রংপুর মেডিক্যালে লাশ বহনে নেয়া হচ্ছে ৫০ হাজার টাকা!
প্রকাশ : ৩১ মার্চ ২০১৩, ২১:৩৩
রংপুর মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে মৃত মানুষের লাশ নিয়ে চলছে রমরমা বাণিজ্য। এনিয়ে সেখানে গড়ে উঠেছে একটি শক্তিশালী দালাল চক্র। এর সাথে সেখানকার এক শ্রেণির কর্মচারীও জড়িত। লাশ গন্তব্যে নিতে গিয়ে ভোগান্তির শিকার হচ্ছেন আত্মীয়-স্বজনরা। প্রতিবাদ করলেই চালানো হচ্ছে অমানবিক নির্যাতন। পাশাপাশি সাধারণ ভাড়ার চেয়ে ৫ থেকে ১০ গুণ বেশি টাকা আদায় করছে লাশ বহনকারী মাইক্রোবাস মালিকদের একটি চক্র। পুলিশ প্রশাসন মাঝে-মধ্যে অভিযান চালালেও পরিস্থিতির কোন উন্নতি হয়নি বরং অবনতিই হয়েছে। প্রকাশ্যেই চলে মৃতব্যক্তির স্বজনদের সাথে সিন্ডিকেট সদস্যদের দর কষাকষি। গত শনিবার মেডিক্যাল মোড় এলাকায় লাশ ব্যবসা বন্ধের দাবিতে ধাপ কটকীপাড়া অপরাধ দমন ও জনকল্যাণ কমিটির উদ্যোগে অনুষ্ঠিত সংবাদ সম্মেলনে এসব তথ্য তুলে ধরা হয়।
সংবাদ সম্মেলনে লিখিত বক্তব্যে সংগঠনের আহবায়ক আরিফুল ইসলাম মিথুন জানান, রংপুর মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে ধনী ও গরীব যে কোন মানুষই মারা যাক শুরু হয় এক শ্রেণির দানবের উন্মাদনা। মেডিক্যাল থেকে ছাড়পত্র নেয়ার পর থেকে মরদেহটি বাড়িতে নিয়ে যাওয়া পর্যন্ত পদে পদে গুনতে হচ্ছে টাকা। ওই সিন্ডিকেটের সদস্যরা অসহায় মানুষের লাশকে জিম্মি করে হাতিয়ে নিচ্ছে হাজার হাজার টাকা। বিশেষ করে পুলিশ কেস হলে তো কোন কথাই নেই। সংবাদ সম্মেলনে আরও বলা হয়, নগরীর যে কোন প্রান্তে একটি মৃহদেহ বহন করতে নেয়া হচ্ছে ৮ থেকে ১০ হাজার টাকা এবং উপজেলায় নেয়া হচ্ছে ১০ থেকে ২০ হাজার টাকা। গন্তব্য যতো বাড়তে থাকে পাল্লা দিয়ে বাড়তে থাকে টাকার পরিমাণ। মৃতদেহ বহন করে ৫০ হাজার টাকা আদায় করারও অভিযোগ রয়েছে বলে দাবি করা হয়। কিন্তু প্রকৃত লাশ বহনকারী এ্যাম্বুলেন্স চালকরা পাচ্ছেন ৮শ’ থেকে ৯শ’ টাকা। সংবাদ সম্মেলনে উপস্থিত ছিলেন, সংগঠনের যুগ্ম আহ্বায়ক সিরাজুল ইসলাম মিঠু, সদস্য রেজাউল করিম রাজু, নূরুল ইসলাম, আমিনুল ইসলাম, তারিকুল ইসলাম, আতিয়ার রহমান প্রমুখ। পরে সেখানে এক প্রতিবাদ সমাবেশ অনুষ্ঠিত হয়।