বিএনপি জনসমর্থন হারিয়ে গণতন্ত্র ধ্বংসের চক্রান্তে লিপ্ত :আওয়ামী লীগ
প্রকাশ : ০১ এপ্রিল ২০১৩, ২২:৩৭
আওয়ামী লীগ বলেছে, দীর্ঘ সংগ্রামের পর আজ যখন দেশে গণতন্ত্র প্রতিষ্ঠিত হয়েছে, তখন বিএনপি দেশকে অতীতের অসাংবিধানিক স্বৈরশাসনে ফিরিয়ে নিতে চায়। বিএনপি ইতিহাস থেকে কোন শিক্ষাই নেয়নি। তারা এখনো অতীতের ন্যায় ষড়যন্ত্রের রাজনীতি এবং জনগণের আস্থা হারিয়ে পেছনের দরজা দিয়ে ক্ষমতা দখলের আত্মঘাতী পথ অনুসরণ করছে।
গত রবিবার অনুষ্ঠিত আওয়ামী লীগের কার্যনির্বাহী সংসদের সভায় গৃহীত এক প্রস্তাবে এ কথা বলা হয়। দলীয় সভানেত্রী প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত সভায় দেশের শান্তি, গণতন্ত্র ও উন্নয়নের ধারাকে নস্যাত্ করার জন্য বিএনপি-জামায়াত অশুভ জোটের দেশব্যাপী হত্যা, সন্ত্রাস, নৈরাজ্য, ন্যক্কারজনক কার্যকলাপের তীব্র নিন্দা ও প্রতিবাদ এবং একই সাথে এই অশুভ শক্তির বিরুদ্ধে ঐক্যবদ্ধ প্রতিরোধ গড়ে তোলার জন্য দলের পক্ষ থেকে দেশবাসীর প্রতি আহ্বান জানানো হয়।
সভায় গত ২৪ মার্চ বগুড়ায় এক সমাবেশে সেনাবাহিনীকে উদ্দেশ করে দেয়া বিরোধী দলীয় নেতা খালেদা জিয়ার বক্তব্যকে উস্কানিমূলক আখ্যায়িত করে বলা হয়, তার এ বক্তব্য বিএনপির নেতৃত্বের অতীতের ন্যায় গণতন্ত্র ও জনগণের প্রতি আস্থা না থাকার বহিঃপ্রকাশ মাত্র। এই দলটি গণতন্ত্রে বিশ্বাস করে না। তারা জনসমর্থন হারিয়ে গণতন্ত্রকে ধ্বংস করার চক্রান্তে লিপ্ত রয়েছে।
অপর এক প্রস্তাবে বলা হয়, সশস্ত্র বাহিনীর পেশাদারিত্বের প্রশংসায় আজ সারাবিশ্বে সমাদৃত। মুক্তিযুদ্ধের চেতনায় উদ্বুদ্ধ দেশপ্রেমিক সেনাবাহিনীকে কোনভাবেই বিতর্কিত করতে দেয়া হবে না। জাতীয় নিরাপত্তা তথা সার্বভৌমত্ব রক্ষার মহান দায়িত্বে নিয়োজিত সেনাবাহিনীকে যারা বিতর্কিত করার অপচেষ্টা করছে জাতি তাদের ক্ষমা করবে না।
বৈঠকে গৃহীত আরেক প্রস্তাবে বলা হয়, আমাদের ভবিষ্যত্ প্রজন্মের শিক্ষা জীবন ধ্বংস করার সুদূরপ্রসারী অসত্ উদ্দেশ্যে বিএনপি-জামায়াত অশুভ জোট এক সর্বনাশা ষড়যন্ত্রে লিপ্ত রয়েছে। এই অপশক্তি বিগত এসএসসি ও জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয়ের পরীক্ষার দিনগুলোতে অহেতুক, অযৌক্তিকভাবে দেশব্যাপী বারবার হরতাল আহ্বান করে। এছাড়াও দেশের বিভিন্ন স্থানে ও জেলায় অসংখ্যবার হরতাল অবরোধের ন্যায় গণবিরোধী কর্মসূচির মধ্য দিয়ে শিক্ষার্থীদের জীবনে এক করুণ পরিস্থিতির সৃষ্টি করে। যার কারণে ১৩ লাখ কোমলমতি ছাত্র-ছাত্রী এক সীমাহীন দুর্ভোগের অসহায় শিকার হয়। তাদের নিক্ষিপ্ত ককটেলে চট্টগ্রামে অন্তু বড়ুয়া নামের এক কিশোরী মারাত্মকভাবে আহত হয়।
বৈঠকে আওয়ামী লীগের পক্ষে বিরোধী দলের উদ্দেশে বলা হয়, নির্বাচিত জনপ্রতিনিধি এবং বিরোধী দল হিসেবে সংসদে এসে যে কোন বক্তব্য উত্থাপন এবং পারস্পরিক আলাপ-আলোচনা ও পূর্ব শর্ত ছাড়া সংলাপের মাধ্যমে যে কোন রাজনৈতিক সমস্যার শান্তিপূর্ণ সমাধান সম্ভব। কষ্টার্জিত গণতান্ত্রিক ব্যবস্থাকে রক্ষা, আরও সংহত এবং বিকশিত করার স্বার্থে দায়িত্বশীল সকল রাজনৈতিক দল, শ্রেণীপেশার সংগঠন, নাগরিক সমাজ এবং ব্যক্তিকে এগিয়ে আসার উদাত্ত আহ্বান জানানো হয়।
সভায় গৃহীত সাংগঠনিক সিদ্ধান্তগুলো হলো অতি সমপ্রতি ব্রাহ্মণবাড়িয়া ও নওগাঁয় বয়ে যাওয়া প্রলয়ংকারী টর্নেডোতে ক্ষতিগ্রস্ত জনসাধারণের মাঝে ত্রাণ কার্যক্রম সাংগঠনিকভাবে অব্যাহত রাখা, ঢাকা মহানগর আওয়ামী লীগসহ যে সকল শাখা সংগঠনসমূহে সম্মেলন অনুষ্ঠিত হয়নি, সে সকল শাখাগুলোর মেয়াদ ৬ মাস বর্ধিত করে দ্রুততম সময়ে সম্মেলন সম্পন্ন করতে হবে। পহেলা বৈশাখ (১৪ এপ্রিল) শুভ বাংলা নববর্ষ উদযাপন এবং আগামী ১৭ এপ্রিল ঐতিহাসিক মুজিবনগর দিবসটি প্রতিবারের ন্যায় সমগ্র দেশবাসীর সাথে একত্রিত হয়ে পালনে বিভিন্ন কর্মসূচি গৃহীত হয়।