যুদ্ধাবস্থা ঘোষণা উত্তর কোরিয়ার

উত্তর কোরিয়া জানিয়েছে দেশটি এখন দক্ষিণ কোরিয়ার সাথে যুদ্ধাবস্থায় রয়েছে এবং সেভাবেই তারা পরিস্থিতি সামাল দেবে। দুই কোরিয়ার মধ্যে সবকিছু এখন যুদ্ধকালীন রীতি-নীতিতে করা হবে উত্তর কোরিয়ার সকল সরকারি প্রতিষ্ঠানের প্রতি জারি করা এক বিজ্ঞপ্তিতে একথা জানানো হয়। কোরিয়ান সেন্ট্রাল নিউজ এজেন্সি প্রকাশিত উক্ত বিবৃতিতে জানানো হয় কোরীয় ্্্্্উপদ্বীপ এখন আর না শান্তি না, না যুদ্ধ অবস্থায় নেই। দুই কোরিয়া আসলে সবসময় কৌশলগতভাবে যুদ্ধাবস্থায় ছিল কারণ ১৯৫৩ সালে কোরীয় যুদ্ধ বন্ধ হয়েছিল সাময়িক যুদ্ধ-বিরতির মাধ্যমে শান্তি চুক্তির মাধ্যমে নয়। এ ব্যাপারে যুক্তরাষ্ট্র বলেছে তারা উত্তর কোরিয়ার বক্তব্যকে গুরুত্বের সাথে নিয়েছে। যুক্তরাষ্ট্রের ন্যাশনাল সিকিউরিটি কাউন্সিলের মুখপাত্র বলেন, আমরা তাদের বিবৃতি শুনেছি এবং আমাদের মিত্র দক্ষিণ কোরিয়ার সাথে সার্বক্ষণিক যোগাযোগ রেখে চলছি। উত্তর কোরিয়ায় সৃষ্ট উত্তেজনা নিয়ন্ত্রণের বাইরে চলে যেতে পারে বলে সতর্ক করেছে রাশিয়া। উত্তর কোরিয়া মার্কিন ঘাঁটিতে হামলার জন্য রকেট তাক করার নির্দেশ দেয়ার পর এর পরিণাম সম্পর্কে সতর্ক করলেন রুশ পররাষ্ট্রমন্ত্রী সের্গেই ল্যাভরভ। তিনি উদ্বেগ প্রকাশ করে বলেন, পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণের বাইরে চলে গিয়ে অমানবিক পরিণতির দিকে গড়াতে পারে। পিয়ংইয়ং-এর কর্মকাণ্ডের নিন্দা জানিয়ে ল্যাভরভ বলেন, “তাদের এ তত্পরতা মেনে নেয়া যায় না।” তবে তিনি এও বলেন, উত্তর কোরিয়াকে ঘিরে একতরফা কিছু পদক্ষেপ নেয়া হচ্ছে যাতে করে তারা সামরিক তত্পরতায় লিপ্ত হওয়ার তাগিদ বোধ করছে। দক্ষিণ কোরিয়ার আকাশে যুক্তরাষ্ট্রের স্টিলথ বোমারু বিমান মহড়ার প্রচ্ছন্ন সমালোচনা করে ল্যাভরভ বলেন, সামরিক শক্তি প্রদর্শন করা কিংবা ভূ-রাজনৈতিক উদ্দেশ্য সাধনে সামরিক শক্তি ব্যবহারের অজুহাত খোঁজাটা এ মুহূর্তে প্রয়োজনীয় নয়। রাশিয়ার পাশাপাশি উত্তর কোরিয়ার সবচেয়ে বড় বাণিজ্যিক মিত্র দেশ চীনও বর্তমান পরিস্থিতিতে উদ্বেগ প্রকাশ করে সংশ্লিষ্ট সব পক্ষকে উত্তেজনা প্রশমনের আহ্বান পুনর্ব্যক্ত করেছে বলে জানিয়েছে বিবিসি।ধ যুক্তরাষ্ট্র বৃহস্পতিবার স্টিলথ বোমারু বিমানের মহড়া দেয়ার পর উত্তর কোরিয়ার নেতা কিম জং উন ঊর্ধ্বতন সামরিক কর্মকর্তাদের সঙ্গে বৈঠকের পর ক্ষেপণাস্ত্র ইউনিটগুলোকে হামলার জন্য প্রস্তুত রাখার নির্দেশ দেন। যে কোনো সময় মার্কিন ভূখণ্ডসহ প্রশান্ত মহাসাগরের হাওয়াই, গুয়াম দ্বীপ ও দক্ষিণ কোরিয়ায় অবস্থিত মার্কিন ঘাঁটিতে হামলা চালানোর জন্য মোতায়েন করা হয়েছে রকেট। উন বলেছেন, বিদ্যমান পরিস্থিতিতে মার্কিন সাম্রাজ্যবাদী শক্তির সঙ্গে বোঝাপড়া করার সময় এসেছে।