সুষ্ঠু, অংশগ্রহণমূলক নির্বাচনের বিষয়ে যুক্তরাষ্ট্র ও জাতিসংঘকে আশ্বস্ত করেছি
প্রকাশ : ৩১ মার্চ ২০১৩, ২২:৩৯
বাংলাদেশ একটি গণতান্ত্রিক রাষ্ট্র। গণতান্ত্রিক প্রক্রিয়ার মধ্য দিয়ে একটি সরকার ক্ষমতায় আসবে। তাই আগামী জাতীয় নির্বাচন সুষ্ঠু, নিরপেক্ষ এবং অংশগ্রহণমূলক হবে বলে যুক্তরাষ্ট্র ও জাতিসংঘকে আশ্বস্ত করা হয়েছে। একই সঙ্গে আগামী নির্বাচন পর্যবেক্ষণের জন্য যুক্তরাষ্ট্র ও জাতিসংঘের পর্যবেক্ষক দলকে বাংলাদেশে আসার আমন্ত্রণ জানানো হয়েছে। ভারপ্রাপ্ত পররাষ্ট্র সচিব মো. শহীদুল হক গতকাল রবিবার নিজ কার্যালয়ে দৈনিক ইত্তেফাককে দেয়া এক সাক্ষাত্কারে এ কথা বলেন। এ সময় তিনি ভারতের সাথে তিস্তার পানি বন্টন চুক্তি, যুক্তরাষ্ট্র-বাংলাদেশ সম্পর্ক, অভিবাসনসহ বিভিন্ন ইস্যুতে কথা বলেন। পেশাদার কূটনীতিক মো. শহীদুল হক গত ১০ জানুয়ারি নিয়োগ পান। এর আগে পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ে অতিরিক্ত সচিব হিসেবে দায়িত্ব পালন করছিলেন তিনি। এছাড়া ২০০১ থেকে ২০১২ সাল পর্যন্ত আন্তর্জাতিক অভিবাসন সংস্থায় (আইওএম) উচ্চতর পদে কর্মরত ছিলেন। দুই সপ্তাহ আগে যুক্তরাষ্ট্র সফর করেন শহীদুল হক। এ সফরে তিনি যুক্তরাষ্ট্রের দক্ষিণ ও মধ্য এশিয়া বিষয়ক সহকারী পররাষ্ট্রমন্ত্রী রবার্ট ও ব্লেইক, আন্ডার সেক্রেটারি ওয়েন্ডি শারমেন এবং জাতিসংঘ মহাসচিব বান কি মুনের সঙ্গে সাক্ষাত্ করেন। এ সফরকে ফলপ্রসূ দাবি করে তিনি বলেন, সুষ্ঠু নির্বাচনের বিষয়ে আমরা তাদের আশ্বস্ত করেছি। তারা চাইলে নির্বাচনের সময় এমনকি আগে পরে তাদের পর্যবেক্ষক পাঠাতে পারেন। এছাড়া জাতিসংঘ মহাসচিবের সঙ্গে সাক্ষাত্কালে যুদ্ধাপরাধীদের বিচার ও সাম্প্রতিক সহিংসতার বিষয়ে সরকারের অবস্থান ব্যাখ্যা করে পররাষ্ট্রমন্ত্রীর লেখা চিঠি আমি হস্তান্তর করেছি।
যুক্তরাষ্ট্র-বাংলাদেশ সম্পর্কের বিষয়ে তিনি বলেন, দুই দেশের মধ্যে আগের যেকোন সময়ের চেয়ে ভালো সম্পর্ক বিরাজ করছে। মার্কিন পররাষ্ট্রমন্ত্রী জন কেরিকে বাংলাদেশ সফরের জন্য পররাষ্ট্রমন্ত্রী ডা. দীপু মনির পক্ষ থেকে আমন্ত্রণপত্র প্রদান করেছি।
যুক্তরাষ্ট্রের বাজারে বাংলাদেশের পণ্যের জিএসপি সুবিধা অব্যাহত রাখার বিষয়ে তিনি বলেন, মার্কিন সহকারী পররাষ্ট্রমন্ত্রী ও আন্ডার সেক্রেটারির সাথে আলাপকালে এ বিষয়টিতে আমরা জোর দিয়েছি। জিএসপির বিষয়ে শুনানির জন্য বাণিজ্য সচিবের নেতৃত্বে একটি প্রতিনিধি দল বর্তমানে যুক্তরাষ্ট্রে রয়েছে। আগামী জুনে এ বিষয়ে চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত হবে।
