কমলগঞ্জে আগুনে চা শ্রমিক পরিবারের বসতঘর পুড়ে ছাই

পারিবারিক বিরোধের জের ধরে কমলগঞ্জ উপজেলার শমশেরনগরের ফাঁড়ি কানিহাটি চা বাগানের এক নারী শ্রমিকের বসতঘর আগুনে পুড়িয়ে দেয়ার অভিযোগ উঠেছে। আগুনে ঘরের সব জিনিসপত্র পুড়ে যাওয়ার পর নিরীহ চা শ্রমিক পরিবার সদস্যরা বাগানের একটি গাছতলায় আশ্রয় নিয়েছে। এ ঘটনায় বৃদ্ধ চা শ্রমিক কমলগঞ্জ থানায় লিখিত অভিযোগ দিয়েছেন। গত বৃহস্পতিবার দিবাগত রাত সাড়ে ১২টার দিকে ঘটনা ঘটে। জানা যায়, ডানকান ব্রাদার্স শমশেরনগরের ফাঁড়ি কানিহাটি চা বাগানের নারী শ্রমিক বেসিনি রিকয়াসনের (৭০) সাথে তার ছোট ছেলে বাবুল রিকিয়াসনের পারিবারিক বিরোধ ছিল। এ বিরোধের জের ধরে বেসিনির বড় ছেলে চন্দন রিকিয়াসন ও বাবুল রিকিয়াসনের মাঝে বাকবিতণ্ডা শুরু হয়। এক পর্যায়ে বাবুল রিকিয়াসনের পক্ষাবলম্বন নিয়ে ইউনিয়ন পরিষদ নির্বাচনে পরাজিত সদস্য মোহন লাল রবিদাস রাত সাড়ে ১২টায় লোকজন নিয়ে এসে মহিলা শ্রমিক বেসিনি রিকিয়াসনের সাথে বিতর্কে জড়িয়ে পড়েন এবং এক পর্যায়ে বসত ঘরে আগুন জ্বলে উঠে। অগ্নিকাণ্ডে মহিলা চা শ্রমিকের আসবাবপত্রসহ সকল সামগ্রী পুড়ে যায়। ক্ষতিগ্রস্ত মহিলা চা শ্রমিক বেসিনি রিকিয়াসন বলেন, বিগত নির্বাচনে তারা নির্বাচিত ইউপি সদস্য সীতারাম বীনের পক্ষে কাজ করেছিলেন বলেই দুই ছেলের বিরোধের সুযোগ নিয়ে বসত ঘরে মোহন লাল আগুন লাগিয়ে দিয়েছে। তিনি আরও বলেন, আগুনে ঘর পুড়ে যাওয়ায় প্রায় ২০ থেকে ২৫ হাজার টাকার ক্ষয়ক্ষতি হয় এবং তিনি খোলা আকাশের নিচে একটি গাছ তলায় আশ্রয় নিয়েছেন। এ ঘটনায় বেসিনি রিকিয়াসন বাদী হয়ে মোহন লাল রবিদাসকে আসামি করে শুক্রবার সন্ধ্যায় কমালগঞ্জ থানায় একটি লিখিত অভিযোগ দিয়েছেন। স্থানীয় ইউপি সদস্য সীতারাম বিন বলেন, ঘটনাটি খুবই দুঃখজনক। তদন্ত পূর্বক দায়ী ব্যক্তিদের বিরুদ্ধে শাস্তির ব্যবস্থা নেয়া উচিত বলে তিনি মন্তব্য করেন। সাবেক ইউপি সদস্য মোহন লাল রবিদাস তার উপর আরোপিত অভিযোগ সঠিক নয় দাবি করে বলেন, রাত সাড়ে ১০টায় মহিলা চা শ্রমিকের বাসায় গিয়ে তিনি দুই ছেলের বিরোধের প্রাথমিক সমাধান করে চলে আসেন। সকাল বেলা তিনি আগুন লাগার কথা শুনে চা বাগান ব্যবস্থাপককে সাথে নিয়ে পুড়ে যাওয়া ঘর দেখেছেন। কমলগঞ্জ থানার দায়িত্বপ্রাপ্ত এসআই মধু সুদন রায় বলেন, অভিযোগের বিষয়টি শমশেরনগর ইউপি চেয়ারম্যান সালিশে দেখার প্রস্তাব দেয়ায় স্থগিত রাখা হয়।