সাগরে তেল-গ্যাস অনুসন্ধানে মাত্র দুটি কোম্পানি দরপ্রস্তাব দিয়েছে
প্রকাশ : ০২ এপ্রিল ২০১৩, ২২:৩০
সাগরে তেল-গ্যাস অনুসন্ধানে মাত্র দুটি কোম্পানি কাজ করতে আগ্রহ দেখিয়েছে। তবে সাগরের সবগুলো অঞ্চলে কাজ করতে আগ্রহী প্রতিষ্ঠান পাওয়া যায়নি। আমেরিকার কনোকো ফিলিপস সাত নম্বর এবং ভারতের অয়েল অ্যান্ড ন্যাচারাল গ্যাস করপোরেশন (ওএনজিসি) নয় ও চার নম্বর অঞ্চলে কাজ করার ইচ্ছা প্রকাশ করেছে। গতকাল মঙ্গলবার এই দুই কোম্পানি পেট্রোবাংলায় তাদের দরপ্রস্তাব জমা দিয়েছে।
মিয়ানমারের সঙ্গে সমুদ্রসীমা সংক্রান্ত বিরোধ মিমাংসা হওয়ার পর বাংলাদেশ নতুন সীমানায় তেল গ্যাস অনুসন্ধানের জন্য দরপত্র আহবান করে। পেট্রোবাংলা আশা করেছিল বিদেশি অনেক কোম্পানি এখানে তেল গ্যাস অনুসন্ধানে আগ্রহী হবে। কিন্তু তা হয়নি। ১৫টি কোম্পানি প্রাথমিক তথ্য-উপাত্ত কিনলেও শেষ পর্যন্ত মাত্র দুটি কোম্পানি প্রস্তাব জমা দিয়েছে। অগভীর সমুদ্রের নয়টি অঞ্চলে বিদেশি কোম্পানিকে কাজ করতে দরপত্র আহবান করা হয়েছিল। গতকাল ছিল সেই দরপ্রস্তাব জমা দেয়ার শেষ দিন।
তেল-গ্যাস অনুসন্ধানে গত বছরের ১৭ ডিসেম্বর আন্তর্জাতিক দরপত্র আহ্বান করে পেট্রোবাংলা। ১৮ মার্চ পর্যন্ত দরপ্রস্তাব জমা দেয়ার শেষ সময় নির্ধারণ করা হলেও পরবর্তীকালে সময় বাড়ানো হয়।
দরপ্রস্তাব জমার আগে পেট্রোবাংলার সাথে অনুষ্ঠিত বৈঠকে বিভিন্ন কোম্পানি গ্যাসের দাম বাড়ানোর অনুরোধ করে বলে জানা গেছে। গ্যাসের দাম কম এবং সুযোগ- সুবিধার অভাবে অনেক কোম্পানি শেষ পর্যন্ত দরপ্রস্তাব জমা দেয়নি বলে পেট্রোবাংলার কর্মকর্তারা জানান। পার্শ্ববর্তী দেশ ভারত ও মিয়ানমারে প্রতি একক গ্যাস সাত ডলার। কিন্তু বাংলাদেশে বঙ্গোপসাগরে পাঁচ ডলার প্রস্তাব দেয়া হয়েছে।
বিদেশি যেসব কোম্পানি বঙ্গোপসাগরে তেল গ্যাস অনুসন্ধান করতে দরপত্রের প্রাথমিক তথ্য কিনেছিল কিন্তু প্রস্তাব জমা দেয়নি এগুলো হলো, আমেরিকান কোম্পানি শেল, শেভরন, এক্সনমবিল ও আইপিআর আনাদারকো পেট্রোলিয়াম, অস্ট্রেলীয় কোম্পানি সান্তোস ও কারনাভন, সিঙ্গাপুরের কৃশ এনার্জি, চীনের ন্যাশনাল অফশোর ওয়েল করপোরেশন (সিনুক), বাহরাইন পেট্রোলিয়াম কোম্পানি, নরওয়ের স্ট্যাটওয়েল, ইতালির এএনআই অয়েল গ্যাস ও ক্যারিবিয়ান কোম্পানি প্রিমিয়ার অয়েল।
এদিকে বঙ্গোপসাগরের গ্যাসের দাম বাড়ানোর চিন্তা করছে সরকার। গত বৃহস্পতিবার বিষয়টি নিয়ে পেট্রোবাংলা ও মন্ত্রণালয়ের মধ্যে একটি বৈঠক হয়েছে। প্রতি ইউনিট গ্যাসের দাম ছয় ডলার করার কথা ভাবা হচ্ছে।
এবারের খসড়া পিএসসিতে গ্যাসের দামে ২০০৮-এর তুলনায় বাড়ানো হয়েছিল। যাতে অগভীর সাগরে প্রতি হাজার ঘনফুট পাঁচ ডলার এবং গভীর সাগরে সাড়ে পাঁচ মার্কিন ডলার করা হয়।