খুলনায় ৫ বছরে ১০ ঘাট বন্ধ আর্থিক সংকটে জেলা পরিষদ

চর পড়ে নদী শুকিয়ে যাওয়া ও সেতু তৈরির কারণে গত পাঁচ বছরে খুলনার ১০টি ঘাট বন্ধ হয়ে গেছে। আয়ের অন্যতম মাধ্যম এই ঘাটগুলো বন্ধ হয়ে যাওয়ায় আর্থিক সংকটে পড়েছে খুলনা জেলা পরিষদ। গত দুই বছরে জেলা পরিষদের আয় কমে গেছে শতকরা প্রায় ১২ ভাগ। চলতি অর্থবছরে ৮ মাসে আয় কমেছে আরও ৩০ ভাগ। খুলনা জেলা পরিষদসূত্র জানায়, জেলা পরিষদের অধীনে ২৪টি ফেরি ও খেয়াঘাট ছিল। বর্তমানে ঘাট আছে মাত্র ১২টি। এর মধ্যে সেতু তৈরি ও চর পড়ে নদী ভরাট হওয়ার কারণে ১০টি এবং মামলার কারণে ২টি ঘাট জেলা পরিষদের হাতছাড়া হয়ে গেছে। সূত্র জানায়, রূপসা উপজেলার আলাইপুর ও তেরখাদা উপজেলার শিয়ালী ঘাটের পাশে সেতু তৈরি হয়েছে। এছাড়া তেরখাদার ছাগলাদহ ঘাটের কাছে চর পড়ে নদী ভরাট হয়ে গেছে। এখন সেখানে মাটির রাস্তা তৈরি করা হয়েছে। বটিয়াঘাটা ঘাট, পাইকগাছা উপজেলার শিববাড়ি খেয়া ঘাট, কয়রা উপজেলার চাঁদ আলী ঘাটের পাশে সেতু তৈরি হয়েছে। এছাড়া নদীতে চর পড়ায় কাটাখালি খেয়াঘাট ও বালিয়াডাঙ্গা খেয়াঘাট বন্ধ হয়ে গেছে। নগরীর ভেতরে রূপসা ফেরিঘাটটি খুলনা সিটি কর্পোরেশন (কেসিসি) নিয়ে নিয়েছে এবং জেলখানা ঘাটটি টোলমুক্ত ঘোষণা করা হয়েছে। নগরীর কাস্টমঘাট ও কালিবাড়ি ঘাট নিয়ে কেসিসির সাথে মামলা চলছে। এ ঘাট দু’টি থেকে খাস (নিজস্ব লোক দিয়ে) আদায় চলে। সূত্রমতে, আয়ের অন্যতম মাধ্যম এই ঘাটগুলো বন্ধ হয়ে যাওয়ায় আর্থিক সংকটে পড়েছে জেলা পরিষদ। ২০১০-১১ অর্থবছরে ঘাটগুলো থেকে জেলা পরিষদ ৮৭ লাখ ৯৯ হাজার ৮৮৭ টাকা আয় করেছে। তবে ২০১১-১২ অর্থবছরে আয় কমে দাঁড়িয়েছে ৭৮ লাখ ১০ হাজার ৭৫০ টাকা। আর চলতি অর্থবছর অর্থাত্ ২০১২-১৩ অর্থবছরের প্রথম ৮ মাসে আয় হয়েছে মাত্র ৩০ লাখ ৮৩ হাজার ৩৬৩ টাকা। জেলা পরিষদের প্রশাসনিক কর্মকর্তা কমলেশ চন্দ্র দাস জানান, জেলা পরিষদের আয়ের অন্যতম মাধ্যম ছিল ঘাট ইজারা থেকে প্রাপ্ত অর্থ। কিন্তু একে একে ঘাটগুলো বন্ধ হয়ে যাওয়ায় আর্থিক সংকটে পড়েছে পরিষদ। এ ব্যাপারে জেলা পরিষদ প্রশাসক শেখ হারুনুর রশিদ বলেন, ঘাটগুলো হাতছাড়া হয়ে যাওয়ায় আগের তুলনায় আয় কিছুটা কমেছে। তা সত্ত্বেও জেলা পরিষদ আগের থেকে বেশি কাজ করছে।