যুদ্ধাপরাধীদের রক্ষার নামে দেশ ধ্বংসের তত্পরতা বন্ধ করুন
প্রকাশ : ৩১ মার্চ ২০১৩, ২২:৫০
প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা বিরোধীদলীয় নেত্রীর উদ্দেশে বলেছেন, অগ্রগতির দিকে ধাবমান বাংলাদেশকে কেন ধ্বংস করতে চান? মাত্র কয়জন যুদ্ধাপরাধীকে বাঁচাতে দেশ ধ্বংসের আন্তঘাতী খেলায় মেনেছেন কেন? তাদের রক্ষার নামে কেন জনগণতে অযথা কষ্ট দিচ্ছেন? নিজের অশান্তির আগুনে কেন দেশ ও জনগণকে ছারখার করে দিতে চান?
রবিবার বিকালে গণভবনে অনুষ্ঠিত আওয়ামী লীগের কেন্দ্রীয় কার্যনির্বাহী সংসদের মুলতবি সভায় প্রারম্ভিক বক্তব্যে প্রধানমন্ত্রী হুঁশিয়ারি উচ্চারণ করে আরো বলেন, বাংলাদেশে কোনো ধরনের সন্ত্রাসী কর্মকাণ্ড বরদাস্ত করা হবে না। যতই ষড়যন্ত্র-চক্রান্ত ও ধ্বংসাত্মক কর্মকাণ্ড চালানো হোক না কেন, দেশ এগিয়ে যাবেই। কোনো শক্তিই দেশের এই অগ্রগতি রোধ করতে পারবে না।
এদিকে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার সভাপতিত্বে বৈঠকে সূচনা বক্তব্যের পর সাংগঠনিক রিপোর্ট উপস্থাপন করেন সাধারণ সম্পাদক সৈয়দ আশরাফুল ইসলাম। এরপর সাংগঠনিক বিষয় ছাড়াও দেশের সর্বশেষ রাজনৈতিক পরিস্থিতি, দেশব্যাপী জামায়াত-শিবিরের সহিংস তাণ্ডব, সংখ্যালঘুদের ওপর নির্যাতনসহ রাজনৈতিকভাবে বিরোধীদলকে মোকাবেলার বিভিন্ন কৌশল নিয়ে বৈঠকে বিস্তারিত আলোচনা ও সিদ্ধান্ত হয়।
দেশ ও জাতি ধ্বংসের সঙ্গে জড়িতদের বিরুদ্ধে একাত্তরের চেতনায় ঐক্যবদ্ধ প্রতিরোধ গড়ে তোলার জন্য দেশবাসীর প্রতি আহ্বান জানিয়ে প্রধানমন্ত্রী বিএনপির প্রদি ইঙ্গিত করে বলেন, সেনা ছাউনিতে দলটির জন্ম বলেই গণতান্ত্রিক পরিবেশে তাদের দম বন্ধ হয়ে যায়। আর এ কারণেই বিরোধীদলীয় নেত্রী আত্মঘাতী খেলায় নেমেছেন। সেনাবাহিনীকে উস্কানি দিচ্ছেন। দেশবাসীকেই আজ সিদ্ধান্ত নিতে হবে তারা হত্যা-সন্ত্রাস-জঙ্গিবাদ-বোমাবাজি ও অগণতান্ত্রিক দেশে বসবাস করতে চান, নাকি বর্তমান সময়ের মতো সন্ত্রাস-জঙ্গিবাদমুক্ত গণতান্ত্রিক শান্তিময় দেশে থাকতে চান।
প্রধানমন্ত্রী আরো বলেন, একাত্তরের গণহত্যাকারী যুদ্ধাপরাধীদের রক্ষার নামে বিরোধীদল সারাদেশে ধ্বংসাত্মক কর্মকাণ্ডে লিপ্ত হয়েছে। এরা স্বাধীনতা ও গণতন্ত্রকে নস্যাত্ করার ষড়যন্ত্র করছে। এরা দেশ, জাতি, স্বাধীনতা ও গণতন্ত্রের শত্রু। দেশবাসীকে এদের বিরুদ্ধে সোচ্চার হতে হবে।
