সন্জীদা খাতুন :আশিতে পা দিয়েও তারুণ্যের মূর্ত প্রতীক
প্রকাশ : ০৩ এপ্রিল ২০১৩, ২২:২২
বয়স আশি ছুঁলেন তিনি। আশিতে পৌঁছেও বদলে যাননি। শরীরে বয়সের ছাপ কিন্তু মনে যেন এখনো তারুণ্যের প্রাণোচ্ছলতা। তিনি সন্জীদা খাতুন। শ্রদ্ধার সঙ্গে উচ্চারিত এক নাম। আজ তার আশিতম জন্মদিন। সন্জীদা খাতুন, আমাদের অভিনন্দন গ্রহণ করুন!
বাংলাদেশের অহংকার তিনি। শুধুই কী বাংলাদেশের? প্রতিটি বাঙালিরও কী নয়! বাঙালিত্বের বোধকে সকলের মাঝে ছড়িয়ে দেয়ার, আপন সংস্কৃতির শক্তিতে বিকশিত করার প্রেরণা যুগিয়ে চলেছেন সারা জীবন ধরে। তার চলায়, বলায়—অশিক্ষা, কূপমণ্ডূকতা দূর করে মানুষের মনে শিক্ষা ও সংস্কৃতির বাতিঘর জ্বালাতে নিরন্তর সাধনা করে চলেছেন। তিনি সন্জীদা খাতুন। নিরন্তর সাধনা আর লক্ষ্যে অবিচল থেকে এগিয়ে চলার ক্ষেত্রে অনুকরণীয় ব্যক্তিত্ব। দেশের সাংস্কৃতিক আন্দোলনের অন্যতম পথপ্রদর্শক। শক্ত হাতে হাল ধরে ছায়ানটকে নিয়ে এসেছেন এক অনুকরণীয় অবস্থানে। এখনো ছায়ানটের সভাপতির দায়িত্ব পালন করছেন। সাংগঠনিক দক্ষতার ক্ষেত্রে সৃষ্টি করেছেন দৃষ্টান্ত, পরিণত হয়েছেন প্রতিষ্ঠানতুল্য ব্যক্তিত্বে। দৈনিক ইত্তেফাককে দেয়া এক সাক্ষাত্কারে তিনি বলেছিলেন, ‘যখন দেখি চারদিকে বিশৃংখলা, ধর্ম নিয়ে হীনতা। যখন দেখি মানুষ মানুষকে সম্মান দেয় না। ধর্মের নামে মনুষত্বের অপমান করা হয়—তখন খুব কষ্ট পাই। সমাজ থেকে এসব দূর করতে হলে মন থেকে সত্ হবার চেষ্টা চাই সবার মাঝে।’
সন্জীদা খাতুন ১৯৩৩ সালের ৪ এপ্রিল ঢাকায় জন্মগ্রহণ করেন। তার পিতা বাংলাদেশের জাতীয় অধ্যাপক কাজী মোতাহার হোসেন। মাতা সাজেদা খাতুন। তিনি ১৯৫৪ সালে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় থেকে বাংলা ভাষা ও সাহিত্যে বিএ অনার্স করেন। ১৯৫৫ সালে বিশ্বভারতী থেকে বাংলা ভাষা সাহিত্যে প্রথম শ্রেণীতে এমএ পাস করেন। একই বিশ্ববিদ্যালয় থেকে ১৯৭৮ সালে তিনি ‘রবীন্দ্র সঙ্গীতের ভাবসম্পদ’ গবেষণাপত্রে পিএইচডি লাভ করেন। পরে ১৯৮৩-১৯৮৫ সাল পর্যন্ত পিএইচডি-উত্তর গবেষণা করেন। সন্জীদা খাতুন ১৯৫৭ সাল থেকে ভাষা ও সাহিত্য বিষয়ে অধ্যাপনা শুরু করেন। ১৯৯৪ সালে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের বাংলা বিভাগ থেকে প্রফেসর হিসেবে অবসর গ্রহণ করেন। দীর্ঘ জীবনে তিনি বিশ্বভারতী বিশ্ববিদ্যালয় প্রদত্ত ‘দেশিকোত্তম’ (ডি. লিট), পশ্চিমবঙ্গ রাজ্য সরকারের ‘রবীন্দ্রস্মৃতি পুরস্কার’, কলকাতার ‘টেগোর রিসার্চ ইনস্টিটিউট’ থেকে ‘রবীন্দ্রতত্ত্বাচার্য’ উপাধি, বাংলাদেশ সরকারের ‘একুশে পদক’, বেগম জেবুননেছা ও কাজী মাহবুবউল্লাহ জনকল্যাণ ট্রাস্টের স্বর্ণপদক ও সম্মাননা, ‘সা’দত আলী আখন্দ পুরস্কার’, ‘বাংলা একাডেমী সাহিত্য পুরস্কার’, ‘অনন্যা’ পুরস্কার, বাংলাদেশ এশিয়াটিক সোসাইটির সম্মানজনক ফেলোশিপ, বিজয় দিবস পদক, ২০০৯ বাংলা একাডেমীর রবীন্দ্র পুরস্কারসহ অসংখ্য পুরস্কার লাভ করেন। ১৯৮১ সালে প্রতিষ্ঠিত ‘জাতীয় রবীন্দ্র সঙ্গীত সম্মিলন পরিষদ’—এর প্রতিষ্ঠাতা সদস্য। এছাড়াও ‘নালন্দা’ বিদ্যালয়ের প্রতিষ্ঠাতা সভাপতি তিনি। তার বেশকিছু রবীন্দ্রনাথের এলবাম প্রকাশিত হয়েছে। তিনি একজন সফল লেখক। ‘কবি সত্যেন্দ্রনাথ দত্ত’, ‘রবীন্দ্র সঙ্গীতের ভাবসম্পদ’ ‘ধ্বনি থেকে কবিতা’, ‘অতীত দিনের স্মৃতি’, ‘তোমারি ঝরনাতলার নির্জনে’, ‘রবীন্দ্রনাথ: বিবিধ সন্ধান’, ‘কাজী মোতাহার হোসেন’, ‘রবীন্দ্রনাথের হাতে হাত রেখে’, ‘বাংলাদেশের সংস্কৃতির চড়াই-উত্রাইসহ বেশ গুরুত্বপূর্ণ গ্রন্থ রচনা করেছেন।
ছায়ানটে আজ অনুষ্ঠান
আজ ছায়ানটের প্রাণপ্রিয় এই মানুষটির জন্মদিন উপলক্ষে অনুষ্ঠানের আয়োজন করা হয়েছে। ছায়ানট সংস্কৃতি ভবনের প্রধান মিলনায়তনে সন্ধ্যা সাতটায় শুভেচ্ছা নিবেদন পর্বের আয়োজন করা হয়।