বিজ্ঞানী পিসি রায়ের বাসভবন ধ্বংসস্তূপে পরিণত
পাইকগাছা (খুলনা) সংবাদদাতা
প্রকাশ : ০৩ এপ্রিল ২০১৩, ২১:৪২
কপোতাক্ষ নদের পাড়ে অবস্থিত বিদ্যানুরাগী বিশ্বখ্যাত আচার্য প্রফুল্ল চন্দ্র রায়ের (পিসি রায়) বাসভবনটি প্রত্নতত্ত্ব বিভাগের অধীনে থাকলেও অযত্নে আর অবহেলায় তা ধ্বংসস্তূপে পরিণত হয়েছে। খুলনা জেলার পাইকগাছা উপজেলার রাড়ুলী গ্রামে কপোতাক্ষ নদের পাড়ে অবস্থিত স্যার পিসি রায়ের বাড়িটি জাতীয় জাদুঘর ও প্রত্নতত্ত্ব বিভাগের অধীনে ২০০২ সালে সরকার অধিগ্রহণ করে। সেই সময় প্রত্নতত্ত্ব বিভাগ বিজ্ঞানী পিসি রায়ের বাড়ির কিছুটা সংস্কারও করেছিল। বিজ্ঞানীর বাড়িতে লাইব্রেরী রয়েছে। সাধারণ মানুষ এবং ছাত্র-ছাত্রীরা প্রতিদিনই বই পড়ে। বিশ্ববিখ্যাত বিজ্ঞানিক স্যার পিসি রায় নিজ বাড়িতে ১৮৯৬ সালে স্ফটিকার পারদের নাইট্রোইট উত্পাদন করতে সক্ষম হন। এই আবিষ্কারই বিশ্বজুড়ে খ্যাতি এনে দেয়। জীবনের কর্মক্ষেত্র কোলকাতা হলেও জম্মস্থান রাড়ুলীর স্মৃতি মুহূর্তের জন্যও ভোলেননি। প্রতিবছর গ্রীষ্মের ছুটি কাটাতেন নিজ জম্মভূমি রাড়ুলী গ্রামে। বাগেরহাট পিসি কলেজ তার অন্যতম কীর্তি। খুলনা এপিসি বালিকা বিদ্যালয়, আরকে বিকে হরিশ চন্দ্র ইনস্টিটিউট,সাতক্ষীরা আশাশুনির চম্পাফুল পিসি স্কুল, পিসি প্রাথমিক বিদ্যলয়, তার নিজ বাড়িতে বালক ও বালিকা বিদ্যালয়সহ অনেক প্রতিষ্ঠান তিনি প্রতিষ্ঠা করেন। তারই প্রতিষ্ঠিত এপিসি বস্ত্রকল যা বর্তমানে খুলনা টেক্সটাইল মিলস নামে পরিচিত। কোলকাতায় মানিকতলায় প্রতিষ্ঠিত তার বেঙ্গল কেমিক্যাল অ্যান্ড ফার্মাসিউটিক্যাল ওয়ার্কস। দেশি গাছ-গাছড়া দিয়ে তিনি আবিষ্কার করেন বহু রকম ঔষধি পথ্য । অন্যদিকে সাবান, এসেন্স প্রসাধনী ও কালি তৈরি হতো। তার তত্ত্বাবধানে বস্ত্র পর্যন্ত তৈরি হতে থাকে। দেশের চাহিদা পূরণ করে বিদেশেও রপ্তানি করা হতো। ১৯২১ সালের দুর্ভিক্ষে তিনি বৃহত্তর খুলনার মানুষ অন্ন যুগিয়েছিলেন। খুলনার মানুষের স্মৃতিতে তিনি চির জাগরুক হয়ে আছেন। প্রতিবছর স্থানীয় সংগঠনগুলো পিসি রায়ের জম্ম ও মৃত্যুবার্ষিকী পালন করে থাকে।