সাউথ এশিয়ান ইউনিভার্সিটি

বাংলাদেশের ৫৫ শিক্ষার্থী

সাউথ এশিয়ান ইউনিভার্সিটিতে পড়াশোনা করছেন সার্কভুক্ত আট দেশের শিক্ষার্থীরা। তারা একেকজন দক্ষিণ এশিয়ার নাগরিকে পরিণত হয়েছেন। তাদের বসবাস, লেখাপড়া, মতবিনিময় অন্য দেশের শিক্ষার্থীদের সঙ্গে। এ বিশ্ববিদ্যালয়ে রয়েছে বাংলাদেশের প্রায় ৫৫ শিক্ষার্থী। তাদেরকে নিয়েই আমাদের এবারের আয়োজন। জেনে নিতে পারেন আপনিও: http://www.sau.ac.in। বাংলাদেশের তানভীর সিদ্দিকী। কম্পিউটার সায়েন্স বিভাগের মাস্টার্স প্রথম বর্ষের এই ছাত্র ই-মেইলে জানান, সুযোগ হয়েছে সার্কের ৮ দেশের ছাত্রছাত্রীদের সাথে একই শ্রেণিকক্ষে বিদ্যা অর্জনের। উচ্চতর শিক্ষা অর্জনের জন্য সাউথ এশিয়ান ইউনিভার্সিটি এশিয়া মহাদেশে নতুন দ্বার উন্মোচন করেছে। সকল বিষয়ের ল্যাব সুবিধা, বর্তমান সময়ের উদ্ভাবনীর সাথে সম্পর্ক রেখে বিভিন্ন ধরনের গবেষণা, আর সঠিক সময়ের মাঝে সিলেবাস সম্পন্ন করে পরীক্ষার প্রস্তুতি নেয়া এই বিশ্ববিদ্যালয়কে অন্য এক অবস্থানে আসীন করেছে। দক্ষিণ এশিয়ার পিছিয়ে থাকা ছাত্রছাত্রীদের জন্য সাউথ এশিয়ান ইউনিভার্সিটি বিশ্বমানের আন্তর্জাতিক ইউনিভার্সিটি। যেভাবে যাত্রা শুরু: ১৯৮৫ সালে প্রতিষ্ঠিত দক্ষিণ এশিয়ার আঞ্চলিক সহযোগিতা জোট সার্কের বয়স এখন ২৯ বছর। এই দীর্ঘ সময়ে নেওয়া অসংখ্য উদ্যোগ ও সিদ্ধান্ত আলোর মুখ দেখেনি। নয়াদিল্লি থেকে ই-মেইলে পাঠানো বক্তব্যে বাংলাদেশের শিক্ষার্থী বাপ্পা বলেন, বাংলাদেশের নাগরিক হলেও বিশ্ববিদ্যালয়ে যখন আইন পড়ানো হয়, তখন শুধু বাংলাদেশ নয় দক্ষিণ এশিয়ার সব দেশের আইন তাঁকে পড়তে হয়। আইন ছাড়াও ভাষা, অর্থনীতি, রাজনীতি, ইতিহাসসহ বিভিন্ন বিষয়ে এই বিশ্ববিদ্যালয়ের মনোযোগ হচ্ছে দক্ষিণ এশিয়ার প্রেক্ষাপট। আইনের ওই শিক্ষার্থী আরও জানান, গত ২১ ফেব্রুয়ারি আন্তর্জাতিক মাতৃভাষা দিবসে বিশ্ববিদ্যালয়ে সেমিনারের আয়োজন করা হয়। বাংলা ভাষার জন্য লড়াই-সংগ্রাম ও ভাষাশহীদদের আত্মত্যাগের কথা অন্য দেশের শিক্ষার্থীদের কাছে তুলে ধরেন বাংলাদেশের শিক্ষার্থীরা। অন্য দেশের শিক্ষার্থীরাও তাদের জাতীয় দিবসে এমন অনুষ্ঠান আয়োজন করে থাকে। যেসব বিষয়ে পড়াশোনা: ভারতের প্রধানমন্ত্রী মনমোহন সিং এই বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রথম আনুষ্ঠানিক প্রস্তাবক। ২০০৫ সালে ঢাকায় অনুষ্ঠিত ১৩তম সার্ক সম্মেলনে দ্য সাউথ এশিয়ান ইউনিভার্সিটি প্রতিষ্ঠার প্রস্তাব করেন মনমোহন সিং। ২০০৭ সালের ৪ এপ্রিল নয়াদিল্লিতে অনুষ্ঠিত চতুর্দশ সার্ক সম্মেলনে আটটি দেশের মধ্যে সার্ক বিশ্ববিদ্যালয় প্রতিষ্ঠার চুক্তি সই হয়। আর ২০১০ সালের আগস্টে বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রথম