পণ্য পরিবহনে ভাড়া বেড়েছে দ্বিগুণ

টানা হরতাল এবং রাজনৈতিক অস্থিরতায় পণ্য পরিবহনের ভাড়া দ্বিগুণেরও বেশি বেড়েছে। গত বুধ এবং বৃহস্পতিবারের হরতালের পর গতকাল শুক্রবার পরিবহন ভাড়া করতে গিয়ে অনেকের মাথায় বাজ পড়েছে। চট্টগ্রাম-ঢাকা রুটে পণ্যবাহী কাভার্ড ভ্যানের ভাড়া সাধারণত ১৫ হাজার টাকার কাছাকাছি থাকলেও গতকাল তা হয়েছে ৩০ হাজার টাকার ওপরে। চট্টগ্রামের বিভিন্ন পরিবহন ব্যবসায়ী এবং আমদানিকারকদের সাথে কথা বলে জানা গেছে, হরতালের কারণে চট্টগ্রাম বন্দর এবং বিভিন্ন বেসরকারি কন্টেইনার ডিপোতে বিপুল পরিমাণ পণ্য জমা পড়েছে। হরতাল শেষ হবার পর খালাসকৃত পণ্য সরবরাহে একপ্রকার প্রতিযোগিতা পড়ে। এজন্য বাজারে পরিবহনের সংকট দেখা দেয়। আর এ সুযোগে পরিবহনের মালিকরা ভাড়া বাড়িয়ে দিয়েছে। শুধু আমদানি করা পণ্যের ক্ষেত্রেই নয়, রফতানির ক্ষেত্রেও একই সমস্যায় পড়েছেন উদ্যোক্তারা। ঢাকা-চট্টগ্রাম রুটেও পরিবহন ভাড়া বেড়েছে অনেকখানি। গত সোমবার চট্টগ্রামে দিনব্যাপী হরতাল ছিলো। এরপর ২৬ মার্চ সরকারি ছুটির দিন। বুধ ও বৃহস্পতিবার দু’দিনের হরতাল। একজন পরিবহন ব্যবসায়ী বলেন, এ সময়ে পণ্য পরিবহন প্রায় বন্ধ ছিলো। এ কারণে চট্টগ্রামে আমদানিকৃত পণ্যের স্তূপ জমে আছে। এসব পণ্য পরিবহনের জন্য আমদানিকারকদের তাগাদাও রয়েছে। বাজারে গাড়ির তীব্র সংকট থাকায় ভাড়া বেড়েছে। এছাড়া কয়েকদিনের হরতালে গাড়ি বন্ধ থাকার কারণে অনেকে ভাড়া বাড়িয়ে তাদের ক্ষতি পুষিয়ে নিতে চাচ্ছেন। একজন আমদানিকারকের সাথে কথা বললে তিনি জানান, বন্দরে বা বেসরকারি কন্টেইনার ডিপোতে আমদানি করা পণ্য পড়ে থাকলে তার বিপরীতে বাড়তি টাকা গুনতে হয়। এজন্য অনেকে তড়িঘড়ি করে এসব পণ্য গন্তব্যে নিয়ে যেতে চায়। ওই আমদানিকারক জানান, দৈনিক ক্ষতিপূরণ থেকে বাঁচতে অনেকে দ্রুত পণ্য খালাস করলেও তাকে বাড়তি পরিবহন ভাড়া গুনতে হয়। বাড়তি এ পরিবহন ভাড়া উত্পাদন ব্যয়ের সাথে যোগ হয়। এদিকে, রাজনৈতিক অস্থিরতার কারণে দেশের পণ্য সরবরাহ ব্যবস্থা ভেঙ্গে পড়েছে। অনিশ্চিত পরিবহন ব্যবস্থার কারণে আমদানি পণ্য খালাস করতে বিলম্ব যেমন হচ্ছে, সাথে সাথে দেশে উত্পাদিত পণ্যও সরবরাহ করা যাচ্ছে না। যেসব উদ্যোক্তা পণ্য রফতানির জন্য কাঁচামাল আমদানি করেন তাদের অবস্থা আরো করুণ। হরতাল এবং রাজনৈতিক অস্থিরতার কারণে পরিবহন বন্ধ থাকায় চট্টগ্রাম বন্দরে অনেকের কাঁচামাল আটকে গেছে। বিশেষ করে তৈরি পোশাক শিল্পের বিভিন্ন কাঁচামাল তুলা এবং অন্যান্য পণ্য চট্টগ্রাম বন্দর থেকে খালাস করা যাচ্ছে না। জানা গেছে, শুধু রফতানি বা আমদানির ক্ষেত্রেই নয়, দেশের উত্পাদিত পণ্য বিভিন্ন জায়গায় বিতরণের ক্ষেত্রেও উদ্যোক্তারা সমস্যায় পড়েছেন। রাস্তায় গাড়ী আক্রান্ত হওয়ায় অনেকে পণ্য পরিবহনে উত্সাহিত হচ্ছেন না। এতে করে সরবরাহে ঘাটতি দেখা দেয়ায় বিভিন্ন পণ্যের দাম বেড়েছে।