তানোর স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে দুটি এম্বুলেন্সই বিকল

তানোর উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের দু’টি এ্যাম্বুলেন্সই দীর্ঘদিন ধরে নষ্ট। এ্যাম্বুলেন্স দু’টি সচল করতে কর্তৃপক্ষের কোন উদ্যোগ নেই। শুক্রবার সাপ্তাহিক ছুটির দিন ডাক্তার ও স্টাফ অনুপস্থিত থাকায় জরুরি বিভাগ বন্ধ থাকে। আরো অনিয়ম-অব্যবস্থাপনা তো রয়েছেই। এসব দেখার কেউ নেই। তানোর উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে মেডিসিন বিশেষজ্ঞ, গাইনি বিশেষজ্ঞ, জুনিয়র কনসালট্যান্ট, ডেন্টাল সার্জনসহ ৯৫টি পদে বাস্তবে রয়েছেন মাত্র কয়েকজন। ২০ জন ডাক্তারের ৫ জনই নেই। চারজন ঢিমেতালে অফিস করলেও ১১ জন রাজনৈতিক প্রভাবে বাসায় বসে বেতন উত্তোলন করেন। ১৫ জন নার্সের বিপরীতে অফিস করেন নয়জন। তিনজন মেডিক্যাল টেকনোলজিষ্টের মধ্যে নামমাত্র অফিস করেন একজন। ওয়ার্ড বয়দের ক্ষেত্রেও এমন অভিযোগ দীর্ঘদিনের। একই চিত্র উপজেলার পাঁচটি ইউনিয়ন স্বাস্থ্যসেবা কেন্দ্রে। অভিযোগ রয়েছে, যারা অফিস করেন তারাও প্রতিদিন শহর থেকে আসেন। আউটডোরে শত শত রোগীর ভিড় সত্ত্বেও চিকিত্সক চেম্বারে ও চায়ের দোকানে মেডিক্যাল রিপ্রেজেন্টেটিভ নিয়ে আড্ডা দেন। আউটডোরের একমাত্র চিকিত্সক বাইরে কিংবা অনুপস্থিত থাকলে রোগীদের ভোগান্তির শেষ নেই। গত ১৯ মার্চ উপজেলার হরিপুরের স্কুলছাত্র আল-আমিন (১২) তানোর পৌরভবনের সামনে বাসের ধাক্কায় গুরুতর আহত হয়। তাকে উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নেয়া হলে চিকিত্সক রাজশাহী মেডিক্যাল কলেজ (রামেক) হাসপাতালে রেফার করেন। কিন্তু দু’টি এ্যাম্বুলেন্সই নষ্ট থাকায় তাকে মিশুকে রাজশাহী পাঠাতে বিলম্বের কারণে পথিমধ্যে তার মৃত্যু হয়। গত শুক্রবার বিকালে চাঁদপুর গ্রামের ময়েদ আলীর কাটা আঙ্গুলের চিকিত্সায় উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের জরুরি বিভাগে চিকিত্সক না পেয়ে তাকে রামেক হাসপাতালে আসতে হয়। এনিয়ে রোগীর লোকজন হৈচৈ করলে ওয়ার্ডের মহিলা চিকিত্সক জানান, শুক্রবার জরুরি বিভাগ বন্ধ থাকে। ওই সময়ে আকচা বানিয়ালপাড়ার রশিদা বেগম জরুরি বিভাগে চিকিত্সা না পেয়ে ভোগান্তিতে পড়েন। এভাবে শতশত রোগী ভোগান্তির শিকার হচ্ছেন। কেউ অকালে মারা যাচ্ছেন। রবিবার উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে গিয়ে স্থানীয় সাংবাদিকরা পুরুষ ও মহিলা ওয়ার্ডে নানা অব্যবস্থাপনা দেখতে পান। উপস্থিত রোগীর এ্যাটেনডেন্টরা জানান, বিছানার চাদর ময়লা-দুর্গন্ধযুক্ত। রোগীর খাবারও অত্যন্ত নিম্নমানের। ওয়ার্ডবয় দায়িত্ব পালন করেন না। টয়লেট ও গোসলখানা ব্যবহারের অনুপযোগী। বিদ্যুত্ চলে গেলে তেলের টাকা চুরিতে জেনারেটর বন্ধ। রোগীরা নিজ দায়িত্বে রিচার্জেবল ফ্যান ও লাইটের ব্যবস্থা করে। পৌরসভার বুরুজ গ্রামের মাদ্রাসা সুপার আসলাম জানান, উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের জরুরি বিভাগের দায়িত্বপ্রাপ্তরা পিয়নকে রেখে নিজস্ব ক্লিনিকে রোগী দেখেন। উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা ডা. আব্দুল আলিম বলেনঃ নষ্ট এ্যাম্বুলেন্স মেরামতে বরাদ্দ নেই। ছুটির দিনে জরুরি বিভাগ বন্ধ থাকার অভিযোগ অস্বীকার করে বলেন, কতিপয় উদাসীন ডাক্তার ও কর্মচারীর দায়িত্বে অবহেলায় চিকিত্সাসেবা কিছুটা ব্যাহত হচ্ছে। কিন্তু রাজনৈতিক কারণে দায়িত্বে অবহেলাকারীদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেয়া যায় না।