গাজায় যুদ্ধবিরতিতে সম্মত ইসরাইল ও হামাস

ইসরাইল ও ফিলিস্তিনের গাজা উপত্যকার নিয়ন্ত্রক ইসলামপন্থি রাজনৈতিক সংগঠন হামাস যুদ্ধবিরতিতে রাজি হওয়ায় দুই পক্ষের মধ্যে সংঘর্ষ বন্ধ হয়েছে।  এর আগে রবিবার রাত পর্যন্ত চলা সংঘর্ষে কমপক্ষে ২৫ ফিলিস্তিনি ও চার ইসরাইলি নিহত হয়।

শুক্রবার নতুন করে সহিংসতা শুরুর পর জাতিসংঘসহ বেশ কিছু দেশ উত্তেজনা প্রশমনের আহ্বান জানিয়েছিলেন। রবিবার রাতে জাতিসংঘ, কাতার ও মিসর অস্ত্রবিরতির জন্য মধ্যস্থতার উদ্যোগ নেয়। হামাস নেতা ইসমাইল হানিয়া এক বিবৃতিতে বলেন, ইসরায়েল যদি পূর্ণ অস্ত্রবিরতির প্রতিশ্রুতি দেয় তাহলেই কেবল পুরো শান্ত অবস্থায় ফিরে যাওয়া সম্ভব। সোমবার সকালে ফিলিস্তিনি কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, অস্ত্রবিরতিতে তারা সম্মত হয়েছেন। সোমবার স্থানীয় সময় ভোর সাড়ে চারটা থেকে এই অস্ত্রবিরতি কার্যকর হয়। এর আগে ফিলিস্তিনি ভূমিতে হামলা জোরালো করার নির্দেশ দিয়েছিলেন ইসরায়েলি প্রধানমন্ত্রী। তার নির্দেশের পর রবিবার রাতজুড়ে গাজায় বিমান হামলা চালায় ইসরাইল। ইসরাইলি সেনাবাহিনীর পক্ষ থেকে বলা হয়েছে, তিনদিনে ফিলিস্তিনের অভ্যন্তরে ৩২০টি লক্ষ্যবস্তুতে বিমান হামলা চালানো হয়েছে। অপরদিকে ফিলিস্তিনি ভূমি থেকে ৬০০ রকেট হামলা চালানো হলেও বেশিরভাগই প্রতিহত করা হয়েছে। গাজার কর্মকর্তাদের দাবি, ইসরাইলি বিমান হামলায় ২৫ ফিলিস্তিনি নিহত হয়েছে, যাদের অধিকাংশই সাধারণ মানুষ। আর ফিলিস্তিনি রকেট হামলায় চার ইসরাইলি নিহত হয়েছে।

ইসরাইলি আগ্রাসন প্রতিরোধের ধারাবাহিকতায় গাজা উপত্যকায় দশ বছরের বেশি সময় ধরে চলা অবরোধের প্রতিবাদে শুক্রবার বিক্ষোভ করেছিল ফিলিস্তিনিরা। ওই বিক্ষোভের মধ্য থেকে এক ফিলিস্তিনির ছোঁড়া গুলিতে সীমান্ত বেড়ার কাছে দুই সেনা আহত হওয়ার দাবি করে ইসরাইল। এর জবাবে বিমান হামলা চালিয়ে দুই ফিলিস্তিনিকে হত্যা করা হয়। এ ঘটনার জেরে শনিবার সকাল থেকে ফিলিস্তিনের গাজা উপত্যকা থেকে ইসরাইলি ভূমি লক্ষ্য করে রকেট ছোঁড়া শুরু হয়। এসব রকেট হামলায় তিন ইসরাইলি নিহত হয়।

এদিকে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প ইসরাইলকে আশ্বাস দিয়ে বলেছেন, গাজা সংঘাত প্রশ্নে ইসরাইলের প্রতি ওয়াশিংটনের পূর্ণ সমর্থন রয়েছে। ট্রাম্প এক টুইট বার্তায় এ কথা বলেন। — ফাইল ছবি