চট্টগ্রাম মেডিক্যাল আইসিইউ চলছে জোড়াতালি দিয়ে
মুহাম্মদ নিজাম উদ্দিন, চট্টগ্রাম অফিস
প্রকাশ : ৩০ মার্চ ২০১৩, ২২:৪৯
জোড়াতালি দিয়ে চলছে চট্টগ্রাম মেডিক্যালের আইসিইউ ইউনিট। ৯টি বেড দিয়ে চলছে চিকিত্সা সেবা। রিমোর্ট কন্ট্রোল চালিকা কোন আইসিইউ বেড নেই। চিকিত্সক, নার্সসহ জনবলের সংকট। ওয়ার্ডে শীতাতপ নিয়ন্ত্রিত ব্যবস্থা নেই। ৮ বছরেও চিকিত্সাসহ জনবলের পদ সৃষ্টি হয়নি । ডেপুটেশনের জনবল দিয়ে চলছে আইসিইউ’র চিকিত্সা সেবা। জরাজীর্ণ বেড ও মনিটরের কারণে মুমূর্ষু রোগীরা অনেক ক্ষেত্রে ভুল চিকিত্সার শিকার হচ্ছে বলে অভিযোগ পাওয়া গেছে। চিকিত্সকরা জানান, আইসিইউতে রিমোট কন্ট্রোল বেড স্থাপন, সংখ্যা বাড়ানো ও পদ সৃষ্টি করে দক্ষ জনবল পদায়নের জন্য মন্ত্রণালয়ে একাধিকবার লেখালেখি হলেও কোন সাড়া মিলছে না।সংশ্লিষ্টরা জানান, গত ২০০৫ সালে চট্টগ্রাম মেডিক্যালে আইসিইউ ওয়ার্ড চালু করা হয়। শুরু থেকে চিকিত্সক, নার্সসহ অন্যান্য জনবল ডেপুটেশনে পদায়নের মাধ্যমে আইসিইউতে চিকিত্সা সেবা চালানো হচ্ছে। গত ৮ বছরেও নতুন পদ সৃষ্টি করা হয়নি। চিকিত্সকরা জানান, জীবন সংকটাপন্ন রোগীদের এই ইউনিটে চিকিত্সা সেবা দেয়া হয়। সরকারিভাবে চট্টগ্রামে আরো কোন মেডিক্যালে আইসিইউ চালু নেই। অথচ ঢাকায় সরকারিভাবে একাধিক হাসপাতালে আইসিইউ ব্যবস্থা চালু রয়েছে। চট্টগ্রামে প্রাইভেট কয়েকটি হাসপাতালে থাকলেও চিকিত্সা সেবা অত্যন্ত ব্যয়বহুল। দৈনিক ২০ থেকে ২৫ হাজার টাকা খরচ হয়। কিন্তু চট্টগ্রাম মেডিক্যালের আইসিইউতে দৈনিক সর্বোচ্চ ২ থেকে ৩ হাজার টাকা খরচ করে রোগীরা চিকিত্সা নিতে পারে। যার কারণে মুমূর্ষু রোগীদের প্রচন্ড চাপ। সিট না পেয়ে চিকিত্সা থেকে বঞ্চিত হচ্ছে রোগীরা।
সূত্র জানায়, শুরুতে রিমোট কন্ট্রোল চালিত ৬টি বেড নিয়ে চিকিত্সা কার্যক্রম শুরু হয়। পরে ৯টিতে উন্নীত করা হয়েছে। দীর্ঘদিন ব্যবহারের ফলে বেডগুলোতে রিমোট কাজ করছে না। কয়েক বছর যাবত্ ভেন্টিলেটর সংকটে ৪/৫টি বেডে চিকিত্সা বন্ধ ছিল। তবে সমপ্রতি ১০টি নতুন ভেন্টিলেটর বরাদ্দ পাওয়া গেছে। তবে রিমোটের পরিবর্তে মেনোয়ালীভাবে বেডগুলোতে রোগীদের চিকিত্সা দেয়া হচ্ছে। উচ্চ ক্ষমতাসম্পন্ন এসি না থাকায় ওয়ার্ডে সার্বক্ষণিক শীতাতপ নিয়ন্ত্রিত ব্যবস্থা চালু রাখা যাচ্ছে না। তবে কিছুদিন আগে এ.কে খান শিল্পগোষ্ঠী থেকে ২টি এসি প্রদান করা হয়েছে বলে চিকিত্সকরা জানান। সেগুলো এখনো স্থাপন করা হয়নি।
