জন্মদিনের শুভেচ্ছা

বাংলা সংবাদপত্রের জগতে দৈনিক ইত্তেফাক একটি ঐতিহ্যবাহী পত্রিকা। এ পত্রিকাটি সাপ্তাহিক হিসেবে প্রকাশিত হয় ১৯৪৯ খ্রিস্টাব্দের ১৫ আগস্ট। নির্ভীক সাংবাদিক তফাজ্জল হোসেন মানিক মিয়া ১৯৫১ খ্রিস্টাব্দে সাপ্তাহিক ইত্তেফাক সম্পাদনা ও পরিচালনার দায়িত্ব গ্রহণ করেন এবং ১৯৫৩ খ্রিস্টাব্দে তিনি নিজের সম্পাদনায় দৈনিক ইত্তেফাক প্রকাশ করেন। দৈনিক ইত্তেফাকের প্রকাশনার ইতিহাসে ২ এপ্রিল একটি উজ্জ্বল দিন। ১৯৫৫ খ্রিস্টাব্দের এদিন ইত্তেফাকের ভেতরের পাতায় প্রথম ছাপা হয় কচি-কাঁচার আসর। দীর্ঘসময় পেরিয়ে কচি-কাঁচার আসরের বয়স ৫৮ বছর পূর্ণ হলো। গতকাল ছিলো আসরের জন্মদিন। আসরের জন্মদিন উপলক্ষে অনেকেই শুভেচ্ছা জানিয়েছেন এবং পরামর্শ দিয়েছেন। এখানে তা ছাপা হলো। শামসুজ্জামান খান কথাটা শুনলে মনে হতে পারে বাড়িয়ে বলছি। আসলে বাড়িয়ে বলছি না। সত্যি কচি-কাঁচার আসর আমাদের সাহিত্য ভাণ্ডারকে যেভাবে সমৃদ্ধ করেছে, অন্য কোন পাতার পক্ষে সেটি সম্ভব হয়নি। সাহিত্য ভাণ্ডারকে সমৃদ্ধ করেছে বলতে আমি বোঝাতে চাচ্ছি— এই পাতাটি এমন কিছু সাহিত্যিক সৃষ্টি করেছে, যারা আমাদের সাহিত্য ভাণ্ডারকে সমৃদ্ধ করেছেন। পাশাপাশি শিল্পের বিষয়টি তো আছেই। এখন শিল্পী হিসেবে আমরা যাদেরকে চিনি তারা প্রায় সবাই উঠে এসেছেন কচি-কাঁচার আসরের হাত ধরে। ভবিষ্যতেও এই ধারা অব্যাহত থাকবে, আমি দৃঢ়ভাবে বিশ্বাস করি। কারণ নিজেকে শিল্পী এবং সাহিত্যিক হিসেবে গড়ে তোলার সব উপকরণই এই কচি-কাঁচার আসরে ছিল এবং আছে। তবে নিজের শিল্পী কিংবা সাহিত্যিক হওয়ার সম্ভাবনা না থাকলে যে কচি-কাঁচার আসর পড়ে উপকার পাওয়া যাবে না, তা কিন্তু না। সাধারণ শিশু-কিশোর এই পাতা পড়ে নিজের প্রতিভাকে বিকশিত করতে পারছে। আর এটি করে আসছে গত ৫৮ বছর ধরেই। আমি নিশ্চিত কচি-কাঁচার আসরের সুবাদে আমরা আরো অনেক প্রতিভাবান সাহিত্যিক পাবো। রোকনুজ্জামান খান দাদাভাই মানিক ভাই-এর নির্দেশে সে লক্ষ্যেই কাজ করছে। সুকুমার বড়ুয়া লেখালেখির যোগ্যতা মানুষ চেষ্টা করে অর্জন করতে পারে না। এই যোগ্যতা যার মধ্যে থাকে, জন্মগতভাবেই থাকে। তবে এটা ঠিক, এই যোগ্যতা বা প্রতিভা থাকলেই যে একজন মানুষ নিজেকে লেখক, কবি কিংবা ছড়াকার হিসেবে গড়ে তুলতে পারবে তা কিন্তু ঠিক নয়। এর জন্য দরকার চর্চা। আর চর্চার জন্য দরকার হয় পরিবেশের। কচি-কাঁচার আসর সেই পরিবেশটাই দিয়েছে। ফলে যাদের মধ্যে লেখালেখির গুণটা আছে, তারা গুণটাকে কাজে লাগানোর সুযোগ পাচ্ছে। শিশু-কিশোররা কোমলমতি। তাদের মনে যে কোন কিছুই খুব সহজে প্রভাব ফেলে। সেটি ভালো হোক আর মন্দই হোক। তবে প্রভাবটি যদি মন্দ হয়, তা