সর্বোচ্চ বিদ্যুত্ উত্পাদনে তেল ও গ্যাসভিত্তিক সব কেন্দ্র চালু থাকবে

গ্রীষ্মকালীন সময়ে ও সেচ কাজে নিরবচ্ছিন্ন বিদ্যুত্ সরবরাহ করতে অন্তত এক মাস তেল এবং গ্যাস ভিত্তিক সকল বিদ্যুত্ কেন্দ্র চালু রাখা হবে। এসব কেন্দ্র থেকে সর্বোচ্চ বিদ্যুত্ উত্পাদন করা হবে। এজন্য প্রয়োজনীয় তেল মজুদসহ অন্য সব ব্যবস্থা গ্রহণ করতে সংশ্লিষ্টদের নির্দেশ দেয়া হয়েছে। এদিকে আজ সোমবার থেকে চারটি সার কারখানা বন্ধ রাখা হচ্ছে। সার কারখানায় যে গ্যাস সরবরাহ করা হতো তা দিয়ে অন্তত ৩০০ মেগাওয়াট অতিরিক্ত বিদ্যুত্ উত্পাদন হবে। গতকাল রবিবার বিদ্যুত্ ভবনের বিজয় হলে সেচ ও গ্রীষ্মকালীন সময়ে বিদ্যুত্ সরবরাহ সংক্রান্ত এক বৈঠকে এ সিদ্ধান্ত নেয় হয়। প্রধানমন্ত্রীর উপদেষ্টা ড. তৌফিক ই ইলাহী চৌধুরী বীর বিক্রমের সভাপতিতে অনুষ্ঠিত বৈঠকে বিদ্যুত্ সচিব মো. মনোয়ার হোসেন, পেট্রোবাংলার চেয়ারম্যান ড. অধ্যাপক হোসেন মনসুর, পিডিবির চেয়ারম্যান মো. আব্দুল ওহাব খানসহ বিতরণ কোম্পানির ব্যবস্থাপনা পরিচালক ও বিদ্যুত্ বিভাগের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন। বৈঠক সূত্র জানায়, পিডিবি, বিপিসি, রেলওয়ে ও বিআইডব্লি¬উটিএ’কে সময়মতো সব বিদ্যুত্ কেন্দ্রে জ্বালানি তেল সরবরাহে যথাযথ ব্যবস্থা নিতে বলা হয়েছে। বিদ্যুত্ উন্নয়ন বোর্ড সেচ পাম্পে নিরবচ্ছিন্ন বিদ্যুত্ সরবরাহের জন্য ছয়টি আঞ্চলিক কমিটি গঠন করেছে। সকল এলাকায় প্রয়োজনীয় ট্রান্সফরমার মজুদ রাখার, সেচ পাম্পগুলো রাত ১১ থেকে সকাল ৭টা পর্যন্ত চালানো, জেলা প্রশাসকদের সাথে যোগাযোগ করে ভ্রাম্যমাণ আদালত পরিচালনাসহ বিভিন্ন সিদ্ধান্ত নেয়া হয়। বিদ্যুত্ বিভাগ সূত্রে জানা গেছে, এ বছর বোরো ধান চাষে আগের বারের চেয়ে বিদ্যুত্ নির্ভর সেচযন্ত্রের সংখ্যা ১০ শতাংশ বেড়েছে। চলতি মৌসুমে সেচ যন্ত্র চলছে তিন লাখ ৩৫ হাজার ৫০৭টি। এজন্য প্রতিদিন বিদ্যুতের স্বাভাবিক চাহিদার সঙ্গে বাড়তি চাহিদা যুক্ত হয়েছে প্রায় এক হাজার ৮০০ মেগাওয়াট। সবমিলিয়ে ভরা সেচ মৌসুমে দেশে বিদ্যুেতর চাহিদা হবে সাড়ে সাত হাজার মেগাওয়াট। সংশ্লিষ্টরা বলেন, লোডশেডিং সম্পূর্ণ মুক্ত করা সম্ভব নয়। কারণ এখনো চাহিদা অনুযায়ী বিদ্যুত্ উত্পাদনের ক্ষমতা হয়নি। তবে সরকার আন্তরিকতার সাথে চেষ্টা করলে লোডশেডিংয়ের মাত্রা সহনীয় পর্যায়ে রাখতে পারবে। বর্তমান পরিস্থিতিতে সরকার সর্বোচ্চ ছয় থেকে সাড়ে ছয় হাজার মেগাওয়াট পর্যন্ত বিদ্যুত্ উত্পাদন করতে পারবে। তবে এ জন্য অবশ্যই গ্যাস সরবরাহ নিশ্চিত করতে হবে। পিডিবির কর্মকর্তারা জানান, গ্যাসের সংকটের কারণে কয়েকটি বড় বিদ্যুত্ কেন্দ্র বন্ধ রয়েছে। সার কারখানা বন্ধ রাখলে এই কেন্দ্রগুলো উত্পাদন শুরু করতে পারবে। এতে বিদ্যুত্ উত্পাদন বেড়ে প্রায় সাড়ে ছয় হাজার মেগাওয়াট হবে। এছাড়া পর্যাপ্ত তেল সরবরাহ পেলে উত্পাদন সাত হাজার মেগাওয়াটের কাছাকাছি চলে যাবে। তাদের মতে, সাত হাজার মেগাওয়াট উত্পাদন করলে পরিস্থিতি স্বাভাবিক রাখা যাবে। তাপমাত্রা বাড়তে থাকায় একটু একটু করে লোডশেডিং শুরু হয়েছে। রাজধানী ঢাকাতে বিতরণ পরিস্থিতি অনেকটা স্বাভাবিক থাকলেও গ্রামে এর মধ্যেই বিদ্যুত্ সংকট তীব্র আকার ধারণ করেছে। বিদ্যুতে সেচ প্রবণ নয় এমন এলাকাতে দিন-রাতে ঘণ্টায় ঘণ্টায় লোডশেডিং শুরু হয়েছে। বৈঠকে সেচকে সর্বোচ্চ অগ্রাধিকার দিতে বলা হয়েছে। তবে সেচকে অগ্রাধিকার দিতে গিয়ে রাতে যেন শহরে শোডশেডিং না হয় সেদিকে খেয়াল রাখতে বলা হয়েছে। একই সঙ্গে গ্রামেও সরবরাহ পরিস্থিতি স্বাভাবিক রাখার নির্দেশ দিয়ে বলা হয়, বিদ্যুতের আসা যাওয়ার খেলায় মানুষ যেন অতিষ্ঠ না হয়ে ওঠে সে বিষয়ে সংশ্লিষ্ট সকলকে সতর্ক দৃষ্টি রাখতে হবে। বৈঠকে জানানো হয়, গত ২৫ মার্চের সিদ্ধান্ত অনুযায়ী আজ সোমবার থেকে ঘোড়াশাল, পলাশ, কাফকো এবং সিইউএফএল সার কারখানায় গ্যাস সরবরাহ বন্ধ করা হবে।