প্রধানমন্ত্রী আরো বলেন, বর্তমান সরকার ক্ষমতায় আসার পর থেকে প্রতিটি নির্বাচনী ওয়াদা একে একে পূরণ করে যাচ্ছে। ঢাকাসহ সারাদেশে যা উন্নয়ন করেছি তা পরখ করলেই স্পষ্ট হবে। আমরা বিদ্যুত্ উত্পাদন করছি, আর বিএনপি-জামায়াত জোট বিদ্যুত্ কেন্দ্র পুড়িয়ে দিয়ে দেশকে আবারো অন্ধকারের দিকে ধাবিত করতে চাইছে। একাত্তরে হানাদার বাহিনী যেভাবে ধ্বংসযজ্ঞ চালিয়েছে, ঠিক একই কায়দায় বর্তমানে বিএনপি-জামায়াত মানুষের ঘর-বাড়িতে আগুন, পুলিশকে পিটিয়ে হত্যা, যানবাহনে আগুন দিয়ে মানুষ হত্যা, বোমা মেরে মানুষ হত্যা করছে। তাদের একটাই লক্ষ্য যেকোনো মূল্যে যুদ্ধাপরাধীদের রক্ষা করা। কিন্তু বাংলাদেশের মাটিতে যুদ্ধাপরাধীদের বিচার হবেই, কেউ-ই রক্ষা করতে পারবে না।
যুদ্ধাপরাধীদের বিচারে গঠিত আন্তর্জাতিক ট্রাইব্যুনাল সম্পর্কে বিএনপি-জামায়াতের সমালোচনার জবাবে প্রধানমন্ত্রী বলেন, সারাবিশ্বেই যুদ্ধাপরাধীদের বিচার হচ্ছে। বাংলাদেশে যে আন্তর্জাতিক ট্রাইব্যুনালে যুদ্ধাপরাধীদের বিচার হচ্ছে তা অনেক বেশি মানবিক ও সহনশীল ব্যবস্থায়। যুদ্ধাপরাধীদের বিচারে বিশ্বের কোনো আন্তর্জাতিক ট্রাইব্যুনালে আপিলের ব্যবস্থা নেই। আমরা প্রথম আইন করে আপিলের ব্যবস্থা করেছি।
কোনো ধর্মীয় অপপ্রচারে বিভ্রান্ত না হওয়ার জন্য দেশবাসীর প্রতি আহ্বান জানিয়ে আওয়ামী লীগ সভানেত্রী বলেন, কোনো ধর্মের ধর্মীয় অনুভূতিতে আঘাত হানার রাজনীতিতে আমরা বিশ্বাস করি না। যারা করে তাদের বিরুদ্ধে ইতিমধ্যে আমরা এ্যাকশন শুরু করে দিয়েছি। কোনভাবেই মহানবী (স.) অসম্মানকারী কাউকে ছাড়া হবে না। এ ব্যাপারে কাউকে দাবি বা আন্দোলন করতে হবে না। আমি একজন মুসলমান। আমি জানি সকল ধর্মের মর্যাদা কীভাবে রক্ষা করতে হয়। এর আগে ধর্মীয় উস্কানিমূলক বক্তব্য প্রচারের জন্য আমরা ইউটিউব বন্ধ করে দিয়েছিলাম, এক্ষেত্রে কাউকে দাবি বা আন্দোলন করতে হয়নি। তিনি বলেন, এ ব্যাপারে সরকারের পক্ষ থেকে একটি শক্তিশালী কমিটি গঠন করা হয়েছে। কেউ কোনো স্থানে যদি ধর্মীয় অনুভূতিতে আঘাত বা অসৌজন্য কোন লেখা বা কথা বলে তাত্ক্ষণিকভাবে ওই কমিটি ব্যবস্থা নেবে। ধর্মীয় অপপ্রচারকারীদের সম্পর্কেও সজাগ ও সতর্ক থাকার জন্য তিনি দেশবাসীর প্রতি আহ্বান জানান।
ব্রাহ্মণবাড়িয়ায় টর্নেডোর আঘাতে ক্ষতিগ্রস্ত এলাকা পরিদর্শন শেষে বিরোধীদলীয় নেত্রী খালেদা জিয়ার অভিযোগের জবাবে প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘বিশাল গাড়ির বহর নিয়ে দুর্গত এলাকায় গিয়ে আপনি তো কোনো সাহায্য করলেন না। আপনার (খালেদা জিয়া) তো টাকা-পয়সার অভাব নেই। শুনলাম সিঙ্গাপুরে গিয়ে অনেক টাকা এনেছেন, সেখান থেকে কিছুটা দিলেন না কেন? তিনি বলেন, প্রাকৃতিক দুর্যোগ কীভাবে মোকাবেলা করতে হয় তা আওয়ামী লীগ জানে। আমাদের দোষ ধরার আগে নিজের চেহারা দেখুন। সরকার বা বিরোধীদলে থাকুক যখনই যেখানে প্রাকৃতিক দুর্যোগ হয়েছে জনগণের পাশে আওয়ামী লীগ ছিল, আছে এবং ভবিষ্যতেও থাকবে।