হলে সে যখন বড় হয়, সবকিছু খুব ভালোভাবে বিচার করতে শেখে, তখন সে এটি মন থেকে সরিয়ে ফেলার চেষ্টা করে। আর ভালো হলে সারাজীবনের জন্য রেখে দেয়। কচি-কাঁচার আসরের ক্ষেত্রে এই ব্যাপারটি লক্ষ্য করা যায়। যারা সেই ছোটবেলায় এই পাতা পড়েছেন, এখনও এর কথা ভোলেননি। এখনও চেষ্টা করেন পড়তে। এভাবেই প্রমাণিত হয় কচি-কাঁচার আসর শিশুদের মনে ইতিবাচক প্রভাব ফেলেছে এবং তাদের প্রতিভা প্রকাশের ক্ষেত্রে অবদান রেখে চলেছে। আমার অধিকাংশ লেখা কচি-কাঁচার আসরে ছাপা হয়েছে। ইত্তেফাক কর্তৃপক্ষের নিকট আমরা অনেক ঋণী। ফয়সাল শাহ ছোট থেকেই খুব আগ্রহ নিয়ে কচি-কাঁচার আসর পড়ি। ছোটদের গল্প, কবিতা, ছড়া ও শিশুদের লেখা আমি খুব আগ্রহ নিয়েই পড়ি। কচি-কাঁচার আসর পড়েই ছোট থেকেই শিশুসাহিত্য চর্চার আগ্রহ জাগে। কচি-কাঁচার আসরে গল্প ও ছড়া লিখে থাকি। কচি-কাঁচার আসর শিশু-সাহিত্যের অগ্রগতিতে দীর্ঘদিন ধরে মুখ্য ভূমিকা পালন করছে। বর্তমানে বৃহত্ কলেবরে কচি-কাঁচার আসর প্রতি বুধবার প্রকাশিত হচ্ছে। ছোটমণিদের সন্দেশ, তোমাদের চিঠি থেকে, কুইজ প্রতিযোগিতা, নতুন সদস্যের তালিকা, কচি-কাঁচার আসরের কুপন, আমার কথা, আমার প্রিয় স্কুল, ছড়া-কবিতাসহ মজার মজার ছোটদের লেখা থাকে। দেশের বরেণ্য শিশু-সাহিত্যিক ও লেখকরা কচি-কাঁচার আসরে লিখে যাচ্ছেন, যা সকলের কাছেই সমাদৃত। আমি কচি-কাঁচার আসরের সার্বিক শুভ কামনা করছি। স্যুট নম্বর-৭২ নিউ সার্কিট হাউজ, ইস্কাটন, ঢাকা। কাজী রিচি ইসলাম সদস্য নম্বর:২৫ অসংখ্য পত্রিকার ভিড়ে কচি-কাঁচার আসর সত্যিই অনন্য। বিশ্ব যখন অপসংস্কৃতির কালো থাবায় আক্রান্ত, কচি-কাঁচার আসর তখন বিলিয়ে দিচ্ছে সৃজনশীল সংস্কৃতি, যা আমাদের সুস্থ- সুন্দর মানসিক ও মনোবল গড়ে তোলার সহায়ক। সেই ১৯৫৫ খ্রিস্টাব্দ থেকে এটি প্রকাশিত হয়ে আসছে। এই দীর্ঘ পথ চলাই প্রমাণিত হয় যে, এটি কত জনপ্রিয়। আমরা কচি-কাঁচার আসর থেকে অনেক গুণীজনকে পেয়েছি। ইত্তেফাক পত্রিকার শিশুতোষ এই বিভাগটি অর্থাত্ কচি-কাঁচার আসর আমাদের লেখার ও আঁকার সুযোগ করে দিয়েছে। আমি কচি-কাঁচার আসরের নিয়মিত পাঠক ও ক্ষুদে লেখক। আমার বিশ্বাস, কচি-কাঁচার আসর থেকে বেরিয়ে আসবে পল্লী কবি জসীম উদ্দীন, জাতীয় কবি কাজী নজরুল ইসলাম, শিল্পাচার্য জয়নুল আবেদিনের মতো বরেণ্য ব্যক্তিবর্গ। আর কচি-কাঁচার আসর দুই পৃষ্ঠা হওয়ায় আমি কেন, আমরা সবাই খুশি। মতামত হিসেবে বলতে চাই, কচি-কাঁচার আসর তুমি তোমার মতো করে আরও এগিয়ে যাও এবং শ্রদ্ধা জানাই নির্ভীক সাংবাদিক তফাজ্জল হোসেন মানিক মিয়াকে। তিনি কচি-কাঁচার আসরের মাধ্যমে আমাদের জন্য চমত্কার সুযোগ সৃষ্টি করেছিলেন। সালাম জানাই