ব্লগার আসিফ মহিউদ্দিন গ্রেফতার

এবার আসিফ মহীউদ্দিন নামে আরেক ব্লগারকে গ্রেফতার করেছে গোয়েন্দা পুলিশ (ডিবি)। এদিকে গ্রেফতারকৃত ব্লগারদের মুক্তির দাবিতে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রতিবাদ বিক্ষোভ অব্যাহত রেখেছেন শিক্ষক-শিক্ষার্থীরা। তারা গ্রেফতারকৃত ব্লগারদের অবিলম্বে মুক্তি দাবি করেন। ঢাকা মেট্রোপলিটন পুলিশের মিডিয়া এন্ড পাবলিক রিলেশন শাখার উপ-পুলিশ কমিশনার মাসুদুর রহমান ইত্তেফাককে জানান, সেগুনবাগিচায় বোনের বাসা থেকে গতকাল বুধবার সকালে আসিফ মহীউদ্দিনকে গ্রেফতার করা হয়েছে। তবে আসিফের বড় বোন ইডেন কলেজের বাংলা বিভাগের সহযোগী অধ্যাপক ড. জাহিদা মেহেরুননেছা ইত্তেফাককে বলেন, সকালে গোয়েন্দা পুলিশ সেগুনবাগিচায় তার বোন জুয়েলা জেবুন্নেছার বাসায় যায়। তারা আসিফকে গ্রেফতার করবে বলে জানায়। তখন জুয়েলা পুলিশকে জানায়, তার ভাই বাসাতেই আছে। সে অসুস্থ। পালিয়ে যাবে না। তাকে গ্রেফতার না করতে অনুরোধ করেন। কিন্তু পুলিশ তাকে গ্রেফতার করবেই বলে জানালে জুয়েলা পুলিশকে বলেন, আপনারা চলে যান। তিনি নিজেই ডিবি কার্যালয়ে ভাইকে পৌঁছে দেবেন। এরপর পুলিশ চলে গেছে। সকাল সাড়ে ১১টার দিকে জুয়েলা তার নিজের গাড়িতে করেই ভাইকে ডিবি কার্যালয়ে নিয়ে যান। গত ১৪ জানুয়ারি হামলার শিকার হওয়ার পর থেকে জুয়েলার বাসাতেই থাকছিলেন আসিফ মহীউদ্দিন। ‘নাস্তিক ব্লগারদের’ শাস্তি দাবিতে হেফাজতে ইসলামের ঢাকা অভিমুখে লংমার্চের দু’দিন আগে ব্লগার আসিফ মহীউদ্দিনকে গ্রেফতার করা হল। এর আগে সোমবার রাতে গ্রেফতার করা হয় তিন ব্লগার সুব্রত অধিকারী শুভ, মশিউর রহমান বিপ্লব ও রাসেল পারভেজকে। এদের সবাইকে ৭ দিনের রিমান্ডে নিয়ে জিজ্ঞাসাবাদ করছে গোয়েন্দা পুলিশ। ব্লগে লেখালেখিকে কেন্দ্র করে ২০১১ সালের ১ অক্টোবর আসিফকে ১৮ ঘণ্টা আটকে রেখেছিল গোয়েন্দা পুলিশ। পরে ‘লেখালেখি বন্ধ করার পরামর্শ দিয়ে’ মুচলেকা নিয়ে তাকে ছেড়ে দেয়া হয়। ব্লগে লেখালেখির জন্য হামলার মুখেও পড়তে হয়েছিল আসিফকে। গত ১৪ জানুয়ারি রাতে উত্তরায় তার ওপর হামলা হয়। ছুরিকাঘাতে গুরুতর জখম হন তিনি। বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয় এইউআইবিতে কম্পিউটার ইঞ্জিনিয়ারিংয়ে ডিগ্রি নেয়া আসিফ একটি তথ্যপ্রযুক্তি প্রতিষ্ঠানে কাজ করতেন। হামলার শিকার হওয়ার পর তিনি আর ওই চাকরিতে যোগ দেননি। গত সোমবার আসিফকে হত্যা চেষ্টার মামলায় চার যুবককে গ্রেফতার করে গোয়েন্দা পুলিশ। গ্রেফতারের পর ওই চারজন স্বীকার করেছেন, লেখালেখির কারণে ধর্মান্ধ ও উগ্রপন্থী একজনের নির্দেশনায় হত্যার জন্য আসিফের ওপর তারা হামলা চালিয়েছিল।