‘ড. জামাল নজরুলের যথাযথ মূল্যায়ন হয়নি’

প্রফেসর ইমেরিটার্স প্রফেসর ড. জামাল নজরুল ইসলামকে তার জীবদ্দশায় যথাযথভাবে মূল্যায়ন করা হয়নি বলে মন্তব্য করেছেন তার অধীনে এমফিল ও পিএইচডি ডিগ্রি নেয়া গবেষকগণ। গত শনিবার ‘রিসার্চ সেন্টার ফর মেথমেটিক্যাল এন্ড ফিজিক্যাল সায়েন্স (আরসিএমপিএস) চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়’ আয়োজিত এক শোক সভায় তারা এ কথা বলেন। সভায় বক্তারা বলেন, আন্তর্জাতিক খ্যাতিসম্পন্ন গণিত ও ভৌত বিজ্ঞানী চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয় গণিত ও ভৌত বিজ্ঞান গবেষণা কেন্দ্রের প্রফেসর ইমেরিটাস ড. জামাল নজরুল ইসলাম ছিলেন একজন বিশ্ব বিখ্যাত বিজ্ঞানী যাকে আমরা সঠিকভাবে মূল্যায়ন করতে পারিনি। বক্তারা বলেন, প্রশাসনিক সীমাবদ্ধতার কারণে জামাল নজরুল ইসলামের গড়া রিসার্চ সেন্টারকে পূর্ণাঙ্গ রূপদান করতে পারেননি তিনি। প্রয়োজনীয় অর্থও বরাদ্দ করা হয়নি রিসার্চ সেন্টারের জন্য। বক্তারা আরো বলেন, জামাল নজরুল ইসলাম আক্ষেপ করে বলেছিলেন ‘তার লেখা একটি বইও চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয় প্রেস থেকে প্রকাশিত হয়নি।’ অথচ তার লেখা অনেক বই ক্যামব্রিজ বিশ্ববিদ্যালয় প্রেস থেকে প্রকাশিত হয়েছে। জামাল নজরুল ইসলামের ইচ্ছা ছিল তার লেখা ‘ইনট্রোডাকশন টু ম্যাথমেটিক্যাল ইকোনোমিক্স’ ও ‘কোয়ান্টাম ফিল্ড থিওরি’ বই দু’টি চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয় প্রেস থেকে প্রকাশিত হোক। প্রফেসর ড. জামাল নজরুল ইসলামের সাথে গবেষণা পরিচালনা করা শিক্ষার্থীরা বলেন, স্যার জ্ঞান বিজ্ঞানের সাধনায় অক্লান্ত পরিশ্রম করেছেন। দেশে বিদেশে সমাদৃত হয়েছেন। জ্ঞান চর্চার জন্য তিনি চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষকদের উদ্বুদ্ধ করেছেন। স্যার আক্ষেপ করে বলেছিলেন, বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রশাসনিক দুর্বলতার কারণে তিনি তার শত চেষ্টা সত্ত্বেও লক্ষ্যে পৌঁছাতে পারেননি। বক্তারা বলেন, তিনি ছিলেন চিন্তা চেতনায় অসামপ্রদায়িক মানুষ। স্যার কখনো মিথ্যা কথা বলতেন না। বেতন যা পেতেন সবটুকুই দরিদ্র-অসহায়দের দান করে দিতেন। বক্তারা সবাই গণিত ও ভৌত বিজ্ঞান গবেষণা কেন্দ্রের নাম ও বিজ্ঞান অনুষদের নাম ড. জামাল নজরুল ইসলামের নামে করার সুপারিশ করেন। অনুষ্ঠানের শুরুতে প্রয়াত বিজ্ঞানী ড. জামাল নজরুল ইসলাম ও রাষ্ট্রপতি জিল্লুর রহমানের স্মরণে দুই মিনিট নিরবতা পালন করা হয়। চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয় গণিত ও ভৌত বিজ্ঞান গবেষণা কেন্দ্রের পরিচালক প্রফেসর ড. আবুল মনসুর চৌধুরীর সভাপতিত্বে শোক সভায় বক্তব্য রাখেন চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ের সাবেক উপাচার্য প্রফেসর ইমেরিটার্স আলমগীর মোহাম্মদ সিরাজ উদ্দিন, অধ্যাপক ফজলে হোসেন, নুরুদ্দিন চৌধুরী, সাবেক উপ-উপাচার্য প্রফেসর ড. মো. আলাউদ্দিন, শিক্ষক সমিতির সভাপতি আলী আশরাফ, সাধারণ সম্পাদক সেকান্দার আহমদ চৌধুরী। স্মৃতিচারণ করেন ড. জামালের ছোট মেয়ে নারগিস ইসলাম, স্ত্রী সুরাইয়া ইসলাম এবং তার অধীনে এমফিল ও পিএইডি ডিগ্রি নেয়া ড. শাহীন ইসলাম, প্রফেসর ড. কামরুল ইসলাম, আবদুস সালাম, সোমা বিশ্বাস প্রমুখ।