সেচ খরচ বাড়ায়
সংকটে বোরো চাষ
প্রকাশ : ৩০ মার্চ ২০১৩, ২০:৪৯
ফুলবাড়ি (দিনাজপুর) সংবাদদাতা
সেচ মালিকদের পানি বাণিজ্যের যাঁতাকলে পড়ে বোরো আবাদ নিয়ে বিপাকে পড়েছেন দিনাজপুরের বোরো চাষিরা। ব্যক্তি মালিকানাধীন সেচ মালিকদের পাশাপাশি সরকার নিয়ন্ত্রণাধীন বরেন্দ্র বহুমুখী উন্নয়ন কর্তৃপক্ষ নিজ খেয়ালখুশি মতো সেচের মূল্য বৃদ্ধি করে সাধারণ কৃষকদের কাছ থেকে সেচ মূল্য আদায় করছেন বলে অভিযোগ পাওয়া গেছে। জানা গেছে, গত বছর বোরো মৌসুমে বরেন্দ্র বহুমুখী উন্নয়ন কর্তৃপক্ষ কৃষকের কাছ থেকে ঘন্টা প্রতি ৮৫ টাকা এবং একর প্রতি ২ হাজার ১০০ টাকা আদায় করলেও এ বছর তা বাড়িয়ে প্রতি ঘন্টা ১১০ টাকা এবং এলাকা ভেদে একর প্রতি ৩ হাজার ৫০০ টাকা হারে সেচ মূল্য আদায় করছে। ব্যক্তি মালিকানাধীন গভীর নলকূপগুলোতেও একই অবস্থা। গত বছর এলাকা ভেদে একর প্রতি ২ হাজার ৬০০ টাকা নেয়া হলেও এ বছর সর্বোচ্চ ৩ হাজার ৬০০ টাকা আদায় করা হচ্ছে।
উপজেলার কাজিহাল ইউনিয়নের পুখুরীহাট গ্রামের কৃষক আয়েজ উদ্দিন ও মোতালেব হোসেন বলেন, বরেন্দ্র বহুমুখী উন্নয়ন কর্তৃপক্ষ একর প্রতি ২ হাজার ৮০০ টাকা সেচ খরচ আদায় করছে। গত বছর ২ হাজার ২০০ টাকা ছিল। শিবনগর ইউনিয়নের দেবীপুর গ্রামের কৃষক নাজিম উদ্দিন ও আকতারুল ইসলাম বলেন, এখানে বরেন্দ্র বহুমুখী উন্নয়ন কর্তৃপক্ষ একর প্রতি ৩ হাজার ৮০০ টাকা সেচ খরচ আদায় করছে। গত বছর ছিল ২ হাজার ৮০০ টাকা।
ব্যক্তি মালিকানা গভীর নলকূপের মালিক শাহ্ মো. ইলিয়াছুর রহমান বলেন, ট্রান্সফরমার ওঠানো-নামানো খরচ ও বিদ্যুতের বিল বাড়ানো হয়েছে। তাছাড়া অধিকাংশ কৃষক বাকিতে জমিতে সেচ নেয়, ফসল তোলার পর অনেক পাওনা টাকা আদায়ও হয় না। বাধ্য হয়ে সেচ খরচ কিছুট বাড়ানো হয়েছে। বরেন্দ্র বহুমুখী উন্নয়ন কর্তৃপক্ষ ইউনিট-২ ফুলবাড়ী জোনের সহকারি প্রকৌশলী খাইরুল ইসলাম বলেন, বিদ্যুত্ বিল বৃদ্ধির কারণে গত বছরের তুলনায় এ বছর সেচের খরচ কিছুটা বাড়ানো হয়েছে। উপজেলা সেচ কমিটির সভাপতি ও উপজেলা পরিষদ চেয়ারম্যান আমিনুল ইসলাম বলেন, ২/১টি ইউনিয়নে একর প্রতি এক থেকে দেড় হাজার টাকা বেশি আদায় করছে পানি ব্যবসায়ীসহ বিএমডিএ।