কুমিল্লা শিক্ষা বোর্ডের ছয় জেলার ১হাজার ৭১৭টি শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের মধ্যে এ বছর এসএসসি পরীক্ষায় জিপিএ-৫ অর্জনের ক্ষেত্রে সেরা অবস্থানে রয়েছে ২০টি প্রতিষ্ঠান। এর মধ্যে রয়েছে কুমিল্লা জেলার ৯টি, নোয়াখালী, চাঁদপুর ও ব্রাহ্মণবাড়িয়ার তিনটি করে ৯টি ও চাঁদপুরের ২টি শিক্ষা প্রতিষ্ঠান। সোমবার ফলাফল ঘোষণার পর সেরা সাফল্য অর্জনকারী কুমিল্লা নগরীর শিক্ষা প্রতিষ্ঠানগুলোতে যেনো বয়ে যায় আনন্দের বন্যা।
বোর্ড সূত্রে জানা গেছে, জিপিএ-৫ অর্জনের ক্ষেত্রে শীর্ষ অবস্থানে রয়েছে কুমিল্লা মডার্ন হাই স্কুল। এ প্রতিষ্ঠান থেকে সর্বাধিক ৪২৬জন জিপিএ-৫ অর্জন করেছে। দ্বিতীয় অবস্থানে রয়েছে শতভাগ উত্তীর্ণ কুমিল্লা জিলা স্কুল, এ স্কুল থেকে জিপিএ-৫ পেয়েছে ৩৩৯ জন। তৃতীয় অবস্থানে রয়েছে শতভাগ উত্তীর্ণ নগরীর নবাব ফয়জুন্নেছা সরকারি বালিকা উচ্চ বিদ্যালয়, এখানে ২৮৮ জন জিপিএ-৫ পেয়েছে। চতুর্থ অবস্থানে থাকা নগরীর ইবনে তাইমিয়া স্কুল এণ্ড কলেজ থেকে ২৭৯ জন, ৫ম শতভাগ উত্তীর্ণ ইস্পাহানী পাবলিক স্কুল এণ্ড কলেজ থেকে ২৪৭ জন, ৬ষ্ঠ শতভাগ উত্তীর্ণ নোয়াখালী সরকারি বালিকা উচ্চ বিদ্যালয় থেকে জিপিএ-৫ পেয়েছে ১৬১ জন, ৭ম নোয়াখালী জিলা স্কুল থেকে ১৫৭ জন জিপিএ-৫ অর্জন করেছে। ৮ম ব্রাহ্মণবাড়িয়ার আনন্দ সরকারি উচ্চ বিদ্যালয়ের ১৪২ জন, ৯ম চাঁদপুর সদরের আল-আমিন একাডেমীর ১৪০জন, ১০ম শতভাগ উত্তীর্ণ ফেনী সরকারি পাইলট হাই স্কুলের ১৩০জন, ১১তম শতভাগ উত্তীর্ণ ফেনী সরকারি বালিকা উচ্চ বিদ্যালয়ের ১২৯ জন, ১২তম শতভাগ উত্তীর্ণ চাঁদপুর হাসান আলী সরকারি উচ্চ বিদ্যালয়ের ১০৬জন, ১৩তম ব্রাহ্মণবাড়িয়া সরকারি মডেল বালিকা উচ্চ বিদ্যালয়ের ৮৯জন, ১৪তম ব্রাহ্মণবাড়িয়ার সাবেরা সোবহান সরকারি বালিকা উচ্চ বিদ্যালয়ের ৭৬জন, ১৫তম কুমিল্লার দাউদকান্দির গৌরিপুর এসএ হাই স্কুলের ৭৪জন জিপিএ-৫ পেয়েছে। ১৬তম শতভাগ উত্তীর্ণ কুমিল্লা ক্যান্টনমেন্ট হাই স্কুল থেকে ৭৩ জন, ১৭তম শতভাগ উত্তীর্ণ কুমিল্লা শিক্ষা বোর্ড মডেল কলেজ থেকে ৭২জন, ১৮তম চাঁদপুরের মাতৃপীঠ সরকারি বালিকা উচ্চ বিদ্যালয়ের ৬৭জন, ১৯তম শতভাগ উত্তীর্ণ নোয়াখালীর বেগমগঞ্জ সরকারি পাইলট উচ্চ বিদ্যালয়ের ৬১জন এবং ২০তম শতভাগ উত্তীর্ণ কুমিল্লা সেনানিবাস পর্ষদ গার্লস হাই স্কুল থেকে জিপিএ-৫ পেয়েছে ৬০ জন। কুমিল্লা শিক্ষা বোর্ডের চেয়ারম্যান প্রফেসর মো. রুহুল আমিন ভূঁইয়া জানান, শিক্ষার্থীদের মানোন্নয়নের মাধ্যমে বোর্ডের সার্বিক ফলাফল ভালো করার জন্য প্রতিষ্ঠান প্রধানদের নিয়ে একাধিকবার মতবিনিময় সভা করে দিক-নির্দেশনা দেওয়া হয়। এছাড়া বিষয়ভিত্তিক শিক্ষক প্রশিক্ষণ, বোর্ড কর্তৃপক্ষের শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে মনিটরিং বৃদ্ধিসহ নানা পদক্ষেপ নেওয়া হয়। এসব পদক্ষেপের কারণে এ বছর পাসের হার, জিপিএ-৫ ও শতভাগ পাসের শিক্ষা প্রতিষ্ঠান বেড়েছে এবং প্রত্যাশিত ফল হয়েছে।
শতভাগ পাসে প্রথম সরকারি মুসলিম হাই স্কুল
চট্টগ্রাম অফিস জানায়, চট্টগ্রাম শিক্ষা বোর্ডে এবারের এসএসসি পরীক্ষায় শতভাগ পাসে প্রথম হয়েছে নগরীর সরকারি মুসলিম হাই স্কুল।
অন্যদিকে এই তালিকার প্রথম দশে স্থান পায়নি কলেজিয়েট স্কুল, ডা. খাস্তগীর সরকারি বালিকা উচ্চ বিদ্যালয়, নাসিরাবাদ সরকারি উচ্চ বিদ্যালয়, বাংলাদেশ মহিলা সমিতি(বাওয়া) বালিকা উচ্চ বিদ্যালয়সহ নগরীর প্রথম সারির অনেক বিদ্যালয়।
সরকারি মুসলিম হাই স্কুল থেকে ৩৯২জন শিক্ষার্থী এসএসসি পরীক্ষায় অংশ নিয়ে সবাই পাস করেছে। তালিকার দ্বিতীয় ও তৃতীয় স্থানে রয়েছে চট্টগ্রাম ক্যান্টনমেন্ট পাবলিক স্কুল ও জোরারগঞ্জ বৌদ্ধ উচ্চ বিদ্যালয়। এর মধ্যে চট্টগ্রাম ক্যান্ট পাবলিক স্কুল থেকে ২০৯ জন এবং জোরারগঞ্জ বৌদ্ধ উচ্চ বিদ্যালয় থেকে ১৮৫ জন পরীক্ষায় অংশ নিয়ে সবাই পাস করেছে। তালিকায় চতুর্থ স্থানে রয়েছে হালিশহর ক্যান্ট পাবলিক স্কুল এবং পঞ্চম শাহ ওয়ালী উল্লাহ ইনস্টিটিউট। এছাড়াও শতভাগ পাসের এই তালিকায় ষষ্ঠ স্থানে রয়েছে ক্যান্টনমেন্ট ইংলিশ স্কুল, সপ্তম বাবুছড়া উচ্চ বিদ্যালয়, অষ্টম টিএসপি কমপ্লেক্স মাধ্যমিক স্কুল, নবম সিডিএ পাবলিক স্কুল এবং দশম স্থানে একাডেমি ল্যাবরেটরি স্কুল।