয়া রাজনৈতিক দল। তা না হলে রায়ের আগে কেন জামায়াতকে মতিঝিলে সমাবেশ করতে দেয়া হলো। সম্প্রীতি মঞ্চের সভাপতি অধ্যাপক অজয় রায়ের সভাপতিত্বে বৈঠকে অন্যান্যের মধ্যে বক্তব্য রাখেন ডাকসুর সাবেক ভিপি মাহফুজা খানম, অধ্যাপক গোলাম রব্বানী, রোবায়েত ফেরদৌস, উন্নয়নকর্মী জ্যোতিকা চট্টোপাধ্যায়, আদিবাসী নেতা সঞ্জীব দ্রং, সাংবাদিক সোহরাব হাসান।