অর্থনৈতিক উন্নয়নে চিংড়ি চাষের সম্ভাবনা
প্রকাশ : ৩০ মার্চ ২০১৩, ২১:৫৮
বাংলাদেশের অর্থনীতি মূলত কৃষিনির্ভর। দেশের বৈদেশিক আয়ে তৈরি পোশাক শিল্পের পরেই রয়েছে চিংড়ির অবদান। চিংড়ির মৌলিক দু’টি প্রকরণই আমাদের দেশ থেকে বিদেশে রপ্তানি হচ্ছে। সেগুলো হলো: লোনা পানির বাগদা চিংড়ি এবং স্বাদু পানির গলদা চিংড়ি। চিংড়ি চাষে পরিবেশের ওপর বিরূপ প্রভাব থাকলেও অধিক লাভের আশায় কৃষকেরা চিংড়ি চাষের দিকে ঝুঁকছেন। সাধারণত আমাদের দেশের কৃষক ভাইয়েরা সনাতন পদ্ধতিতে চিংড়ি চাষ করে থাকেন (শতকরা ৯০ ভাগ ঘের)। ফলে এর উত্পাদনশীলতা অন্যান্য দেশের তুলনায় অনেক কম। আমাদের দেশে চিংড়ির উত্পাদনশীলতা হেক্টর প্রতি ৩০০-৪০০ কেজি, অন্যদিকে উন্নয়নশীল এবং উন্নত দেশসমূহ ১৯৯০-এর দশক থেকেই নিবিড় এবং আধা-নিবিড় পদ্ধতিতে চিংড়ি চাষ করে আসছে। তবে গবেষকরা দেখিয়েছেন সনাতন জৈব পদ্ধতির মাধ্যমেও এদেশে চিংড়ির উত্পাদনশীলতা হেক্টর প্রতি ৫০০-৬০০ কেজি বরং তার চেয়েও বেশি করা সম্ভব।
দেশে ইতোমধ্যেই ২১৭৮৭৭ হেক্টর জমি চিংড়ি চাষের আওতায় এসেছে। নিবিড়, আধা-নিবিড় অথবা সনাতন জৈব প্রযুক্তি ব্যবহার করে এ থেকে বছরে ১ লাখ ৩০০ টনেরও বেশি চিংড়ি উত্পাদন করা সম্ভব যার মূল্যমান হবে প্রায় ১৫ হাজার ৭শ’ কোটি টাকা। তাই চিংড়িখাতে উত্পাদনশীলতা বৃদ্ধি এবং বৈদেশিক মুদ্রা অর্জনের জন্য কৃষক পর্যায়ে উন্নত প্রযুক্তি স্থানান্তর এবং প্রশিক্ষণের ব্যবস্থা গ্রহণের প্রয়োজনীয়তা অনুভব করছি। এ ব্যাপারে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ ব্যবস্থা নেবেন বলে আশা করি।
মোহাম্মদ ছিদ্দিকুর রহমান
বিজ্ঞানী, ব্রি. গাজীপুর