সাম্প্রতিক সময়ে রাজনৈতিক সংঘাত ও নির্বাচন প্রক্রিয়া নিয়ে বাংলাদেশে বিভিন্ন দেশের কূটনীতিকদের বক্তব্যকে কীভাবে দেখছেন এমন প্রশ্নের উত্তরে তিনি বলেন, নির্বাচন প্রক্রিয়া কী হবে এটি আমাদের অভ্যন্তরীণ বিষয়। বর্তমান সরকার ও নির্বাচন কমিশন নির্বাচনের ব্যবস্থা করবে। তাদের উদ্বেগ থাকলে তা জানাতে পারেন। তবে তারা এই অভ্যন্তরীণ বিষয়ে হস্তক্ষেপ করছেন এমন কিছু আমাদের চোখে পড়েনি।
ভারতের সঙ্গে তিস্তার পানি বণ্টন চুক্তি ও স্থল সীমান্ত চুক্তি বাস্তবায়নের বিষয়ে তিনি বলেন, এ দুটি বিষয়ে দুই দেশই গুরুত্ব দিচ্ছে। দুই দেশই এক্ষেত্রে একসঙ্গে কাজ করছে। তিস্তা চুক্তি দ্রুত স্বাক্ষর হবে বলে আশাবাদ ব্যক্ত করেন তিনি। বাংলাদেশের কূটনীতি একদেশ মুখী হয়ে পড়েছে- বিভিন্ন রাজনৈতিক দলের এমন দাবির বিষয়ে প্রশ্ন করা হলে তিনি বলেন, এটা সত্যি নয়। এ অঞ্চলের সব দেশের সঙ্গেই আমাদের বন্ধুত্বপূর্ণ কূটনৈতিক সম্পর্ক রয়েছে। দিন দিন সে সম্পর্ক বৃদ্ধি পাচ্ছে। আমরা আঞ্চলিক সহযোগিতার উপর জোর দিচ্ছি। জাতিসংঘসহ বিভিন্ন আন্তর্জাতিক সংস্থায় বাংলাদেশের ভাবমূর্তি উজ্জ্বল করার চেষ্টা করেছি।
সম্প্রতি মুক্তিযুদ্ধকালীন মানবতার বিরুদ্ধে অপরাধের বিচার ও পরবর্তী সহিংসতার বিষয়ে এক প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, যুদ্ধাপরাধ ট্রাইব্যুনাল গঠনের পর থেকে এর কার্যক্রম সম্পর্কে পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় নিয়মিতভাবেই বিভিন্ন দেশকে অবহিত করছে। তিনটি রায় ও জামায়াত-শিবিরের সহিংসতার প্রেক্ষিতে গণমাধ্যমে ভুল ও ভিত্তিহীন তথ্য প্রকাশের পর বিভিন্ন দেশের কাছে বাংলাদেশের অবস্থান জানানোর জন্য চিঠি পাঠানো হয়েছে। এছাড়া আমরা বিভিন্ন দেশের কূটনীতিকদের যুদ্ধাপরাধ ট্রাইব্যুনালের কার্যক্রম ও ১৯৭১ সালের মানবতাবিরোধী অপরাধের বিষয়টি অবহিত করছি।
বিদেশে কর্মী পাঠানোর বিষয়ে তিনি বলেন, অভিবাসী কর্মীর সংখ্যা কমেছে তা সত্যি নয় বরং কিছু কিছু দেশে বেড়েছে। তিনি বলেন, মধ্য প্রচ্যের সকল দেশের সঙ্গে সুসম্পর্ক বিরাজ করছে। সৌদি আরব থেকে একটি প্রতিনিধি দল খুব শিগগির বাংলাদেশ সফর করবে। তারা বাণিজ্য ও কর্মী নেয়ার বিষয়ে আলোচনা করবেন।
আগামী দিনে বাংলাদেশের কূটনীতির গতি প্রকৃতির বিষয়ে তিনি বলেন, আমাদের আঞ্চলিক সহযোগিতার ক্ষেত্র বৃদ্ধি করতে হবে। অভিবাসন, জ্বালানি নিরাপত্তা, খাদ্য নিরাপত্তা, জলবায়ু পরিবর্তনের মতো নতুন নতুন কিছু বিষয় কূটনীতিতে যুক্ত হচ্ছে। নতুন নতুন ইস্যুতে কাজ করার জন্য নিজেদের সক্ষমতা বৃদ্ধির চেষ্টা করছি। মধ্যস্তরের কর্মকর্তাদের প্রশিক্ষিত করা হচ্ছে। ফরেন সার্ভিস একাডেমিকে আরো কার্যকর করার চেষ্টা চলছে।