দাদাভাই ও কচি-কাঁচার আসর সংশ্লিষ্ট সকলকে। আসরের সকলকে আগাম নববর্ষের শুভেচ্ছা ও শুভ কামনা। রূপনগর, মিরপুর, ঢাকা-১২১৬। বুলবুল-এ-জাফর জাতীয় দৈনিকগুলোর বিশেষ পাতাগুলোর মধ্যে দৈনিক ইত্তেফাকের বুধবারে প্রকাশিত কচি-কাঁচার আসর আমার সবচেয়ে প্রিয় পাতা। শিশু-কিশোরদের জন্য প্রকাশিত এই পাতাটির জন্মদিনে গভীর শুভেচ্ছা জানাই। এটিই একমাত্র দৈনিক সংবাদপত্রের ছোটদের বিশেষ পাতা, যেখানে পূর্ণরূপে শিশু-কিশোরদের চিন্তা-চেতনা আর স্বপ্ন-আকাঙ্ক্ষার প্রতিফলন দেখা যায়। শিশুদের মুক্ত মননের চর্চা করার চমত্কার সুযোগ রয়েছে এখানে। ছোটদের চিঠিপত্র, প্রিয় বই আলোচনা, প্রিয় স্কুল পরিচিতি, ছড়া-কবিতা, চিত্রাঙ্কনসহ নানামুখী অংশগ্রহণ থাকে নিয়মিত। জনপ্রিয় শিশু সাহিত্যিকদের উজ্জ্বল উপস্থিতি বিশেষ মাত্রা যোগ করে। এই কচি-কাঁচার আসর থেকেই বিখ্যাত হয়েছেন এমন সাহিত্যিকও অনেক। বিখ্যাতদের আত্মকথাসহ ঐতিহাসিক বিষয় অত্যন্ত সচেতনতার সাথে প্রকাশ করা হয়, যাতে শিশুরা সঠিক ইতিহাস থেকে প্রেরণা পায়। আমাদের মহান মুক্তিযুদ্ধ এবং অন্য সকল বীরোচিত অর্জন দায়িত্বশীলতার সাথে সম্পাদনা করা হয়। জাতির কাণ্ডারি মহান ব্যক্তিত্ব জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান, বিশ্বকবি রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর, বিদ্রোহী কবি কাজী নজরুল ইসলাম প্রমুখ ব্যক্তিকে অহংকারের সাথে ফুটিয়ে তোলা হয় কচি-কাঁচার আসরে। সৃজনশীলতাকে উত্সাহিত করতে সমসাময়িক শিশু বিষয়ক খবর প্রকাশের মাধ্যমে তাদের সফলতা তুলে ধরা হয়। এখানে যেসব ছড়া-কবিতা, প্রবন্ধ, গল্প স্থান পায় সেগুলো যেমন সমসাময়িক, তেমনি শিক্ষামূলক। আমি ইত্তেফাক কর্তৃপক্ষের প্রতি কৃতজ্ঞতা জ্ঞাপন করছি। কচি-কাঁচার আসর কতটা জনপ্রিয় তার প্রমাণ সম্প্রতি এটি এক পৃষ্ঠা থেকে উন্নীত হয়ে দুই পৃষ্ঠা জুড়ে ছাপা হচ্ছে। আসরের সদস্য ভাইবোনদের সংখ্যাও বলে দেয় এটি কতটা ভালোবাসার সাথে তারা গ্রহণ করছে। ছোটদের অংশগ্রহণ আরও বাড়ানোর পদক্ষেপ নেয়া হবে বলে আশা করি। কচি-কাঁচার আসরের দীর্ঘায়ু কামনা করি এবং দৈনিক ইত্তেফাকের প্রতিষ্ঠাতা সম্পাদক তফাজ্জল হোসেন মানিক মিয়ার স্মৃতির প্রতি শ্রদ্ধা জানাই। গ্রাম: সিতাইকুণ্ড গোপালগঞ্জ। দীপিতা রহমান বেশিরভাগ ক্ষেত্রেই দেখা যায় পত্র-পত্রিকায় প্রতিষ্ঠিত লেখকদের প্রাধান্য দেওয়া হয়। আজ যারা শিশু-কিশোর তারাও একদিন বড় হয়ে বড় লেখক হবে, এটা খুব কম ক্ষেত্রেই ভাবা হয়। আমি যেদিন থেকে কচি-কাঁচার আসরের সঙ্গে যুক্ত হয়েছি, সেদিন থেকেই দেখে আসছি এখানে ছোট যারা লিখছে তাদের প্রতি বাড়তি মনোযোগ দেওয়া