মঞ্চনাটক

প্রাচ্যনাটের পনেরো বছরপূর্তি উত্সব

১৯৯৭ সালের ২১ ফেব্রুয়ারি যাত্রা শুরু করে ‘প্রাচ্যনাট’ পনেরো বছর পূর্ণ করে ২০১২ সালে। এ উপলক্ষে ‘প্রাচ্যনাট’ হাতে নেয় বছরব্যাপী নানা অনুষ্ঠান। এরই অংশ হিসেবে ২০১২ সালের ২১ ফেব্রুয়ারি থেকে নাট্যসংগঠনটি শুরু করেছে ‘অন্দরযাত্রা, পথনাট্যোত্সব, নাট্যকর্মশালা’সহ নানা অনুষ্ঠান। গত ২১ থেকে ২৬ মার্চ শিল্পকলা একাডেমীতে হয়ে গেল ছয়দিনব্যাপী ‘প্রাচ্যনাট নাট্যমেলা-২০১৩’। মেলার প্রথম দিন ২১ মার্চ সন্ধ্যায় নাট্যকর্মী ও বিদেশি বন্ধুদের সম্মাননা প্রদান শেষে শুরু হয় নাটক, ‘দ্য টেম্পেস্ট’। উইলিয়াম শেক্সপিয়রের এ নাটকটি প্রয়োজনা করেছে ঢাকা থিয়েটার। এটি অনুবাদ করেছেন রুবাইয়াত্ আহমেদ; বাংলা নাট্যরীতির আঙ্গিকে নির্দেশনা দিয়েছেন নাসির উদ্দিন ইউসুফ বাচ্চু। স্থান— জাতীয় নাট্যশালার মূল থিয়েটার হল। ২২ মার্চ মেলার দ্বিতীয় দিন তিনটি নাটক প্রদর্শীত হয়। বেলা ১১টায় পরীক্ষণ থিয়েটার হলে প্রদর্শিত হয় ইউজিন ও’নিলের ‘দ্য হেয়ারি এপ’। অনুবাদ করেছেন খুররাম হোসেন; নির্দেশনায় বাকার বকুল। সন্ধ্যা ৭টায় জাতীয় নাট্যশালার মূল থিয়েটার হলে প্রদর্শীত হয় রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের ‘রক্তকরবী’; প্রযোজনা নাগরিক নাট্য সমপ্রদায়; নির্দেশনায় আতাউর রহমান। একই সময় পরীক্ষণ থিয়েটার হলে ‘আরণ্যক’ নাট্যদলের প্রয়োজনায় প্রদর্শীত হয় নাটক ‘ইবলিশ’। নাটকটির রচনা ও নির্দেশানায় মামুনুর রশীদ। ২৩ মার্চ সন্ধ্যা ৭টায় পরিবেশিত হয় দুটি নাটক। জাতীয় নাট্যশালায় মূল থিয়েটার হলে অনুবাদ নাটক ‘অ্যা ম্যান ফর অল সিজনস’; প্রযোজনায় প্রাচ্যনাট। মূল রচয়িতা রবাট বোল্ট; অনুবাদ শাহেদ ইকবাল। নাটকটির নির্দেশনা দিয়েছেন আজাদ আবুল কালাম। পরীক্ষণ থিয়েটার হলে প্রদর্শীত হয় অনুবাদ নাটক ‘কোর্ট মার্শাল’। নাটকটির মূল রচয়িতা স্বদেশ দীপক, অনুবাদে সলিল চৌধুরী এবং রূপান্তর ও নির্দেশনায় এস এম সোলায়মান। প্রযোজনা করেছে থিয়েটার আর্ট ইউনিট। ২৪ মার্চ মেলার ৪র্থ দিন। এদিন সন্ধ্যা ৭টায় জাতীয় নাট্যশালায় প্রদর্শীত হয় অনুবাদ নাটক ‘দুই যে ছিল এক চাকর’; রচয়িতা কার্লো গলদোনি, অনুবাদ ও নির্দেশনায় তারিক আনাম খান। নাটকটি প্রযোজনা করেছে নাট্যকেন্দ্র। পরীক্ষণ হলে প্রদর্শীত হয় ‘আওরঙ্গজেব’। প্রযোজনা প্রাঙ্গণেমোর, রচনা মুহিত চট্টপাধ্যায় এবং নির্দেশনা দিয়েছেন অনন্ত হীরা। ২৫ মার্চ মূল থিয়েটার হলে সন্ধ্যা ৭টায় প্রয়াত আব্দুল্লাহ আল মামুনের নির্দেশনা অনুযায়ী প্রদর্শীত হয় মুক্তিযুদ্ধভিত্তিক নাটক ‘পায়ের আওয়াজ পাওয়া যায়’। এটি রচনা করেছেন সৈয়দ শামসুল হক। নব নির্মাণে নাটকটির নির্দেশক সুদীপ চক্রবর্তী; প্রযোজনা করেছে থিয়েটার। পরীক্ষণ হলে প্রদর্শীত হয় ‘মহাজনের নাও’। রচনায় শাকুর মজিদ, নির্দেশনায় সুদীপ চক্রবর্তী আর প্রযোজনায় সুবচন নাট্য সংসদ। ২৬ মার্চ মেলার সন্ধ্যায় প্রদর্শীত হয় একটি নাটক—রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের ‘রাজা এবং অন্যান্য’। নির্দেশনায় আজাদ আবুল কালাম এবং প্রযোজনায় প্রাচ্যনাট। এ ছাড়া নাট্যমেলার উদ্বোধনী দিন থেকেই প্রতিদিন বিকেল পাঁচটায় শিল্পকলায় জাতীয় নাট্যশালার বাইরে খোলা জায়গায় প্রাচ্যনাট আয়োজন করে মিলিত সঙ্গীতও পারফরম্যান্স আর্ট। এ অনুষ্ঠানের প্রথম দিন মিলিত সঙ্গীতে অংশ নেয়- সি.এম.এ অর্কেষ্টা এবং পারফর্মিং আর্টে-সঞ্জয় চ্ক্রবর্তী। দ্বিতীয়, চতুর্থ ও শেষ দিন অংশ নেয় ‘প্রাচ্যনাট’ এবং পারফর্মিং আর্টে অংশ নেন যথাক্রমে সালেহ মাহমুদ, মো. হারুন-অর-রশীদ টুটুল, তেজস হালদার জস ও ভোমরা (প্রাচ্যনাট ল্যাব)। পঞ্চম দিন মিলিত সঙ্গীত আয়োজনে অংশ নেয় ‘স্পর্শ ক্লাসিক্যাল ইনস্ট্রুমেন্টাল অর্কেস্ট্রা’ এবং পারফর্মিং আর্টে অংশ নেন ফারাহ নাজ মুন। ২৫ মার্চ বিকাল চারটায় ছিল প্রাচ্যনাটের নিয়মিত প্রযোজনা ‘লালযাত্রা’। এবারের ‘লালযাত্রা’ প্রতিবারের মতো শুরু হয় চারুকলার সামনের ছবির হাট থেকে। কিন্তু প্রতিবারের মতো অপরাজেয় বাংলায় শেষ না হয়ে এটি যুদ্ধোপরাধীদের বিচারে দাবির সাথে একত্মা ঘোষণা করে দেশের গান আর বাদ্যের তালে শাহবাগের প্রজন্ম চত্বর হয়ে শিল্পকলা একাডেমী প্রাঙ্গণে মোমবাতি প্রজ্বালনের মাধ্যমে শেষ হয়।