যুদ্ধাপরাধীদের বিচারে শেখ হাসিনা চুল পরিমাণ বিচ্যুত হবেন না

বাংলাদেশ আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক এবং স্থানীয় সরকার পল্লী উন্নয়ন ও সমবায় মন্ত্রী সৈয়দ আশরাফুল ইসলাম বলেছেন, বর্তমান সরকারের কাজ হবে যুদ্ধাপরাধীদের বিচার কার্যক্রম শেষ করা এবং রায় বাস্তবায়ন করা। এই কাজ বাস্তবায়নের ক্ষেত্রে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা চুল পরিমাণ বিচ্যুত হবেন না। জাতির জনক বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান কোনো দিন দুই কথা বলেন নাই, তার কন্যা শেখ হাসিনাও যা বলেন তা বাস্তবায়ন করেই ছাড়েন। ঐতিহাসিক লালদীঘির ময়দানে গতকাল ১৪ দল চট্টগ্রাম আয়োজিত জনসভায় সৈয়দ আশরাফুল ইসলাম প্রধান অতিথির বক্তব্যে একথা বলেন। রাজনীতির নামে দেশব্যাপী বিএনপি-জামায়াতের সন্ত্রাস, নৈরাজ্য, হরতাল, জনসম্পদ ও রাষ্ট্রীয় সম্পদ ধ্বংস, পুলিশ ও নিরীহ মানুষ হত্যার প্রতিবাদে এই জনসভার আয়োজন করা হয়। জনসভায় সভাপতিত্ব করেন মহানগর আওয়ামী লীগের সভাপতি এবিএম মহিউদ্দিন চৌধুরী। এতে আরো বক্তব্য রাখেন সাম্যবাদী দলের নেতা শিল্পমন্ত্রী দীলিপ বড়ুয়া, ওয়ার্কার্স পার্টির সভাপতি রাশেদ খান মেনন এমপি, চট্টগ্রাম উত্তর জেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি ইঞ্জিনিয়ার মোশাররফ হোসেন এমপি, আওয়ামী লীগের কেন্দ্রীয় কার্যকরী কমিটির সদস্য আমিনুল ইসলাম এমপি, মহানগরী আওয়ামী লীগের নেতা নুরুল ইসলাম বিএসসি এমপি, জাসদ কার্যকরী সভাপতি মঈনুদ্দিন খান বাদল এমপি, সাবেক সংসদ সদস্য সুলতানুল কবির চৌধুরী, চট্টগ্রাম দক্ষিণ জেলা আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক মোসলেম উদ্দিন আহমদ, সাবেক রাষ্ট্রদূত নুরুল আলম চৌধুরী, চট্টগ্রাম মহানগরী আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক কাজী ইনামুল হক দানু, চট্টগ্রাম মহানগর আওয়ামী লীগ নেতা আ.জ.ম নাসির উদ্দিন ও উত্তর জেলা আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক ও চট্টগ্রাম জেলা পরিষদের প্রশাসক এমএ সালাম প্রমুখ। সৈয়দ আশরাফ আরো বলেন, শেখ হাসিনার নেতৃত্বাধীন ও বর্তমানে ক্ষমতাসীন মহাজোট সরকার আইন ও সংবিধানে বিশ্বাসী। মহাজোট সরকার যুদ্ধাপরাধীদের বিচার ও যুদ্ধাপরাধীদের দলকে বিচারের আওতায় আনার ক্ষেত্রে আইন ও সংবিধানকেই অনুসরণ করবে। তিনি শাহবাগ গণজাগরণ ও দেশের সকল অঞ্চল থেকে উঠা যুদ্ধাপরাধীদের বিচার ও শাস্তির দাবিকে জনগণের হূদয়ের একনিষ্ঠ দাবি আখ্যায়িত করে বলেন, জনগণ তাদের দাবি জানাতেই পারে। কিন্তু সরকারকে আইন ও সংবিধান মেনে চলতে হবে। তিনি জোর দিয়ে বলেন, বর্তমান সরকার আগামী ৯ মাস যুদ্ধাপরাধীদের বিচার সম্পন্ন ও তা বাস্তবায়নে প্রতিশ্রুতিবদ্ধ। তিনি সারাদেশে হরতালের নামে বিএনপি, জামায়াত ও শিবিরের পুলিশ হত্যা, বাসে-ট্রেনে আগুন দেয়াসহ চোরাগুপ্তা হামলার তীব্র নিন্দা করে বলেন, তারা এদেশের রাষ্ট্র ও প্রশাসন ধ্বংস করতে চায়। রাশেদ খান মেনন এমপি বলেন, সময় এসেছে, শাহবাগের দাবি জনগণের দাবি মেনে নিয়ে যুদ্ধাপরাধীদের বিচার, জামায়াত-শিবিরের রাজনীতি নিষিদ্ধ করতে হবে। তিনি বলেন, হেফাজতে ইসলাম আসলে হেফাজতে ইসলাম নাকি হেফাজতে জামায়াতে ইসলাম এ বিষয়টি আজ সবাইকে তা বুঝতে হবে। প্রধান বিরোধী দলীয় নেত্রী খালেদা জিয়ার উদ্দেশে তিনি বলেন, তিনি স্লিপার উপড়ে ফেলে ট্রেন দুর্ঘটনা ঘটিয়ে লাশ চেয়েছিলেন ক্ষমতায় যাওয়ার জন্য। কিন্তু তা হয়নি। সভাপতির বক্তব্যে এবিএম মহিউদ্দিন চৌধুরী হেফাজতে ইসলামের অপপ্রচার সম্পর্কে সবাইকে সতর্ক থাকার আহবান জানান। তিনি বলেন, অতীতে ঐ দলটির শ্রদ্ধেয় নেতা আল্লামা আহমেদ শফিকে তাদের কাজে সহযোগিতা দেয়া হয়েছে। কিন্তু তারা যদি এবার রাষ্ট্রবিরোধী ও স্বাধীনতার চেতনা বিরোধী কোনো কর্মসূচি দেয় তাহলে তাদের উচ্ছৃঙ্খলতা ঠেকাতে যথাযথ ব্যবস্থা নেয়া হবে। মহিউদ্দিন চৌধুরী আল্লামা শফিকে একজন শ্রদ্ধেয় ব্যক্তি আখ্যায়িত করে তার সামপ্রতিক কর্মসূচির বিষয়টি গভীরভাবে ভেবে দেখার আহবান জানান।