হয়। তারা যাতে আরো ভালো লিখতে পারে, সেজন্য যত্নসহকারে পরামর্শ দেওয়া হয়। উত্সাহ প্রদানের জন্য ছোটদের লেখা ছাপা হয়। এভাবেই চমত্কার একটা পরিচর্যা আমরা পাচ্ছি এই আসরের পক্ষ থেকে। ফলে আমরা আমাদের প্রতিভার বিকাশ ঘটাতে পারছি। যে সময়টা আমরা বন্ধুদের সাথে আড্ডা দিয়ে নষ্ট করতাম কিংবা টিভি দেখে অপচয় করতাম সে সময়টা আমরা এখন সাহিত্য নিয়ে ভাবছি। মাথায় নতুন কোন আইডিয়া এলে লিখে ফেলছি। তারপর পাঠিয়ে দিচ্ছি আসরের ঠিকানায়। তাই নির্দ্বিধায় বলতে পারি, আমাদের বয়সীদের প্রতিভা বিকাশের ক্ষেত্রে কচি-কাঁচার আসরের ভূমিকা অপরিসীম। আমার প্রথম লেখা এই আসরে ছাপা হয়েছে। আমার দাদা কবি শামসুর রাহমান মাসিক কচি-কাঁচার আসরে প্রচুর লিখেছেন। ছোটদের জন্য প্রকাশিত তাঁর ছড়াটি মাসিক কচি-কাঁচায় ছাপা হয়। অনেকেই জানেন না, দাদার তের-চোদ্দটি ছড়া-কবিতার বই রয়েছে। ছোটদের জন্য স্মৃতির শহর নামে একটি চমত্কার গদ্যের বই রয়েছে। এই বইটিতে তাঁর শহর ঢাকার শৈশব-কৈশোরের কথা রয়েছে। ঢাকাকে নিয়ে এমন বই আর কখনো লেখা হয়নি। মোদ্দা কথা দাদার অধিকাংশ ছড়া-কবিতা কচি-কাঁচার আসরেই ছাপা হয়েছে। তিনি আসরকে প্রচণ্ড ভালোবাসতেন। আমিও আসরকে প্রাণ দিয়ে ভালোবাসি। সবাইকে প্রীতি ও শুভেচ্ছা জানাই। শ্যামলী, ঢাকা। তুষার আহমেদ পাপ্পু আমি ঘুনসী উচ্চ বিদ্যালয়ের সপ্তম শ্রেণির ছাত্র এবং কচি-কাঁচার আসরের সদস্য। আমার সদস্য নম্বর :সাত। আমি যখন পঞ্চম শ্রেণিতে পড়ি তখন এ আসরের সদস্য হই। তখন কচি-কাঁচার আসর এক পৃষ্ঠায় প্রকাশিত হতো। সে সময় আমার ছবি ও দুটি ছড়া-কবিতা ছাপা হয়েছিলো। দৈনিক ইত্তেফাক পত্রিকার কচি-কাঁচার আসরে আমার প্রথম লেখা ছাপার অক্ষর দেখে খুশিতে আমি প্রায় দিশেহারা হয়ে গিয়েছিলাম। বিশেষ করে আমার লেখাটি কত বার যে পড়েছি তা বর্ণনা করা যায় না। আমি থাকি নিরব-নিঝুম পল্লীর প্রান্তে। এখানে সাধারণত কোন পত্রিকাই তেমন সংগ্রহ করা যায় না। শিরখাড়া বাজারের একজন ডাক্তার দৈনিক ইত্তেফাক পত্রিকা রাখেন। আমার লেখাটি প্রকাশ হয়েছে শুনতে পেয়েই আমি ছুটে যাই সেখানে। পৌঁছে দেখি ফার্মেসির দরজায় একটি তালা ঝুলছে। সে দিন ছিলো শুক্রবার। দুদিন পরে স্কুলের লাইব্রেরীতে গিয়ে কচি-কাঁচার আসরে আমার লেখাটি পড়লাম। সে কী আনন্দ, বুকের ভেতর বারবার ধরফর ধরফর করে উঠছিলো। বন্ধু-বান্ধব সবার কাছে আমার লেখা প্রকাশের কথা বলেছি। এমন কি চেয়ারম্যান নানা ভীষণ রাগী এবং ব্যস্ত মানুষ, তাঁর কাছেও আমার লেখা প্রকাশের কথা বলতে দ্বিধাবোধ করিনি। এ পাতায় অনেক বড় বড় লেখকরা ছোটদের জন্য ছড়া-কবিতা, গল্প লেখেন। সবকিছু মিলিয়ে কচি-কাঁচার আসার শিশু-কিশোরদের