প্রতারণার শিকার ঈশ্বরদীর স্কুলশিক্ষিকা সাবিনা

স্কুল শিক্ষিকা সাবিনা ইয়াসমিন প্রতারণা ও জালিয়াতির শিকার হয়েছেন বলে অভিযোগ পাওয়া গেছে। ঈশ্বরদী আলহাজ্ব টেক্সটাইল উচ্চ বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক পাবনা জেলা শিক্ষা অফিসারের সাথে যোগসাজশে জালিয়াতির মাধ্যমে ১২ বছর ধরে উক্ত চাকরিরত শিক্ষিকাকে বিতাড়িত করেছেন বলে প্রকাশ। সহকারী শিক্ষিকা সাবিনা ইয়াসমিন শনিবার প্রেসক্লাবে সাংবাদিকদের জানান, ২০০২ সালের মে মাসে তিনি এমপিওভুক্ত ( ইনডেক্স নম্বর ৫৬২২৯৩) হই। গত জানুয়ারি মাস পর্যন্তও বেতন-ভাতা যথারীতি উত্তোলন করেছি। সাবিনা বলেন, ফেব্রুয়ারি এমপিওতে বাদ পড়ার কারণ সম্পর্কে প্রধান শিক্ষক মোজাম্মেল হককে জিজ্ঞেস করলে তিনি ভুলবশত বাদ পড়েছেন বলে জানান। বিষয়টি নিয়ে সন্দেহ হলে তিনি জেলা শিক্ষা অফিসে খোঁজ নিয়ে জানতে পারেন, প্রধান শিক্ষক জালিয়াতি করে তার ভুয়া পদত্যাগপত্র জমা দিয়েছেন। জেলা শিক্ষা অফিসারের যোগসাজশে তার মাধ্যমে এমপিওতে তার পদ শূন্য দেখিয়ে আরেক শিক্ষক আশরাফুজ্জামানকে এমপিওভুক্ত করার জন্য গত ২০ জানুয়ারি মহাপরিচালক বরাবর পত্র প্রেরণ করেন। যে কারণে এমপিওতে তার নাম কাটা যায় এবং আশরাফুজ্জামানের নাম অন্তর্ভুক্ত হয় (ইনডেক্স নম্বর ১০৭২০৯১)। অথচ সাবিনা ৩০ মার্চও স্কুলে উপস্থিত হয়েছেন বলে জানান। এ বিষয়ে পাবনা জেলা শিক্ষা অফিস হতে মাধ্যমিক উচ্চ শিক্ষা অধিদপ্তরের মহাপরিচালক বরাবর প্রেরিত কাগজ পর্যালোচনা করে দেখা যায়, জেলা শিক্ষা অফিসার কুতুব উদ্দিন সহকারী শিক্ষিকা সাবিনা ইয়াসমিনের পদত্যাগজনিত শূন্য পদের কারণে এমপিও হতে নাম কর্তনের সুপারিশ করেছেন। পাশাপাশি ওই শূন্য পদে মো. আশরাফুজ্জামানকে এমপিওভুক্তের ব্যবস্থা গ্রহণের জন্য বলেছেন । জেলা শিক্ষা অফিসারের সাথে মোবাইলে যোগাযোগ করা হলে তিনি বলেন, অফিসে কাগজপত্র না দেখে কিছু বলা যাবে না। স্কুলের প্রধান শিক্ষক মোজাম্মেল হক রেজুলেশন ও স্বাক্ষর জালিয়াতির বিষয়টি অস্বীকার করে বলেন, আশরাফুজ্জামানকে এমপিওভুক্ত করার জন্য কিছু কাজ করা হয়েছিল, কিন্তু সাবিনার নাম যে বাদ পড়বে তা জানতাম না। সামনের এমপিওতে ঠিক হয়ে যাবে বলে তিনি জানান । এদিকে জালিয়াতির ঘটনা জানাজানি হলে গতকাল ৩০ মার্চ শনিবার সকালে শিক্ষক ও ম্যানেজিং কমিটির সদস্যরা স্কুলে উপস্থিত হয়ে ক্ষুব্ধ প্রতিক্রিয়া ব্যক্ত করেন। ম্যানেজিং কমিটির সদস্য মমতাজ উদ্দিন জানান, প্রধান শিক্ষক মোজাম্মেল হক সকলের সামনেই জালিয়াতির ঘটনার সত্যতা স্বীকার করেছেন। ম্যানেজিং কমিটি ও শিক্ষকরা গতকাল স্কুল বন্ধ করে দিয়ে আলোচনায় বসে প্রধান শিক্ষককে মৌখিকভাবে বরখাস্ত করেন। সহকারী প্রধান শিক্ষক জমসেদ আলীকে ভারপ্রাপ্ত প্রধান শিক্ষকের দায়িত্ব দেয়া হয়েছে বলে তিনি জানিয়েছেন। উল্লেখ্য, ৪ বোনের বিয়ে হলেও মা ও ছোট ভাইকে নিয়ে সংসারের টানাপড়েনে অবিবাহিত সাবিনার আয়ে এখন সংসার চলে।