‘১৭০ জনকে হত্যার’ বিচার বিভাগীয় তদন্ত চান ফখরুল
প্রকাশ : ৩০ মার্চ ২০১৩, ২২:৪১
বিএনপির ভারপ্রাপ্ত মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর অভিযোগ করেছেন, চলতি মার্চ মাসেই সরকারের নির্দেশে আইনশৃঙ্খলা বাহিনী ১৭০ জনকে গুলি করে হত্যা করেছে। এতে প্রমাণিত হয়, সরকার প্রকাশ্যে জনগণের বিরুদ্ধে যুদ্ধ ঘোষণা করেছে। শুক্রবার চাঁপাইনবাবগঞ্জ ও সিরাজগঞ্জে পুলিশের গুলিতে পাঁচজন নিহত হওয়ার ঘটনাসহ সাম্প্রতিক সকল হত্যাকাণ্ডের বিচার বিভাগীয় তদন্ত দাবি করেছেন তিনি। গতকাল শনিবার রাজধানীর নয়াপল্টনে দলের কেন্দ্রীয় কার্যালয়ে সাংবাদিক সম্মেলনে তিনি এ দাবি জানান। জানা গেছে, আজ রবিবার ১৮ দলের বৈঠক শেষে আন্দোলনের পরবর্তী কর্মসূচি ঘোষণা করা হতে পারে। ‘নিরাপত্তা বাহিনীর সামনে যদি সাধারণ মানুষকে খুন করা হয়, তাহলে পুলিশ কী বসে আঙ্গুল চুষবে?’- স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী ড. মহীউদ্দিন খান আলমগীরের এই বক্তব্যের সমালোচনা করে মির্জা ফখরুল বলেন, এই বক্তব্য তামাশা ছাড়া আর কিছুই নয়। এসব হত্যাকাণ্ড বন্ধ করুন, দোষীদের খুঁজে বের করুন। তিনি বলেন, সরকার সহিংসতা উস্কে দিচ্ছে। যেভাবে নির্মম নির্যাতন-নিপীড়ন চালাচ্ছে, তা দেখলে মনে হয় সরকার পোড়ামাটি নীতি গ্রহণ করেছে। বর্তমান অবস্থা আইয়ামে জাহেলিয়াতকেও হার মানিয়েছে। বাংলাদেশ এখন মৃত্যু-উপত্যকায় পরিণত হয়েছে বলে মন্তব্য করেন তিনি। বিএনপির ভারপ্রাপ্ত মহাসচিব বলেন, দেশে চরম অস্থিরতা বিরাজ করছে। সরকার পরিকল্পিতভাবে দেশকে নৈরাজ্যের দিকে ঠেলে দিচ্ছে। সারাদেশে তারা বিরোধী দলের নেতা-কর্মীদের বিরুদ্ধে হাজার-হাজার ‘মিথ্যা’ মামলা দিচ্ছে। সরকারকে হুঁশিয়ার করে তিনি বলেন, এদেশের সাহসী ও বীর জনতা এখন আর আপনাদের মত স্বৈরশাসকের হত্যাকাণ্ডের ভয়ে ভীত নয়। আওয়ামী দুঃশাসনের করাল গ্রাস থেকে দেশকে রক্ষা করতে এদেশের জনগণ জীবনের শেষ রক্তবিন্দু দিতেও প্রস্তুত। এ সরকারের পতন ঘটিয়ে ‘অবরুদ্ধ’ গণতন্ত্রকে মুক্ত করতে দেশবাসী আজ ঐক্যবদ্ধ। শুক্রবার চাঁপাইনবাবগঞ্জ ও সিরাজগঞ্জে পুলিশের সঙ্গে বিএনপি-জামায়াত কর্মীদের সংঘর্ষে পাঁচজন নিহত হওয়ার প্রসঙ্গে ফখরুল বলেন, আসামি ধরার কথা বলে পুলিশ-র্যাবসহ আইন-শৃঙ্খলা বাহিনী গ্রামে গিয়ে সাধারণ মানুষের ওপর গুলি চালাচ্ছে। এলাকাবাসী এসব গণহত্যার বিরুদ্ধে রাস্তায় নেমে এলে সরকার একে জামায়াত-শিবিরের তাণ্ডব বলে অপপ্রচার চালাচ্ছে। চাঁপাইনবাবগঞ্জ ও সিরাজগঞ্জেও পুলিশ বিনা উস্কানিতে গুলি করে। পরে সাধারণ মানুষ প্রতিরোধ গড়ে তোলে। তার মতে, ‘মিথ্যা’ মামলায় হাজার-হাজার লোককে আসামি করা হয়েছে। এটিকে কেন্দ্র করে অনেক বাণিজ্য হচ্ছে। সাংবাদিক সম্মেলনে অন্যদের মধ্যে বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য এম কে আনোয়ার ও গয়েশ্বর চন্দ্র রায়, যুগ্ম মহাসচিব সালাহউদ্দিন আহমেদ, সহ-দপ্তর সম্পাদক আবদুল লতিফ জনি, আসাদুল করীম শাহিন, স্বেচ্ছাসবেক দলের যুগ্ম সম্পাদক অধ্যাপক আমিনুল ইসলাম প্রমুখ উপস্থিত ছিলেন।