জন্য চমত্কার সাহিত্যপাতা। এ পাতায় লিখেই অনেকেই স্বনাম ধন্য কবি, সাহিত্যিক, গল্পকার, ছড়াকার হয়েছেন। তাদের কে আমার সালাম ও শ্রদ্ধা। ছোটদের জন্য মেধা, মনন, বিকাশের জন্য এত বড় সুযোগ করে দেওয়ার জন্য ইত্তেফাকের সম্পাদককে আমার অশেষ শ্রদ্ধা। গতকাল ২ এপ্রিল ছিলো কচি-কাঁচার আসরের আটান্নতম জন্মদিন। আসরের ভাই-বোনদের জানাই আমার শুভেচ্ছা। সদস্য নম্বর :৭, ঘুনসী উচ্চ বিদ্যালয়, শিরখাড়া, মাদারীপুর সেলিনা হোসেন সেই শুরু থেকেই কচি-কাঁচার আসরের অনেক পাঠক ছিল। তাদের মধ্যে কেউ কেউ ছিলেন শুধুই পাঠক। আবার কেউ কেউ লেখক-শিল্পী। যারা লেখক কিংবা শিল্পী ছিলেন, তারা তখনও অখ্যাত এবং নবীন ছিলেন বলে তাদেরকে সেই অর্থে লেখক-শিল্পী বলা যায় না। তবে তাদের মধ্যে সেই প্রতিভাটি ছিল। প্রতিভা যতই থাকুক - অনেকক্ষেত্রেই সেই প্রতিভা বিকশিত হওয়ার সুযোগ পায় না। পরিবেশ পায় না। কচি-কাঁচার আসর সেই সুযোগ এবং পরিবেশ সৃষ্টি করে দিয়েছিল। আর সেজন্যই সবাই নিজেদেরকে মেলে ধরতে পেরেছিলেন। যারা শুধুই পাঠক ছিলেন, তারা হয়তো লেখক বা শিল্পী খ্যাতি পাননি, তবে তাদের মধ্যে একটি সৃষ্টিশীল দৃষ্টিভঙ্গি তৈরি হয়েছে, এ কথা অস্বীকার করার কোন উপায় নেই। একটি সমাজ গঠনের জন্যে, সমাজে সৃষ্টিশীল কাজের পরিমাণ বৃদ্ধির জন্যে সৃষ্টিশীল দৃষ্টিভঙ্গি তৈরি হওয়ার গুরুত্ব যে কতটুকু, তা বলে শেষ করা যাবে না। তাই আমি বলবো কচি-কাঁচার আসর শিশুদের প্রতিভা বিকাশে ভূমিকাতো রেখেছেই পাশাপাশি খুব ভালো একটা সাংস্কৃতিক জগত্ও তৈরি করেছে। আর সৃষ্টিশীল দৃষ্টিভঙ্গি তৈরি করেছে সবার মধ্যে। কচি-কাঁচার আসরের বয়স ৫৮ বছর পূর্ণ হলো। চাট্টিখানি কথা নয়। আমার শুভেচ্ছা থাকলো। শারতাজ এফ রহমান গতকাল ২ এপ্রিল ছিলো কচি-কাঁচার আসরের বন্ধু ও পাঠকদের জন্য পরম পাওয়া ও গৌরবের দিন। ১৯৫৫ সালে এদিনে প্রথম কচি-কাঁচার আসর দৈনিক ইত্তেফাকে ছাপা হয়। যার নির্দেশে ও পরামর্শে এ বিভাগটি চালু হয় তিনি হলেন দৈনিক ইত্তেফাকের প্রতিষ্ঠাতা ও সম্পাদক আমাদের পরম শ্রদ্ধেয় তফাজ্জল হোসেন মানিক মিয়া। তাঁর প্রতি আমাদের কৃতজ্ঞতার শেষ নেই। কচি-কাঁচার আসর বিভাগটি আমার খুবই প্রিয়। আমি নিয়মিত বিভাগটির লেখা পড়ি। ছোটবেলায় দাদিমা আমাকে আসরের প্রতিটি লেখা পড়ে শোনাতেন। এভাবে কচি-কাঁচার আসরের প্রতি আমার আগ্রহ জন্মে। সপ্তাহের একটি দিন বুধবার আমি এ বিভাগটি পড়ার জন্য খুবই উদগ্রীব থাকি। এই বিভাগ ছোটদের ছবি আঁকা, গল্প, কবিতাসহ আমার প্রিয় বই, আমার প্রিয় স্কুল ইত্যাদি বিষয়ে লেখা ছাপছে। ‘আমাদের কথা নামে’ বড়দের লেখা ছাপা হচ্ছে। আমার প্রিয় শখ, প্রিয় খেলা, দেখা