সেশন শুরু হয় মাস্টার্স অব কম্পিউটার অ্যাপ্লিকেশনস এবং মাস্টার্স অব ডেভেলপমেন্ট ইকোনোমিকস খোলার মাধ্যমে। ২০১১ সালের জুলাইয়ে আরও পাঁচটি বিষয় চালু হয়। এগুলো হচ্ছে এমএসসি (বায়োটেকনোলজি), এমএসসি (কম্পিউটার সায়েন্স), এমএসসি (সোসিওলজি), এমএসসি (ইন্টারন্যাশনাল রিলেশনস), মাস্টার অব ল (এলএলএম)। এছাড়া চলতি বছর থেকে পিএইচডি প্রোগ্রামে শিক্ষার্থী ভর্তি করা হবে। পড়ার খরচ: নয়াদিল্লির চাণক্যপুরিতে গড়ে উঠেছে বিশ্ববিদ্যালয়টির বর্তমান ক্যাম্পাস। সাউথ দিল্লিতে ১০০ একর জমির ওপর নতুন ক্যাম্পাস নির্মাণের প্রস্তুতি চলছে। বিশ্বের বিভিন্ন দেশ থেকে নামকরা শিক্ষক, শিক্ষাবিদদের উচ্চ বেতনে জড়ো করা হচ্ছে এই বিশ্ববিদ্যালয়ে। শিক্ষার্থীদের জন্য রয়েছে বৃত্তির সুবিধা। লেখাপড়া, থাকা-খাওয়ার খরচও তুলনামূলক কম। বিশ্ববিদ্যালয়ে ভর্তি ফি ১০০ মার্কিন ডলার, প্রত্যেক সেমিস্টারে টিউশন ফি ৪৪০ মার্কিন ডলার। এ ছাড়া ফেরতযোগ্য নিরাপত্তা জামানত ১০০ ডলার। দেশভিত্তিক কোটা: সুনির্দিষ্ট কোটা অনুসরণ করে বিশ্ববিদ্যালয়টিতে শিক্ষার্থী ভর্তি করা হয়। বাংলাদেশ ও পাকিস্তানের জন্য কোটা ১০ শতাংশ করে। এ ছাড়া আফগানিস্তান, ভুটান, মালদ্বীপ, নেপাল ও শ্রীলঙ্কার জন্য বরাদ্দ চার শতাংশ কোটা। অন্যদিকে, ভারতের সর্বোচ্চ ৫০ শতাংশ শিক্ষার্থী ভর্তির সুযোগ পায়। সার্কভুক্ত আট দেশের ৯০ শতাংশ শিক্ষার্থী এই বিশ্ববিদ্যালয়ে পড়তে পারবে, বাকি ১০ শতাংশ সার্কের বাইরের দেশ থেকে ভর্তি হবে। প্রত্যেক দেশের মধ্যে প্রতিযোগিতার ভিত্তিতে মেধা তালিকা ঠিক করা হয়। আঞ্চলিক সহযোগিতার গভীরতা বাড়ানোই নতুন বিশ্ববিদ্যালয়ের লক্ষ্য সাউথ এশিয়ান ইউনিভার্সিটি সার্কের আটটি দেশের ছাত্রদের বিশ্ব সম্পর্কে সমন্বিত জ্ঞান আহরণে এবং দৃষ্টিকে প্রসারিত করার সুযোগ করে দিয়েছে। বাংলাদেশি ছাত্রদের বক্তব্য: ফলিত গণিতের আরেক বাংলাদেশি ছাত্র মোস্তাফিজুর রহমান বলেন, দক্ষিণ এশিয়ার সংস্কৃতি এবং আঞ্চলিক রাষ্ট্রগুলোর পারস্পরিক বোঝাপড়ার কেন্দ্রবিন্দুতে পরিণত হয়েছে সাউথ এশিয়ান ইউনিভার্সিটি। সার্কের এযাবত্কালের গৃহীত সিদ্ধান্তগুলোর অন্যতম ছিল এই বিশ্ববিদ্যালয় প্রতিষ্ঠা করা। আন্তর্জাতিক সম্পর্ক বিভাগের বাংলাদেশি ছাত্র শরীফ বলেন, আমরা আট দেশের শিক্ষার্থীরা একই বিশ্ববিদ্যালয়ে পড়াশোনার পাশাপাশি দক্ষিণ এশিয়ার বিভিন্ন বিষয় নিয়ে পারস্পরিক জ্ঞান-অভিজ্ঞতা বিনিময় করে থাকি। তাঁর মতে, দক্ষিণ এশিয়ার মধ্যে আঞ্চলিক সমঝোতা তৈরি, পারস্পরিক সহযোগিতা বাড়ানো এবং এ অঞ্চলের মানুষের শান্তি ও নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে উত্সাহ জোগানোর কাজ শুরু করেছে এই বিশ্ববিদ্যালয়।