দাবিনামা পাওয়ার কথা অস্বীকার করলেন সাহারা খাতুন
প্রকাশ : ০৩ এপ্রিল ২০১৩, ২২:২৫
পিলখানা হত্যাযজ্ঞ মামলায় সাক্ষ্য দিতে গিয়ে সাবেক স্বারাষ্ট্রমন্ত্রী ও বর্তমান টেলিযোগাযোগ মন্ত্রী এডভোকেট সাহারা খাতুন বলেছেন, কোনো বিডিআর সদস্য দাবি-দাওয়া নিয়ে তার কাছে যায়নি। তার এপিএস-এর কাছে দাবিনামা বিডিআর সদস্যরা দিয়ে এসেছিল কি না তাও তার জানা নেই। বিদ্রোহ শুরুর পর সাহারা খাতুনের সঙ্গে কোনো ধরনের যোগাযোগ হয়নি তত্কালীন বিডিআর-এর মহাপরিচালক শাকিল আহমেদের। গতকাল বুধবার সকাল পৌনে ১০টার দিকে বকশি বাজারের উমেশ দত্ত রোডে স্থাপিত অস্থায়ী মহানগর দায়রা জজ আদালতে পিলখানা হত্যা মামলার বিচার কার্যক্রম শুরু হয়। চলে বিকাল সোয়া ৪টা পর্যন্ত। শুরুতেই সহারা খাতুন তার জবানবন্দি দেন।
সাহারা খাতুন সাক্ষ্য দিতে গিয়ে আদালতকে জানান, ২০০৯ সালের ২৫ ফেব্রুয়ারি সকাল সাড়ে ৯টার দিকে আত্মীয় নজরুলের মাধ্যমে সংবাদ পান পিলখানায় বিডিআর সদর দপ্তরে গোলাগুলি হচ্ছে। এর পর তিনি প্রধানমন্ত্রীর বাসভবন যমুনায় যান। জাহাঙ্গীর কবির নানক প্রধানমন্ত্রীর অনুমতি নিয়ে ডিএডি তৌহিদের নেতৃত্বে ১৩/১৪ জন বিডিআর প্রতিনিধিকে বিকাল সাড়ে ৩টার দিকে প্রধানমন্ত্রীর সরকারি বাসভবন যমুনায় নিয়ে আসেন। বিডিআরদের সঙ্গে আলোচনার পর রাত ১২টার দিকে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী, আইন প্রতিমন্ত্রী কামরুল ইসলাম, আইজি নূর মোহাম্মদ, গানম্যান জমির উদ্দিন এবং সাহারা খাতুনের ভাগ্নে সারোয়ার পিলখানার ভেতরে যান।
সাহারা খাতুন বলেন, ‘২৬ ফেব্রুয়ারি যখন অস্ত্রাগারে পর্যবেক্ষণ করতে যাই তখন আর্মস এবং গুলি যত্রতত্র ছড়িয়ে-ছিটিয়ে থাকতে দেখি। তখন আমি পুলিশ কমিশনার সাহেবকে সব বুঝে নিতে বলি। সন্ধ্যার পর ডিএডি তৌহিদ আমার হাতে এক গোছা চাবি বুঝিয়ে দিলে সে চাবি আমি কমিশনার সাহেবের নিকট বুঝিয়ে দেই। আমি সেই সাথে কমিশনার সাহেবকে মামলা করার জন্য নির্দেশ প্রদান করি এবং অস্ত্র গুলি মিলিয়ে নেবার জন্য বলি।’ জবানবন্দি শেষে তাকে জেরা করেন আসামি পক্ষের আইনজীবী শামীম সরদার। এক পর্যায়ে আইনজীবীর এক প্রশ্নের জবাবে সাহারা খাতুন বলেন, ‘আমি বর্তমানে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী নই।’ তখন আইনজীবী বলেন, ‘আমি তত্কালীন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীকে প্রশ্ন করছি।’ আইনজীবীর প্রশ্ন- ডিজি বিডিআর (নিহত শাকিল আহমেদ)-এর সঙ্গে ব্যক্তিগত জানা শোনা ছিল? সাহারার জবাব- ‘পরিচয় ছিল।’ আইনজীবীর প্রশ্ন -‘গোলাগুলির খবর পাওয়ার পর আপনি ডিজির সঙ্গে যোগাযোগের চেষ্টা করেছিলেন?’ সাহারার জবাব- ‘না আমার সঙ্গে যোগাযোগ হয়নি’। আইনজীবীর প্রশ্ন- ‘পিলখানার উপরে হেলিকপ্টার থেকে বৃষ্টির মতো গুলি করা হয়েছিল, শুনেছিলেন? সাহারার জবাব- ‘জানা নেই।’ আইনজীবীর প্রশ্ন- ‘হেলিকপ্টার থেকে বিডিআর-এর পোশাক পরা সাধারণ বিডিআর মনে করে গুলি করে কর্মকর্তাদের হত্যা করেছিল?’ সাহারা খাতুনের জবাব- ‘এটা সত্য নয়।’
গতকাল মামলার বিচার কার্যক্রম শুরু হওয়ার আগে আসামিরা হট্টগোল শুরু করে। তারা উপস্থিত আইনজীবীদের জানান, মামলা সংক্রান্ত বক্তব্য লিখিত আকারে আনতে তাদের আইনজীবীদের মৌখিক নির্দেশ দিয়েছিলেন আদালত; কিন্তু তারা তাদের বক্তব্য লিখে আনার সময় কারা কর্তৃপক্ষ তা আনতে না দিয়ে ছিঁড়ে ফেলে। এ বিষয়ে জানতে চাইলে রাষ্ট্রপক্ষের আইনজীবী মোশাররফ হোসেন কাজল সাংবাদিকদের জানান, বিষয়টি নিয়ে কারা কর্মকর্তাদের সঙ্গে তিনি কথা বলেছেন।
উল্লেখ্য, ২০০৯ সালের ২৫-২৬ ফেব্রুয়ারি রাজধানীর পিলখানায় বিডিআর সদর দফতরে সাবেক বিডিআর জওয়ানরা ৫৭ জন সেনা কর্মকর্তাসহ ৭৪ জনকে হত্যা করে। এ ঘটনায় লালবাগ থানার অফিসার ইনচার্জ পুলিশের পরিদর্শক নবজ্যোতি খীসা প্রথমে লালবাগ থানায় এবং পরে নিউমার্কেট থানায় মামলা করেন।