গ্রাম-নদী, পাহাড়, দর্শনীয় স্থান ইত্যাদি বিষয় নিয়ে আসরের আয়োজন করা যেতে পারে। ছয় মাস বা এক বছর অন্তর শ্রেষ্ঠ ক্ষুদে লেখক, আঁকিয়ে বাছাই করে মন্তব্য ও ছবিসহ প্রকাশ করলে কচি-কাঁচার বন্ধুরা আরো উত্সাহিত হবে। কচি-কাঁচার আসর বিভাগটি ক্ষুদে লেখক, পাঠক তৈরি করছে। ২ এপ্রিল কচি-কাঁচার আসরের শুভ জন্মদিনে প্রজন্মের পর প্রজন্ম চলতে থাকা আসরের দীর্ঘায়ু ও সমৃদ্ধি কামনা করছি। সদস্য নম্বর: ৭৬৯ দ্বিতীয় শ্রেণি, সাউথ পয়েন্ট, স্কুল এন্ড কলেজ, ঢাকা। সাফিনা আক্তার গতকাল ছিলো কচি-কাঁচার আসরের জন্মদিন। শুভেচ্ছা আসরের সকল বন্ধুদের, যারা এই আসরে নিয়মিত লেখালেখি করেন। ইত্তেফাকের কচি-কাঁচার আসর প্রথম (শিশুপাতা) প্রকাশিত হয় ১৯৫৫ সালের ২রা এপ্রিল। ইত্তেফাকের প্রতিষ্ঠাতা ও সম্পাদক তফাজ্জল হোসেন মানিক মিয়ার পরামর্শ ও নির্দেশে এটি প্রকাশিত হয়। তারপর থেকে বাংলাদেশের শত গুণী সাহিত্যিক যাঁরা আছেন, তাঁদের জীবনের প্রথম লেখাটি প্রকাশিত হয়েছে এই কচি-কাঁচার আসরে। কতো ক্ষুদে লেখক আজ আলোচিত লেখক। চলতে চলতে দীর্ঘ পাঁচ দশক ধরে আসরের পথ চলা। নৈতিক অস্থিরতার মধ্যেও থেমে নেই কচি-কাঁচার আসরের পথ চলা। হাজারো শিশু-কিশোর আজ নির্দিষ্ট স্থানে লেখক হয়ে পৌঁছতে পেরেছে কচি-কাঁচার আসরের মাধ্যমে। লেখা ছাপা হলেই একটি শিশুর প্রতিভার খোঁজ আবিষ্কার করা সম্ভব হয়। কচি-কাঁচার আসরে আমার প্রথম ছড়া ছাপা হয় ৪ জুলাই ২০১১ তারিখে। সেই থেকে আমি নিয়মিত কচি-কাঁচার আসরে লিখছি এবং সেই থেকে আমি কচি-কাঁচার আসর-এর একজন লেখক মনে করে গর্ববোধ করি। এর জন্য আমি দৈনিক ইত্তেফাক পত্রিকার সম্পাদক মহোদয়কে জানাই ধন্যবাদ। আসরের সবাইকে জন্মদিনের শুভেচ্ছা। কচি-কাঁচার আসর বেঁচে থাক হাজার বছর। কালশী, মিরপুর, ঢাকা। জাকির হোসেন চৌধুরী সংবাদপত্রের সংগে আমি দীর্ঘদিন জড়িত। মাঝেমধ্যে পত্র-পত্রিকায় লিখে থাকি। আমার প্রিয় পত্রিকা হলো “দৈনিক ইত্তেফাক” এবং ইত্তেফাকের কচি-কাঁচার আসর। ইদানিং কচি-কাঁচার আসর দু’পৃষ্ঠায় ছাপা হয়। দেশে ছোটদের জন্য এমন ব্যবস্থা কোন পত্রিকা কর্তৃপক্ষ করেননি। কচি-কাঁচার আসর লেখালেখির পুরনো পাতা। এ পাতায় লিখে নামজাদা হয়েছেন অনেকে। ১৯৫৫ সাল থেকে ২০১৩ সুদীর্ঘ ৫৮ বছরের ইতিহাস। কচি-কাঁচার আসর সগৌরবে টিকে আছে। এখানে নতুনদের ভিড়। কত রকম আয়োজন। বুধবার এলেই কচি-কাঁচার আসর পড়ি। আসরের ক্ষুদে ভাই-বোনদের অনেক অনেক শুভেচ্ছা। ১১২, সার্কিট হাউস রোড, ঢাকা-১০০০। মোহাম্মদ ইলইয়াছ শৈশব-কৈশোর থেকেই আমি কচি-কাঁচার আসরের পাঠক। বর্তমানে আমার সন্তানেরা এই আসরের লেখা লেখি করে এবং আসরের সদস্য। আমিও মাঝে মাঝে আসরে লিখে