এ প্রসঙ্গে আইসিইউ’র বিভাগীয় প্রধান অধ্যাপক ডা. মাসুদ আহমেদ ইত্তেফাককে বলেনঃ ‘আমি দায়িত্ব গ্রহণের পর থেকে বেড ৬টি থেকে বাড়িয়ে ৯টিতে উন্নীত করেছি। সেবার মান বাড়ানোর জন্য চিকিত্সক, নার্সদের নতুন পদ সৃষ্টি করে দক্ষ জনবল পদায়ন প্রয়োজন। সময়ের চাহিদার অনুপাতে বেডের সংখ্যা বৃদ্ধি ও নতুন মনিটর বরাদ্দের প্রয়োজন। অভিজ্ঞ চিকিত্সক এক জায়গায় বসে রোগীদের অবস্থা মনিটর করার জন্য সেন্ট্রাল মনিটরিং সিস্টেম স্থাপন করলে রোগীরা উপকৃত হবে।’
চিকিত্সকরা জানান, আইসিইউতে রোগীদের চিকিত্সা সেবার মান উন্নত করতে কিছু প্রয়োজনীয় চিকিত্সা সরঞ্জাম স্থাপনের প্রয়োজন। এসব যন্ত্রের মধ্যে রয়েছে ফেশান সাপোর্ট সিস্টেম এন্ড সলিয়েশন, বাইপেক, সিপের যন্ত্র ও বানকোস কপি মেশিন এবং রক্তের উপাদান নির্ধারণের জন্য অটো ব্লাড গ্যাস এনালাইজার মেশিন। এসব যন্ত্রের মাধ্যমে রোগীর শ্বাসকষ্ট তথ্য নিয়ন্ত্রণ করা। ২০০৫ সালে আইসিইউ চালুর পর থেকে গত ফেব্রুয়ারি পর্যন্ত ১ হাজার ৯৫০ জন রোগী চিকিত্সা নিতে ভর্তি হয়েছে। আইসিইউ’র চিকিত্সকরা জানান, সরকারি এই হাসপাতালে রোগীর চাপ বাড়লেও চিকিত্সা সেবার মান বাড়ছে না। চট্টগ্রামে রয়েছে পুরনো জাহাজ ভাঙার শিপ ইয়ার্ড ও ঝুঁকিপূর্ণ শিল্প কারখানা। এসব শিল্প কারখানায় প্রতিদিন অসংখ্য শ্রমিক অগ্নিদগ্ধ হয়ে চট্টগ্রাম মেডিক্যালে ভর্তি হচ্ছে। আর অগ্নিদগ্ধ অধিকাংশ গরীব শ্রমিক। এখানে নতুন বার্ন ওয়ার্ড চালু হলেও আলাদা আইসিইউ’র কোন ব্যবস্থা নেই। চিকিত্সকরা জানান, অপারেশন, শ্বাসকষ্টের রোগী ছাড়াও শরীরের ৪০ শতাংশ অগ্নিদগ্ধ রোগীকে আইসিইউতে রেখে চিকিত্সা দিতে হয়। ফলে অত্র অঞ্চলের চিকিত্সা সেবা নিশ্চিতকরণের লক্ষ্যে চট্টগ্রাম মেডিক্যালের আইসিইউতে বেড সংখ্যা বাড়ানোর দাবি জানান চিকিত্সকরা।