ট্রাইব্যুনালে কাদের মোল্লার রায়ের বিরুদ্ধে সরকারের আপিলের শুনানি শুরু
প্রকাশ : ০১ এপ্রিল ২০১৩, ২২:৩৪
মানবতাবিরোধী অপরাধে জামায়াত নেতা আব্দুল কাদের মোল্লার যুদ্ধাপরাধ ট্রাইব্যুনালের রায়ের বিরুদ্ধে রাষ্ট্রপক্ষের আপিল শুনানি শুরু হয়েছে। প্রধান বিচারপতি মো. মোজাম্মেল হোসেনের নেতৃত্বে আপিল বিভাগের ছয় বিচারপতির বেঞ্চে গতকাল সোমবার সকাল ৯টা ৪০ মিনিটে এ শুনানি শুরু হয়। বেঞ্চের অপর বিচারকরা হলেন, বিচারপতি এসকে সিনহা, বিচারপতি মোহাম্মদ আব্দুল ওয়াহহাব মিয়া, বিচারপতি সৈয়দ মাহমুদ হোসেন, বিচারপতি ছিদ্দিকুর রহমান মিয়া ও বিচারপতি এএইচএম শামসুদ্দিন চৌধুরী।
শুরুতে কাদের মোল্লার পক্ষে অ্যাডভোকেট খন্দকার মাহবুব হোসেন শুনানির জন্য সময় চেয়ে আবেদন করলেও আদালত তা নাকচ করে দেন। এ পর্যায়ে আদালত বলেন, যেহেতু রাষ্ট্রপক্ষ আপিলের বিষয়ে আগে বক্তব্য দেবে, সেহেতু আসামিপক্ষ এমনিতেই সময় পাচ্ছে। সুতরাং আর আলাদা করে সময় দেয়ার প্রয়োজন নেই। রাষ্ট্রপক্ষে এটর্নি জেনারেল অ্যাডভোকেট মাহবুবে আলম রাষ্ট্রপক্ষের আপিলটি উপস্থাপন করেন। তাকে সহায়তা করেন সাবেক বিচারপতি সৈয়দ আমীরুল ইসলাম ও অতিরিক্ত এটর্নি জেনারেল অ্যাডভোকেট এমকে রহমান।
শুনানি শেষে খন্দকার মাহবুব হোসেন সাংবাদিকদের বলেন, আমরা বলেছিলাম, ভারতীয় উপমহাদেশের এই ধরনের মামলা ইতিপূর্বে হয়নি। এজন্য সকলেরই প্রস্তুতির জন্য সময় দরকার। আমরা সময় চেয়েছিলাম, কিন্তু আদালত সময় না দিয়ে মামলাটা শুরু করে দেন। তিনি বলেন, আমি আদালতকে বলেছিলাম, এখানে দুটি আপিল হয়েছে। একটি আমরা করেছি সাজা থেকে খালাস পেতে। আর সাজা বাড়াতে আরেকটি আপিল করেছে সরকার। আমার আপিল শুনার পর সাজা যদি বহাল থাকে, সেইক্ষেত্রে প্রশ্ন আসবে সাজা বৃদ্ধি করা যায় কি-না? আমার মামলার আগে যদি তার মামলা হয়ে যায়, এক্ষেত্রে আমার মক্কেলের আশংকা দেখা দিয়েছে, তাহলে তার আপিলটা খারিজ হয়ে যাবে।
এটর্নি জেনারেল মাহবুবে আলম সাংবাদিকদের বলেন, যেহেতু আমাদের আপিলটা আগে ফাইল করেছিলাম। এ কারণেই আদালত আগে আমাদের মামলাটি শুনানির জন্য ডেকেছেন। আগের মামলা আগে শুনাই আপিল বিভাগের নিয়ম। তিনি বলেন, আজকে আদালত প্রথমে ট্রাইব্যুনালের রায় সম্পর্কে অবহিত হতে চেয়েছেন। এ কারণে সকাল থেকে আমরা সেটা উপস্থাপন করেছি। প্রায় তিন ঘণ্টা রায় পড়েছি। রায়টি হলো ৪২৯টি প্যারাগ্রাফের। এরমধ্যে আমরা ১১৯টি প্যারাগ্রাফ পড়ে শেষ করেছি। এটর্নি জেনারেল বলেন, আমাদের আপিল হলো একটি বিষয়ের উপর। যে কয়েকটি ধারায় (একটি স্থানে আমাদের বক্তব্য মতো) অপরাধটা প্রমাণিত হয়েছে। ঘাটারচরে যেটা, তারপরও আদালত সেখানে তাকে সাজা দেন নাই, খালাস দিয়েছেন। আমাদের আর্গুমেন্ট থাকবে সেটার ব্যাপারে। দুটি ক্ষেত্রে আদালত বলেছে, তিনি দোষী। দোষী সাব্যস্ত হলে প্রথমত তাকে মৃত্যুদণ্ড দিতে হবে। না দেয়া গেলে কেন দেয়া গেল না, সেটা বলতে হবে। সে কারণে আমাদের দাবি হলো, ৫ (আলোকদী গ্রাম ঘিরে নির্বিচারে গুলি করে ৩৪৪ জনকে হত্যা) ও ৬ (হযরত আলীকে গুলি করে হত্যা) নম্বর অভিযোগ প্রমাণিত হয়েছে সেক্ষেত্রে মৃত্যুদণ্ড হওয়া উচিত। এদিকে আপিলের শুনানিকালে এজলাসের বাইরে কালো পতাকা মিছিল করেছে সরকার বিরোধী আইনজীবীরা। এ কারণে এজলাসের দরজার সিটকানি ভেতর থেকে বন্ধ করে দিয়ে বিচার কাজ অনুষ্ঠিত হয়।