থাকি। কচি-কাঁচার আসর গত অর্ধশতাব্দী ধরে এদেশের শিশুর উন্নয়নে বিশেষ করে প্রতিভা বিকাশে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করেছে। এজন্য সাংবাদিক জগতের কিংবদন্তী নির্ভীক সাংবাদিক তফাজ্জল হোসেন মানিক মিয়াকে আমার সশ্রদ্ধ সালাম। দুপৃষ্ঠা আসর হওয়ার জন্য কর্তৃপক্ষকে অজস্র ধন্যবাদ। নজরুল ইন্সটিটিউট, ধানমন্ডি, ঢাকা। শেখ মো. শরীফ আমি শেখ মো. শরীফ, প্রিয় কচি-কাঁচার আসরের লেখা আমার অনেক অনেক ভালো লাগে। আমি কচি-কাঁচার আসরের প্রতিষ্ঠাতা তফাজ্জল হোসেন মানিক মিয়াকে আমার শ্রদ্ধা জানাই। আমি কচি-কাঁচার আসরের একজন সদস্য। আমার সদস্য নম্বর: ১৮৭৫। আমার এ পর্যন্ত তিনটি লেখা ছাপা হয়েছে। ১। গাঁয়ের বাড়ি, ২। আষাঢ়ের বৃষ্টি, ৩। ঋণ। আমি কচি-কাঁচার আসরের কাছে চিরকৃতজ্ঞ। আমার আরো ভালো লাগতো যদি সপ্তাহের মধ্যে কচি-কাঁচার পাতায় দুইবার কবিতা, গল্প ছাপা হতো, তাহলে আমাদের লেখার প্রতিভার বিকাশ ঘটতো। পশ্চিম কারওয়ান বাজার, ঢাকা। শরিফুল ইসলাম গতকাল ছিলো কচি-কাঁচার আসরের জন্মদিন। ১৯৫৫ সালের এই দিনে প্রথম যাত্রা শুরু হয়। দৈনিক ইত্তেফাকের প্রতিষ্ঠাতা ও সম্পাদক তফাজ্জল হোসেন মানিক মিয়া। তাঁর নির্দেশে ছাপা হয় কচি-কাঁচার আসরের পাতাটি। একদিকে বেড়েছে এই আসরের লেখক ও পাঠক, অন্যদিকে বেড়েছে শিশুদের জ্ঞানসিন্ধু। দিন যতই গড়াচ্ছে, ততই লেখক ও পাঠকের সংখ্যা বেড়েই চলেছে। বিভিন্ন লিখিয়েদের গল্প-ছড়া-কবিতা ও ছবি দিয়ে সাজানো হচ্ছে এ আসরটি। পাঠকরা পড়ে অনেক আনন্দ পায়। তার মনে আগ্রহ জাগে সেও একজন লেখিয়ে হবে। একজন আঁকিয়ে হবে। হবে একজন খ্যাতনামা কবি ও ছড়াকার। জ্ঞানের স্পৃহা বেড়েই চলেছে শিশুদের মাঝে। জ্ঞানভাণ্ডারে পা রাখছে শিশুরা। প্রবল ইচ্ছা নিয়ে এগিয়ে যাচ্ছে তারা। আমিও একজন এ আসরের সদস্য। আমিও লিখে যাচ্ছি। কচি-কাঁচার আসরটি খুবই মজার। খুবই আনন্দের। সহজ-সরল ভাষায় লেখা ছোট ছোট গল্প, ছড়া ও কবিতা সহজেই মন কাড়ে। পড়তে পড়তে কৌতূহল জাগে মনে। হারিয়ে যায় মন আনন্দের জোয়ারে। সুন্দর সুন্দর ছবি ছাপানো হচ্ছে এ আসরে। দেখলেই চোখ জুড়িয়ে যায়। নয়ন ভোলানো এক অপূর্ব গাথা। আমার খুব ভালো লাগে লিখতে। লিখেও যাচ্ছি নিয়মিত। যদি কোনো সংখ্যায় পাতাটি না পড়তে পারি তাহলে সেদিন আমার ভালো লাগে না। মনে আনন্দ জাগে না। কোনো কাজে মন বসে না। তাই সিদ্ধান্ত নিয়েছি যে, আমার লেখা ছাপা হোক আর না হোক, কেউ পড়ুক আর না পড়ুক, আমি লিখেই যাব ইনশাআল্লাহ। এখন কচি-কাঁচার আসর দুটি পৃষ্ঠায় ছাপা হচ্ছে। এতে আগের চেয়ে অনেক বেশি লেখা ঠাঁই পেয়েছে। এটা আমাদের জন্য খুবই আনন্দের বিষয়। আসরটির আরো উন্নতি