বিশ্বব্যাংকের সহায়তাপুষ্ট প্রকল্প নিয়ে ত্রিপক্ষীয় বৈঠক আজ

২০০৮ সালের জুন মাসে জরুরি ঘূর্ণিঝড় মোকাবেলা এবং পুনরুদ্ধার প্রকল্পটি গ্রহণ করা হলেও ২১ কোটি ৬৮ লাখ ডলারের প্রকল্পটিতে চলতি বছরের জানুয়ারি সময় পর্যন্ত মাত্র ৩৭ শতাংশ অর্থছাড় করা হয়েছে। ঢাকা শহরের পানি সরবরাহ ও পয়ঃনিষ্কাশন প্রকল্পটি বিশ্বব্যাংকের অনুমোদন পায় ২০০৮ সালে। চলতি বছরের জুনে প্রকল্পটির জন্য বিশ্বব্যাংকের ঋণ চুক্তির মেয়াদ শেষ হচ্ছে। কিন্তু প্রকল্পের ১৪ কোটি ৫০ লাখ ডলারের মধ্যে এখন পর্যন্ত দাতা সংস্থার অর্থছাড় আটকে আছে ১৩ কোটি ১১ লাখ ডলার। অর্থাত্ ছাড় হয়েছে মাত্র ২০ দশমিক ৫ শতাংশ। এরকম সমস্যাযুক্ত ১৩ প্রকল্প বাস্তবায়নে গতি আনতে বিশ্বব্যাংকের সঙ্গে আজ শনিবার বৈঠকে বসছে অর্থনৈতিক সম্পর্ক বিভাগ (ইআরডি) ও বাস্তবায়নকারী সংস্থাগুলো। ইতিপূর্বেও বিশ্বব্যাংকসহ অন্যান্য যৌথ সহায়তাকারী দাতা সংস্থার সঙ্গে দফায় দফায় বৈঠকও হয়েছে। কিন্তু বেশকয়েকটি প্রকল্প সমস্যাগ্রস্তের তালিকা থেকে বের হতে পারছে না। এ ধরনের প্রকল্পগুলো বাদ দেয়ার মতো কঠিন সিদ্ধান্ত নেয়া হতে পারে বলে ইআরডি’র কর্মকর্তা জানান। সমস্যাগ্রস্ত অন্যান্য প্রকল্পগুলোর বিষয়ে ইআরডি সূত্র জানায়, অক্ষম শিশুদের জীবনমান উন্নয়নে নেয়া ডিজ্যাবিলিটি অ্যান্ড চিলড্রেন অ্যাট রিস্ক প্রকল্পে অর্থছাড় হয়েছে মাত্র ৬ দশমিক ৬ শতাংশ। এ প্রকল্পের জন্য মাত্র ৩ কোটি ৫০ লাখ ডলার ঋণ কার্যকর হয় ২০০৯ সালে। এছাড়া আইডিইএ প্রকল্পে দুই বছরে বিশ্বব্যাংকের ঋণের মাত্র দশমিক দুই শতাংশ অর্থছাড় হয়েছে। প্রকল্পের আওতায় জাতীয় ন্যাশনাল আইডেন্টিফিকেশন রেজিস্ট্রেশন অ্যাক্টসহ বিভিন্ন কার্যক্রম অন্তর্ভুক্ত আছে। বেসরকারি খাত উন্নয়ন প্রকল্পে অর্থছাড় হয়েছে মাত্র দশমিক ৯ শতাংশ। প্রকল্পটির জন্য ১২ কোটি ডলার ঋণচুক্তি হয় ২০১১ সালে। চট্টগ্রাম পানি সরবরাহ ব্যবস্থার উন্নয়ন প্রকল্পটি দুই বছরে অর্থছাড় হয়েছে দশমিক ৩ শতাংশ। এ প্রকল্পের এখনও প্রস্তুতিমূলক কার্যক্রম শেষ হয়নি। ক্লিন এয়ার এন্ড সাসটেইনেবল এনভারনমেন্ট প্রকল্পটি অনুমোদন লাভ করে ২০০৯ সালের ১২ মে। আর সমাপ্ত হওয়ার কথা ছিল ২০১৪ সালের ৩১ ডিসেম্বর। এটি বাস্তবায়নে প্রতিশ্রুত অর্থ ছিল ৬ কোটি ২২ লাখ মার্কিন ডলার, এর মধ্যে ছাড় হয়েছে ৩৩ শতাংশ অর্থ। সূত্র জানায়, প্রকল্পগুলোর সর্বশেষ অগ্রগতি এবং ভবিষ্যত্ নির্ধারণে এ বৈঠকের আহ্বান করা হয়েছে। কিছু কিছু প্রকল্প দীর্ঘমেয়াদী হয়ে পড়ায় বাতিলও হয়ে যেতে পারে।