জামায়াত-শিবির বিরোধী বিশেষ অভিযান চালানোর নির্দেশনা
প্রকাশ : ০১ এপ্রিল ২০১৩, ২২:৩৭
আগামী ৬ এপ্রিল হেফাজতে ইসলামের ডাকা ঢাকামুখি লংমার্চের কর্মসূচিতে বাধা দেবে না সরকার। তবে এ কর্মসূচির সুযোগে জামায়াতে ইসলামী ঢাকাসহ সারাদেশে বড়সড় নাশকতা চালাতে পারে বলে সরকারের কাছে গোয়েন্দা তথ্য রয়েছে। এ তথ্যের ভিত্তিতে নাশকতা বিরোধী কর্মকাণ্ডের বিরুদ্ধে আইনানুগ পন্থায় সর্বোচ্চ ব্যবস্থা আরোপের সিদ্ধান্ত নেয়া হয়েছে বলে জানা গেছে।
গতকাল সোমবার স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ে মন্ত্রীর দপ্তরে অনুষ্ঠিত এক উচ্চ পর্যায়ের এ বৈঠকে ৬ এপ্রিলকে ঘিরে বিরাজমান সার্বিক পরিস্থিতি মূল্যায়ন করা হয়। এ বৈঠকে রাজশাহীতে পুলিশ কর্মকর্তার ওপর হামলায় তার দুটি হাতের কব্জি উড়ে যাওয়ার বিষয়েও পর্যালোচনা করা হয়।
স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী ড. মহীউদ্দীন খান আলমগীরের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত বৈঠকে নৌ-পরিবহনমন্ত্রী শাহজান খান, পরিবেশ ও বন মন্ত্রী হাছান মাহমুদ, স্থানীয় সরকার প্রতিমন্ত্রী জাহাঙ্গীর কবীর নানক, আইন প্রতিমন্ত্রী কামরুল ইসলাম, স্বরাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী শামসুল হক টুকু, মহাপুলিশ পরিদর্শক হাসান মাহমুদ খন্দকার, প্রধানমন্ত্রীর বিশেষ সহকারী ও আওয়ামী লীগের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক মাহবুবুল আলম হানিফ প্রমুখ উপস্থিত ছিলেন।
বৈঠক শেষে স্বরাষ্ট্র মন্ত্রী সাংবাদিকদের বলেন, হেফাজতে ইসলামের কর্মসূচিতে সরকার বাধা দেবে না। তবে এ সুযোগে জামায়াত নাশকতা করতে পারে-এ জন্য আইন-শৃংখলা বাহিনীকে আইনানুগ সর্বোচ্চ ব্যবস্থা আরোপের নির্দেশ দেয়া হয়েছে। রাজশাহীসহ সারাদেশে জামায়াত-শিবির বিরোধী বিশেষ অভিযান পরিচালনার নির্দেশনাও দেয়া হয়েছে। তিনি বলেন, যেভাবে পুলিশ কর্মকর্তার ওপর আক্রমণ করা হয়েছে তা কোনোভাবেই মেনে নেয়া যায় না। সারাদেশ থেকে জামায়াত-শিবিরের মূল উত্পাটনের নির্দেশ দেয়া হয়েছে।
বৈঠক সূত্র জানায়, বিএনপি কার্যালয়ের সামনে গুলির ঘটনাকে ওই দলটির নিজস্ব কারসাজি বলে মন্তব্য করে বৈঠকে বলা হয়, তারা একটি পরিস্থিতি সৃষ্টির পাঁয়তারা করছে। একইসঙ্গে জনগণের সহানুভূতি আদায়ের চেষ্টায় এ কাজ করা হয়েছে।
আজ মঙ্গলবার আইন-শৃংখলা সংক্রান্ত মন্ত্রিসভা কমিটির সভা শেষে হেফাজতে ইসলামির কর্মসূচির বিষয়ে সরকারের অবস্থান আনুষ্ঠানিকভাবে জানানো হবে।
প্রসঙ্গত. মহানবী ( সাঃ) বিরুদ্ধে কঠাক্ষ করার প্রতিবাদ ও এরসঙ্গে জড়িতদের গ্রেফতার ও শাস্তির দাবিতে হেফাজতে ইসলামের পক্ষ থেকে ৬ এপ্রিল ঢাকামুখি লংমার্চ ও সমাবেশের ডাক দেয়া হয়েছে। বিএনপি-জামায়াতসহ ১৮ দল, জাতীয় পার্টি ( এরশাদ), ইসলামী শাসনতন্ত্র আন্দোলনসহ প্রভৃতি দল এ কর্মসূচিতে সমর্থন দিয়েছে। হেফাজতে ইসলামের পক্ষ থেকে বলা হয়েছে ৬ এপ্রিল কর্মসূচিতে বাধা দিলে ৭ এপ্রিল থেকে লাগাতার হরতাল বা অবস্থান কর্মসূচি শুরুর হুমকি দেয়া হয়েছে।