হবে আশা করছি। আমি কচি-কাঁচার আসরের উজ্জ্বল ভবিষ্যত্ কামনা করছি। দীর্ঘজীবী হোক। চলতে থাকুক যুগ-যুগান্তর। কচি-কাঁচার আসরের জন্মদিন উপলক্ষে আমার লেখা একটি কবিতা পাঠালাম। লেখাটি হলো: কচি-কাঁচার জন্মদিনে জানাই অভিনন্দন, জ্ঞানের সিন্ধু খুলো সবাই দিয়ে প্রতি মন। এই আসরটি চলতে থাকবে যুগ যুগ ধরে, জ্ঞানী-গুণী হোক সকলে গল্প-ছড়া পড়ে। গল্প লিখ পদ্য লিখ লিখ প্রিয় ছড়া, প্রিয় ছবি আঁকতে পার এই আসরের বন্ধুরা। আশা করছি আমার লেখাগুলো ছাপা হবে। আর ছাপা হলে আমি খুবই পুলকিত হব। ভালো থেকো বন্ধুরা। লায়ন নজরুল ইসলাম ডিগ্রি কলেজ, টাঙ্গাইল। সদস্য নম্বর: ১৯২৩ মো. মনির তালুকদার গতকাল ছিলো আসরের জন্মদিন। ১৯৫৫ সালের এদিন আসর প্রথম ছাপা হয়। জন্মদিনে জানাই প্রাণঢালা অভিনন্দন। শিশুদের কেন্দ্র করে সাজানো এ আসর যেমন শিশুদের আনন্দদান করে, তেমনি বিভিন্ন বিষয় সম্পর্কে শিক্ষাও দেয়। প্রতি বুধবার আসরে এখন থেকে নিয়মিত প্রকাশিত হয় বিভিন্ন বিভাগ। এসব বিভাগের মধ্যে রয়েছে নতুন যারা সদস্য হলে, আমার কথা, তোমাদের জন্য লেখা, আমার প্রিয় স্কুল, আমার প্রিয় বই, প্রশ্নত্তোরে কুইজ ইত্যাদি। এসব বিভাগে প্রকাশিত লেখাগুলো পড়ে আমরা জ্ঞান অর্জন করি এবং লেখালেখির হাত পাকাই। এখান থেকে শিশুরা মুক্তিযুদ্ধসহ বাংলাদেশ সম্পর্কে সঠিক তথ্য পায় বলে এ আসর আমার কাছে খুব ভালো লাগে। কচি-কাঁচার আসর তার আপন আলো ছড়াক দীর্ঘদিন এই কামনা করি। শিক্ষার্থী, বাংলা কলেজ, ঢাকা। মো. মুন্নু গতকাল ছিলো কচি-কাঁচার আসরের শুভ জন্মদিন। জন্মদিনে আমি কচি-কাঁচার আসরের সকল সদস্যকে জানাই শুভেচ্ছা। আমি কচি-কাঁচার একজন নিয়মিত পাঠক। কচি-কাঁচার আসর কখন যে আমার হূদয়ের সাথে একই সুতোয় গাঁথা হয়েছে কখনই বুঝতে পারিনি। বুধবার এলেই আমি অধীর আগ্রহে বসে থাকি কখন যে ইত্তেফাক পত্রিকা আমার হাতে আসবে। আমি মফস্বল এলাকার একটি ছেলে। তাই আমার এখানে ইত্তেফাক পত্রিকা পাওয়া একটু কষ্টসাধ্য ব্যাপার। কিন্তু যখন আমি কচি-কাঁচার আসরে আমার বন্ধুদের ছাপানো লেখাগুলো পাঠ করি তখন আর আমার কষ্টের কথা মনে হয় না। আমি ইত্তেফাক পত্রিকাকে ধন্যবাদ জানাতে চাই এজন্য যে, কচি-কাঁচার আসরে একটি চিঠিপত্র বিভাগ খোলার জন্য। সবচেয়ে বড় কথা হলো, বাংলাদেশে ইত্তেফাক পত্রিকা ব্যতীত অন্য কোনো পত্রিকায় ছোটদের আসর দুই পৃষ্ঠা বরাদ্দ নেই। আর আসর দুই পৃষ্ঠা হওয়াতে অনেকের লেখা স্থান পায়। এখানে বাংলাদেশের প্রথম সারির লেখকদের লেখা প্রকাশিত হয়। আমি কচি-কাঁচার আসরের শুভ কামনা করি, যাতে হাজার হাজার বছর এই আসর চালু থাকে। সদস্য নম্বর: ৩০১৫ কলতা বহুমুখী উচ্চ বিদ্যালয়, মানিকগঞ্জ।